খুলনা | শনিবার | ০৬ জুন ২০২৬ | ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

হাদি হত্যা মামলায় জাবের কেন বাদী? প্রশ্ন বোনের

খবর প্রতিবেদন |
০৬:২৭ পি.এম | ০৫ জুন ২০২৬

 

শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার বাদী ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের কেনো তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তার বোন মাসুমা হাদি। তার অভিযোগ, হাদি হত্যা মামলার বাদী নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘নোংরামি’ ও ‘মিথ্যাচার’ চলছে।

শুক্রবার (৫ জুন) সকাল ১১টার দিকে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে সে সময়ের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেছেন তিনি। মামলার বাদীর স্বাক্ষর নেওয়া নিয়ে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।  

মাসুমা হাদি লিখেছেন, আমি আমার ভাইয়ের মামলার বাদী নিয়ে কিছুই বলতে চাচ্ছিলাম না। কারণ এর চেয়েও অনেক ভয়ংকর ষড়যন্ত্র চালিয়েছে আমাদের পরিবারের বিরুদ্ধে।

সেই বিষয়েও এখন অব্দি আমি মুখ খুলিনি। শুধুমাত্র আমার ভাইয়ের জন্য। আমি মুখ খুললে সবার একটাই প্রশ্ন সামনে আসবে যে, আমার ভাইয়ের আশেপাশে যারা থাকে, তার পরিবারেকে নিয়ে এই ভয়ংকর ষড়যন্ত্রে কীভাবে লিপ্ত হতে পারে। কিন্তু দুই দিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় আমার ভাইয়ের মামলার বাদী হওয়া নিয়ে যে পরিমাণ নোংরামি হচ্ছে বাধ্য হয়ে আজকে সম্পূর্ণ বিষয়টা পরিষ্কার করলাম।

ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার দিনের ঘটনা বর্ণনা করে তিনি লেখেন, আমার ভাই যেদিন গুলিবিদ্ধ হলো, সেই সংবাদ শোনা মাত্র আমি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেই, এবং সরাসরি এভার কেয়ার হাসপাতালে চলে যাই। হাসপাতালে যাওয়ার পর থেকে এক মিনিটের জন্য আমি হাসপাতাল ছেড়ে বাসায় যাওয়া তো দূরের কথা ওসমান গণিকে (শরীফ ওসমান হাদি) ছেড়ে ১ মিনিটের জন্য আমি নিচতলায় পর্যন্ত যাইনি।

তিনি প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রেখে বলেন, এখন আমার প্রশ্ন প্রশাসনের লোক এভার কেয়ারে এসে জাবেরের কাছ থেকে সাইন নিল কেন? আর আমি উপস্থিত থাকাকালীন জাবের সাইন দিবে কেন? এ নিয়ে আমি বহুবার প্রশ্ন করেছি। আমাকে বুঝানো হয়, যে ওমরের (ওসমান হাদির ভাই) কাছে নাকি গিয়েছিল, ওমর বলছে এখন আমারা চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত। চিকিৎসা সম্পন্ন হলে এই বিষয়গুলো দেখা যাবে।

চিকিৎসা ব্যতীত এই মুহূর্তে আর কিছু ভাবতে পারছিনা। উল্লেখ্য যে, এ ধরনের অতি গুরুত্বপূর্ণ ফৌজদারী মামলায় বাদীর ঘরে স্বাক্ষর আগে-পরে করা নিয়ে কোন আইনি জটিলতা নেই। এমনকি বাদীপক্ষ থানায় মামলা না করলেও পুলিশ উক্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে সকল প্রকার আইনি কার্যক্রম চালাতে পারে।  

তিনি আরও বলেন, আমি জানতে চাই, ঐ মুহূর্তে ওমরের মানসিক অবস্থা যে, কী সেটা সবারই অনুভব করার কথা। ওসমান গণির রক্তে ওমর ফারুক রক্তাক্ত ছিল। কারণ একই রিক্সায় দুই ভাই। বুলেট যদি আর একটা বের হতো ওমর হাদিও ওখানেই আমার ওসমান গণির মতো হয়ে যেতো। ওমরের গায়ে পোশাকে এমনকি ওর হাতে যে ঘড়িটা ছিল সেটিতেও ওসমান গণির রক্তের দাগ শুকিয়ে ছিল। ওসমান গণিরে যেদিন সিঙ্গাপুর নিবে সেই দিন সকালে ওমর এভার কেয়ারে বসে গোসল করে এবং ঘড়িতে যে রক্তের দাগ ছিল তা পরিষ্কার করে।

তিনি বলেন, মামলার বাদীর ব্যাপারে কার কাছে বলছে, কে বলছে যে, আমরা নিরাপত্তার জন্য বাদী হতে চাই না। এটা পরিষ্কার করতে হবে। জাবের যদি আমার নলছিটির ছেলে না হতো, তা কোন প্রশ্ন ছিল না। কারণ আমার ওসমান গণির সাথে যারা দীর্ঘ দিন চলাফেরা করছে, এমন কোনো লোক নাই যারা জানে না ওসমান গণির জীবনে তার ছোট আপু কতটা জড়িয়ে।এবং তার ছোট আপু ওসমান গণির জন্য জীবন দিতে এক সেকেন্ড চিন্তা করে না। সেই ছোট আপুর কাছে না এসে কার অনুমতি নিয়ে জাবের মামলার বাদী হলো, এটা পরিষ্কার করতে হবে।  

তিনি আরও বলেন, এখন আসি চিকিৎসার ব্যাপারে কিছু বলতে। আমার ভাই যখন এভার কেয়ারে তখন অনেকেই আমার ভাইয়ের চিকিৎসার দায়িত্ব নিতে চেয়েছেন। আমরা পারিবারিক ভাবে কেউ তাতে সম্মতি জানাইনি। আমার ওসমান গণিকে দেশের বাহিরে নেওয়ার জন্য সর্বপ্রথম ওমর ফারুক ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগ নেয় এবং ওসমান হাদির সকল মেডিকেলের ডকুমেন্ট প্রথমে সিঙ্গাপুর পাঠায়, সিঙ্গাপুর থেকে তারা রিজেক্ট করে দেয়। এরপর ওমর থাইল্যান্ডে মেডিকেলের ডকুমেন্ট পাঠালে তারা গ্রহণ করে। ওমর একান্ত ব্যক্তিগত অর্থায়নে থাইল্যান্ডের জন্য ৫২ লাখ টাকা দিয়ে টিকিট কেটে আনে এবং আমার সামনে এসে দাড়িয়ে টিকিট দেখিয়ে বলে, আর কাঁদিস না, চিকিৎসার অভাবে ওসমান গণিরে আমরা হারাইতে দিব না। আল্লাহ যদি হায়াত রাখে ওসমান গণি ফিরে আসবে। চিকিৎসার কোন ত্রুটি রাখব না। ওমরের এই সিদ্ধান্ত সরকার জানার পরে সরকার ওসমান গণির চিকিৎসার দায়িত্ব নেয় এবং সরকার দ্বিতীয় দফায় ওসমান গণির মেডিকেলের কাগজপত্র সিঙ্গাপুর পাঠালে তারা গ্রহণ করে এবং ওসমান গনিকে সিঙ্গাপুর নেয়া হয়। আর আমি ওসমান গণির সাথে এভার কেয়ার থেকে এই প্রথম বের হই।      

তিনি বলেন, আমি এগুলো কিছুই কাউকে জানাতে চাইনি। কারণ আমার জন্য ওসমান গণিকে হারিয়ে বেঁচে থাকা কত কঠিন হয়ে যাচ্ছে সেটা আল্লাহ ছাড়া দুনিয়ার বুকে কারো বোঝা সহজ নয়। কিন্তু বাধ্য হলাম এইজন্য যে, একজন বিপ্লবীকে সম্মান করতে হলে তার পরিবারকে নিয়ে কীভাবে এত মিথ্যাচার করা যায়। সম্মান করতে নাই পারেন, কিন্তু কিছু না জেনে অসম্মান করার অধিকার কোথায় পেলেন।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ