খুলনা | রবিবার | ০৭ জুন ২০২৬ | ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

কাশ্মীর কখনোই ভারতের হবে না, জাতিসংঘে পাকিস্তান

খবর প্রতিবেদন |
১১:২১ পি.এম | ০৬ জুন ২০২৬

 

জাতিসংঘে কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে নতুন বিতর্কে পাকিস্তান ভারতের দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, ভারত-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীর কখনোই নয়াদিল্লির অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল না, এখনও নয় এবং ভবিষ্যতেও হবে না।

শনিবার (৬ জুন) জাতিসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি পার্বথানেনি হরিশ কাশ্মীরকে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে দাবি করার পর পাকিস্তানের প্রতিনিধি গুল কায়সার সারওয়ানি জবাব দেন।

সারওয়ানি জাতিসংঘের ১৯৩ সদস্য দেশের সাধারণ পরিষদকে স্মরণ করিয়ে দেন যে, ভারত-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীর এখনও জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের আলোচ্যসূচিতে থাকা একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিরোধপূর্ণ অঞ্চল।

তিনি বলেন, কোনো ধরনের ধোঁয়াশা এই বিরোধের ঐতিহাসিক, আইনি ও আন্তর্জাতিক চরিত্রকে পরিবর্তন করতে পারবে না। জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ কখনোই ছিল না, বর্তমানেও নেই এবং কখনো হবেও না।

জাতিসংঘে নিযুক্ত পাকিস্তানের স্থায়ী প্রতিনিধি আসিম ইফতিখার আহমেদ বলেন, নিরাপত্তা পরিষদের বার্ষিক প্রতিবেদনে জম্মু ও কাশ্মীর এবং ফিলিস্তিন উভয় বিরোধের অব্যাহত প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরা হয়েছে। একইসঙ্গে জাতিসংঘের প্রাসঙ্গিক প্রস্তাবনা অনুযায়ী এগুলোর সমাধান করতে হবে।

সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতিবেদনকালীন সময়ে ‘ভারত-পাকিস্তান প্রশ্ন’ সংক্রান্ত ২০টিরও বেশি প্রস্তাব নিরাপত্তা পরিষদের সামনে আনা হয়েছে। পরিষদ সে বছরের মে মাসে এই বিষয়ে রুদ্ধদ্বার আলোচনা করেছে, যা এই বিষয়টির ওপর জোর দেয় যে, পরিষদের আলোচ্যসূচিতে প্রথমবার অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সাত দশকেরও বেশি সময় পরেও কাশ্মীর বিরোধটি পরিষদের মনোযোগ আকর্ষণ করে চলেছে।

ফিলিস্তিন প্রসঙ্গে পাকিস্তানি প্রতিনিধি বলেন, বিশেষ করে গাজায় চলমান মর্মান্তিক ঘটনাটি পরিষদের আলোচ্যসূচির শীর্ষে রয়েছে। যুদ্ধবিরতি বারবার ব্যর্থ হওয়ার পর, পরিষদ ২৮০৩ নম্বর প্রস্তাব গ্রহণ করে, যা গাজা শান্তি পরিকল্পনাকে অনুমোদন দেয় এবং আশার আলো দেখায়। ২৮০৩ নম্বর প্রস্তাবনাটি সম্পূর্ণ ও বিশ্বস্ততার সঙ্গে বাস্তবায়ন করা অপরিহার্য।

তিনি আরও বলেন, পাকিস্তান ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার, ১৯৬৭-পূর্ববর্তী সীমানার ভিত্তিতে একটি স্বাধীন, টেকসই ও অবিচ্ছিন্ন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র এবং আল-কুদস আল-শরিফকে (জেরুজালেম) রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠার প্রতি তার অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে।

আসিম বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে থাকা চ্যালেঞ্জগুলো আরও গণতান্ত্রিক, প্রতিনিধিত্বমূলক ও জবাবদিহিমূলক একটি বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তাকে তুলে ধরে। সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে ভেটোর ব্যবহার উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই এটা স্পষ্ট যে স্বতন্ত্র স্থায়ী সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি এবং ভেটো ক্ষমতা এই অভিন্ন উদ্দেশ্যগুলোর পরিপন্থি।
সূত্র: দ্য ডন, জিও নিউজ

প্রিন্ট

আরও সংবাদ