খুলনা | শনিবার | ০৬ জুন ২০২৬ | ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

এবার লোকসভাতেও ভাঙনের পথে মমতার তৃণমূল

খবর প্রতিবেদন |
০১:৪৮ এ.এম | ০৬ জুন ২০২৬


বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর তৃণমূল কংগ্রেসে ভাঙন দেখা গেছে। ইতোমধ্যে ৬০ জন বিধায়ক বিদ্রোহ করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলে ভিড়েছেন। বতর্মান দল ছেড়ে তার গড়া ‘নতুন তৃণম‚ল কংগ্রেসে’ আরও অনেক নেতাই যোগ দেবেন বলে গুঞ্জন রটেছে। কেউ কেউ বিজেপির হালে ভিড়তে চাইছেন। শুধু তাই নয়, বিধানসভায় ভাঙনের পর এবার লোকসভাতেও তৃণম‚ল কংগ্রেসের বিধায়কদের মধ্যে ফাটলের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের এমপি কাকলি ঘোষ দস্তিদারও অনেক আগেই মত বদলিয়েছেন। লোকসভার চিফ হুইপ পদ থেকে তাকে সরিয়ে সম্প্রতি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে আসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এরপরেই দলের সব পদ ছেড়েছেন কাকলি। বিজেপির দিকে ঝুঁকেছেন অনেকটা। তবে নারদা ঘুষ কেলেঙ্কারির জেরে বিজেপি তাকে দলে না ভেড়ালে তিনি হতে পারেন লোকসভার বিদ্রোহী গোষ্ঠী ‘নতুন তৃণমূল কংগ্রেসের’ অন্যতম হেভিওয়েট। শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ট্যাটাস দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নীতি ও তার নেতৃত্বে চলা শাসন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে তীর্যক মন্তব্য করেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার।
পোস্টে লিখেছেন, ‘আপনি কী মনে করেন একটি রাজনৈতিক পরিবারের চারবারের সংসদ সদস্য, যিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত থেকে চার দশক ধরে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন, তিনি নিজের স্বার্থের কথা ভাবেন?’
তারপরেই কাকলি ইঙ্গিতপূর্ণভাবে লেখেন, ‘এটা আসলে নীতির বিরুদ্ধে এবং শাসন ব্যবস্থার ব্যর্থতার বিরুদ্ধে দেওয়া একটি রায়’।
ভারতের সংসদের উচ্চকক্ষের (রাজ্যসভা) আরেক সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায় প্রকাশ্যে বলেছেন যে, অনেক সাংসদ তৃণমূল ছেড়ে দল বড় দল করার পথে।
তিনি বলেন, ‘এত দ্রুত যে বিধানসভাতে ৬০ জন বিধায়ক চলে যাবেন, এটা আমি কখনও দেখিনি। আমি যেটা বলছি, লোকসভাতেও একই প্রতিক্রিয়া হতে চলেছে। আমাকে এমন কিছু লোকসভার সদস্য, আমার কলিগ বলেছেন যে তারা প্রস্তুত। তাতে আমার মনে হচ্ছে, এটা খুব তাড়াতাড়ি ঘটতে চলেছে লোকসভাতে।’
লোকসভা ও রাজ্যসভার ৪২ জন তৃণমূল সাংসদদের মধ্যে কতজন দল ছাড়তে পারেন? বর্তমানে লোকসভায় তৃণমূলের ২৯ জন সাংসদ রয়েছেন, যেখানে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সংসদীয় দলের নেতা।
সূত্রের খবর, যদি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সাংসদ (সম্ভবত ২০ জন বা তারও বেশি) বিদ্রোহী শিবিরের পাশে দাঁড়ান, তাহলে সংসদীয় নেতৃত্ব পরিবর্তনের দাবি জোরদার হতে পারে। সব হিসাব কার্যত মিলিয়ে দিয়ে ২০ জন তৃণমূল সাংসদ প্রায় দলছুট। এই সাংসদরা বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলছেন।
কট্টর মমতাপন্থি হিসেবে পরিচিত কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন, ‘এখন কোনো কিছুই বুঝতে পারছি না। সব হিসেব গুলিয়ে গেছে। যতক্ষণ যা না হবে, ততক্ষণ কিছু বলতে পারব না।’

প্রিন্ট

আরও সংবাদ