খুলনা | রবিবার | ০৭ জুন ২০২৬ | ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে বিএনপি

খবর প্রতিবেদন |
১১:১১ পি.এম | ০৬ জুন ২০২৬

 

বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় সাতটি মন্ত্রণালয়ের গত এক মাসের কার্যক্রম মূল্যায়ন এবং কর্মমুখী শিক্ষা খাতের ওপর গুরুত্বারোপসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

শনিবার (৬ জুন) বিকালে সংসদীয় দলের এই সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ দেশের চাঁদাবাজি ও মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিলে প্রধানমন্ত্রী বিষয়টিতে পূর্ণ সমর্থন জানান। এ ছাড়া সভায় পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের মামলার দ্রুত বিচার সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

সভা শেষে সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে জানান, সভায় ৭টি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীরা তাদের মন্ত্রণালয়ের কাজের অগ্রগতি, বিদ্যমান সমস্যা এবং সমাধানমূলক পদক্ষেপ তুলে ধরেছেন।

শিক্ষামন্ত্রীর বরাত দিয়ে চিফ হুইপ বলেন, কারিকুলামে কর্মমুখী শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, যে শিক্ষা মানুষকে কাজে দক্ষ করে না বা বিদেশে কিছু করতে সক্ষম করে না, তা কার্যকর নয়। এ ছাড়া একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি ফি দুই থেকে তিন হাজার টাকা কমানো হয়েছে এবং অতিরিক্ত ফি আদায়কারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্বাস্থ্য খাতের বিষয়ে সভায় জানানো হয়, ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং হাম প্রতিরোধে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যেই এক হাজার কিলোমিটার নতুন রাস্তার টেন্ডার করেছে।

প্রধানমন্ত্রী কম খরচে ও দুর্নীতিমুক্তভাবে কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন। যুবক প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ঢাকা ও ঢাকার বাইরে বিকেএসপির শাখা সম্প্রসারণ, বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের দ্রুত কাজ সম্পন্ন এবং নারী ও শিশুদের উন্নয়নেও কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর টার্মিনাল উন্নয়ন এবং তিস্তা ব্যারেজ নিয়ে বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছে। বিদ্যুৎ খাতের বিষয়ে বলা হয়েছে, বিপুল সংখ্যক মানুষকে নতুনভাবে বিদ্যুতের আওতায় আনা হয়েছে এবং ৬৬ শতাংশ গ্রাহকের বিদ্যুতের বিল বৃদ্ধি পায়নি।

দ্রব্যমূল্য ও ডলার সংকটের প্রসঙ্গে চিফ হুইপ জানান, বিগত সরকার দেশত্যাগের সময় ডলারের দাম ৮৬ টাকা থেকে ১১৯-১২০ টাকায় পৌঁছে দেয়। প্রায় ৩৫-৪০ শতাংশ ডলারের দাম বাড়ার কারণেই স্বাভাবিকভাবে বিভিন্ন জিনিসের দাম বেড়েছে।

বর্তমান সরকার এগুলো নিয়ে কাজ করতে এবং মানুষের কষ্ট লাঘব করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে। সভায় জাতীয় হাসপাতাল নির্মাণ, মানসম্মত স্কুল খাবার নিশ্চিতকরণ এবং অন্যান্য সরকারি প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে তিনি জানান।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ