খুলনা | সোমবার | ০৮ জুন ২০২৬ | ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

নগরীতে টানা অভিযানে গ্রেফতার ১০০, অন্য অপরাধীদের খোঁজ চলছে : পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক |
০২:২৯ এ.এম | ০৭ জুন ২০২৬


সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক কারবার দমনে বিশেষ যৌথ অভিযান চালিয়ে ১০০ জনকে গ্রেফতার করেছে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি)। শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সময়ে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়। একই সঙ্গে গ্রেফতার ব্যক্তিদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ‘বি কোম্পানি’ নামে পরিচিত সন্ত্রাসী চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের অভিযানও চলছে।
শনিবার কেএমপির পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মহানগরের বিভিন্ন থানা ও গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করে। শনিবার সকাল ১০টা হতে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত পরিচালিত বিশেষ অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে মোট ৩৮ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে খুলনা থানা ১৬, সোনাডাঙ্গা মডেল থানা ২, লবণচরা থানা ৪, হরিণটানা থানা ৩, খালিশপুর থানা ৫, দৌলতপুর থানা ৪ এবং খানজাহান আলী থানা ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়। উলে­খ্য, অভিযানে চিহ্নিত সন্ত্রাসী মিরাজ মৃধা (২৬)সহ ৬ মাদক কারবারি, ১ চোর এবং অন্যান্য অপরাধী ৩০ জন গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় কেএমপি। গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
গ্রেফতার ব্যক্তিদের মধ্যে খুলনা সদর থানা এলাকা থেকে ১৬ জন, সোনাডাঙ্গা মডেল থানা থেকে ১১ জন, লবণচরা থানা থেকে ১০ জন, খালিশপুর থানা থেকে ১৩ জনসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে মোট ৬২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সম্প্রতি খুলনায় ধারাবাহিক সন্ত্রাসী কর্মকান্ড, চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে কেএমপি বিশেষ অভিযান শুরু করে। গত বুধবার কেএমপি সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ অপরাধবিষয়ক সভায় মহানগরজুড়ে সমন্বিত অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এদিকে শনিবার নগরের খালিশপুরে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিবির উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান মিয়া বলেন, সম্প্রতি গ্রেফতার হওয়া লিটন মীর ওরফে কসাই লিটন ও রিফাত হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ, তাঁদের ব্যবহৃত মুঠোফোন এবং অন্য ডিজিটাল আলামত বিশ্লেষণ করে ‘বি কোম্পানি’ নামে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।
পুলিশের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসহায় মানুষের সহায়তা ও জনকল্যাণমূলক কর্মকান্ডের প্রচারণা চালালেও এর আড়ালে চক্রটি সংঘবদ্ধ অপরাধমূলক কর্মকান্ড পরিচালনা করত। ডিবির ভাষ্য অনুযায়ী, কসাই লিটন শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘গ্রেনেড বাবু’ নামে পরিচিত রনি চৌধুরীর ক্যাশিয়ার হিসেবে কাজ করতেন। গত ঈদেও তিনি ‘বি কোম্পানি’র ব্যানারে মাংস বিতরণ করেছেন।
আহাদুজ্জামান মিয়া বলেন, গ্রেফতার ব্যক্তিদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য ও ডিজিটাল বিশ্লেষণে ‘বি কোম্পানি’র শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজনের সংশ্লিষ্টতার তথ্য মিলেছে। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে চক্রটির সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।
ডিবির উপ-পুলিশ কমিশনার আরও বলেন, খুলনা মহানগরে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা কিংবা জননিরাপত্তা বিঘিœত করে-এমন কোনো কর্মকান্ড বরদাশত করা হবে না। অপরাধীদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং নগরবাসীর সহযোগিতায় তথ্যদাতাদের পরিচয় গোপন রেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ