খুলনা | শনিবার | ০৬ জুন ২০২৬ | ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

হান্নান মাসউদের বিরুদ্ধে ‘কোটি টাকা ডিলের’ অভিযোগ তোলা ছাত্রদল নেতার বাড়িতে হামলা

খবর প্রতিবেদন |
০১:৪৪ এ.এম | ০৬ জুন ২০২৬


নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের এক নেতার বাড়িতে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগী ছাত্রদল নেতার অভিযোগ, নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদের বিরুদ্ধে কথা বলায় এনসিপি নেতারা তাঁর বাড়িতে হামলা চালিয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাত পৌনে নয়টার দিকে উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাগরিয়া বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ওই ছাত্রদল নেতার নাম আবদুল গাফফার ওরফে জিসান। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহŸায়ক কমিটির সদস্য। তাঁর বাড়িতে হামলার পর রাতে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা এলাকায় বিক্ষোভ করেন।
৩ জুন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া একটি পোস্ট দিয়ে গণঅধিকার পরিষদ থেকে বিএনপিতে যোগ দেওয়া রাশেদ খাঁন অভিযোগ তোলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন আবদুল হান্নান মাসউদ। আওয়ামী লীগের এক সংসদ সদস্যকে (সাবেক) টাকার বিনিময়ে বিমানবন্দর পর্যন্ত পৌঁছে দিতে চেয়েছিলেন তিনি। ছাত্রদল নেতা আবদুল গাফফার এ সময় হান্নান মাসউদের সঙ্গেই থাকতেন। আবদুল হান্নান মাসউদ আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে এক বৈঠকের পর আবদুল গাফফারকে বলেন, ‘ভাই, ওরা ১ কোটি দিতে চায়, আপনি ৩ কোটিতে ডিল করেন।’
রাশেদ খাঁনের দেওয়া পোস্টটি ওই দিনই নিজের ফেসবুক আইডিতে শেয়ার করেন আবদুল গাফফার। এরপর আবদুল হান্নান মাসউদও তাঁর ফেসবুক আইডিতে গাফফারের সঙ্গে মুঠোফোনে কথোপকথনের একটি রেকর্ড পোস্ট করেন। সেখানে গাফফারকে উদ্দেশ্য করে কেন তাঁর বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা অভিযোগ’ তোলা হয়েছে জানতে চান হান্নান মাসউদ। জবাবের একপর্যায়ে এর জন্য ক্ষমা চান গাফফার।
এদিকে আবদুল হান্নান মাসউদের পোস্টের পর আবদুল গাফফারের আরেকটি ভিডিও ফেসবুকে আপলোড করেন রাশেদ খাঁন। এতে গাফফার দাবি করেন, সান্ত¡না দিতে গিয়েই তিনি আবদুল হান্নান মাসউদকে ফোন দিয়েছিলেন। আবদুল হান্নান মাসউদের ‘তিন কোটি টাকায় ডিল করতে’ চাওয়ার ঘটনাটি সম্পূর্ণ সত্য। তবে গাফফার এ বিষয়ে রাজি না হওয়ায় ‘ডিলটি’ হয়নি।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাল্টাপাল্টি অভিযোগের পর গণকাল রাত পৌনে নয়টার দিকে একদল লোক আবদুল গাফফারের গ্রামের বাড়ি লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন। তাঁর ঘরের জানালার কাচ ভাঙচুর করা হয়। এ সময় বাড়ির লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বাড়ির লোকজনের চিৎকার শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা চলে যান।
এ ঘটনায় পর নিজের ফেসবুক আইডিতে আবদুল গাফ্ফার অভিযোগ করেন, নোয়াখালী-৪ আসনে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরীর কাছে হান্নান মাসউদের তিন কোটি টাকা চাওয়ার ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসায় তাঁর গ্রামের বাড়িতে এনসিপির কর্মীরা হামলা চালিয়েছেন। এর আগে দিনভর অনলাইনে তাঁকে নানা হুমকি দেওয়া হয়েছে। আবদুল গাফফার বলেন, ‘আমি বাড়িতে থাকি না। বাড়িতে থাকেন আমার বৃদ্ধ বাবা-মা। কী দোষ ছিল আমার বাবা-মায়ের?’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এনসিপির হাতিয়া উপজেলা শাখার আহŸায়ক মোঃ সামছু তিব্রিজ বলেন, ‘এনসিপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ছাত্রনেতা আবদুল গাফফার কীভাবে নিশ্চিত হলেন এনসিপির কর্মীরা তাঁদের বাড়িতে হামলা করেছে? আসলে তিনিই ঢাকায় বসে ওই হামলার নাটক সাজিয়েছেন, নিজের অপরাধ ঢাকার জন্য।’ সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদের অনুরোধে রাতে দলীয় নেতাদের নিয়ে তিনি ওই বাড়িতে গিয়ে সহমর্মিতা জানিয়ে এসেছেন বলে জানান এনসিপি নেতা সামছু তিব্রিজ।
কোটি টাকা আদায় করতে চাওয়ার অভিযোগ সত্য নয় বলে জানান নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ। তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। সামনে সংসদের অধিবেশন শুরু হবে। সেখানে আমাদের চাপে রাখার লক্ষ্যে, হীন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এসব কিছু করা হচ্ছে। তাঁর (আবদুল গাফফার) কথা যদি সঠিক হয়ে থাকে, তাহলে তিনি আমাকে ফোন করে ক্ষমা চাইলেন কেন? এগুলো সবই হলো তাঁদের নাটক।’
হাতিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ কবির হোসেন বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ছাত্রদল নেতা গাফফারের বাবা এ কে এম মোছলেহ উদ্দিনকে এ বিষয়ে থানায় লিখিণ অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ