খুলনা | রবিবার | ০৭ জুন ২০২৬ | ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

নব্বই বছরের শিক্ষকের (অবঃ) বিরুদ্ধে অভিযোগ, শুনানীর জন্য নাতিকে ডাকা হয়েছে থানায়

চিতলমারী প্রতিনিধি |
০২:৫৫ পি.এম | ০৬ জুন ২০২৬


নব্বই বছর বয়সের বৃদ্ধ অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শৈলেন্দ্র নাথ সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষ অভিযোগ করেছে। এ অভিযোগের ভিত্তিতে শুনানীর জন্য তাঁর নাতি কলেজ ছাত্র জয় সরকারকে (২২) থানায় ডাকা হয়েছে। তবে অসুস্থ্য শিক্ষক শৈলেন্দ্র নাথ সরকার তাঁর বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করে করেছেন। রোববার (৭ জুন) বিকেলে বাগেরহাটের চিতলমারী থানার গোলঘরে তাঁর বিরুদ্ধে করা অভিযোগের শুনানী হওয়ার কথা রয়েছে।

শনিবার (৬ জুন) দুপুরে শৈলেন্দ্র নাথ সরকারের নাতি জয় সরকার সাংবাদিকদের জানান, তার দাদু ২৬ বছর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকুরী করেছেন। বর্তমান তার বয়স ৯০ বছর। এখন তিনি একা চলাফেরা করতে পারেন না। কানেও কম শোনেন। উপজেলার চরবানিয়ারী ইউনিয়নের রানাপাড়া গ্রামে তারা বসবাস করেন। কিন্তু সম্প্রতি প্রতিবেশী দিনেশ রায় (৫৫) তার দাদুর নামে থানায় একটি মিথ্যা অভিযোগ করেছেন। দাদু নাকি ২০ বছর আগে দীনেশ রায়ের কাছ থেকে জমি বিক্রির কথা বলে টাকা নিয়েছেন। কিন্তু অভিযোগের স্বপক্ষে দীনেশ রায় কোন স্বাক্ষী প্রমান দেখাতে পারেন নাই। এই অভিযোগের ভিত্তিতে চিতলমারী থানার এএসআই সজল কুমার রায় তাদের বাড়িতে গিয়ে শুনানীর জন্য ৭ জুন বিকেলে থানার গোলঘরে হাজির হতে বলেছেন।      

অসুস্থ্য শিক্ষক শৈলেন্দ্র নাথ সরকার কাঁপাকাঁপা গলায় বলেন, ‘বিশ বছর আগে আমি প্রতিবেশী দীনেশ রায়ের কাছে ৭ হাজার টাকায় ১৮ কাঠা জমি বন্ধক রেখেছিলাম। ২০১১ সালে এলাকার গন্যমান্য ব্যাক্তিরা দীনেশের অভিযোগের ভিত্তিতে এক সালিশ বৈঠক করেন। সেই থেকে ওই ১৮ কাঠা জমি আমি ভোগ করে আসছি।’

চিতলমারী থানার এএসআই সজল কুমার রায় বলেন, ‘দীনেশ রায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে শৈলেন্দ্র নাথ সরকারের বাড়িতে গিয়েছিলাম। তিনি চলাচলে অক্ষম হওয়ায় তার নাতি জয় সরকারকে শুনানীর জন্য ৭ জুন বিকেলে লোকজন নিয়ে থানায় আসতে বলেছি।’

তবে চিতলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি এই মুহুর্তে ছুটিতে আছি। বিষয়টি শুনেছি স্পর্শকাতর। তাই এএসআই সজলকে বলেছি বাদী দীনেশকে বিজ্ঞ আদালতের স্মরণাপন্ন হতে।’ 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ