খুলনা | মঙ্গলবার | ০৯ জুন ২০২৬ | ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ড. ইউনূস ও সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টাসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন খারিজ

খবর প্রতিবেদন |
০২:১০ পি.এম | ০৮ জুন ২০২৬


হামে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসায় ব্যর্থতা ও ব্যাপক প্রাণহানির অভিযোগে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নুরজাহান বেগমসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে করা মামলার আবেদন খারিজ করেছেন আদালত।

সোমবার (৮ জুন) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জসিতা ইসলাম মামলার আবেদনটি শুনানি শেষে খারিজের আদেশ দেন।

মামলার বাদী গণমাধ্যমকে বলেন, ইউনিসেফের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য টিকা সংকট সম্পর্কে একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তা আমলে নেয়নি। এই অবহেলার কারণেই দেশে হামের ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে এবং এর দায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এড়াতে পারেন না।

আদালত শুনানি শেষে মামলার আবেদনটি খারিজ করে দেন। আদালতের এই আদেশের ফলে আপাতত এ বিষয়ে কোনো ফৌজদারি কার্যক্রম শুরু হচ্ছে না বলেও জানান তিনি।

এর আগে আদালতে মামলার আবেদন করেন কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল।

মামলার আবেদনে অন্য যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তারা হলেন—সাবেক স্বাস্থ্য সচিব সাইদুর রহমান, ড. ইউনূসের তৎকালীন বিশেষ সহকারী ডা. সায়েদুর রহমান এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ডা. আবু জাফর।

আবেদনের অভিযোগে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় টিকা সংগ্রহ ও আমদানিতে সিদ্ধান্তগত ব্যর্থতা এবং অবহেলার কারণে দেশে হামের ব্যাপক বিস্তার ঘটে। এর ফলে বিপুলসংখ্যক শিশু আক্রান্ত হয় এবং শত শত শিশুর মৃত্যু ঘটে বলে দাবি করা হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ইউনিসেফের মাধ্যমে টিকা সংগ্রহের প্রচলিত ব্যবস্থা বাতিল করে উন্মুক্ত দরপত্রের উদ্যোগ নেওয়ায় টিকা সরবরাহে বিলম্ব হয় এবং সংকট তৈরি হয়।

এর আগে গত ২০ মে বাংলাদেশে হামের টিকা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এক সংবাদ সম্মেলন করেছিল ইউনিসেফ। সেখানে সংস্থাটির প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স কথা বলেন।

তিনি জানান, টিকা সংকটের বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে ১০ বার সতর্ক করেছিলেন তারা এবং এ সংক্রান্ত পাঁচটি চিঠিও দিয়েছিলেন।

রানা ফ্লাওয়ার্স আরও উল্লেখ করেন, টিকা কেনার জন্য অর্থের কোনো অভাব ছিল না; মূলত সরকারের ক্রয়সংক্রান্ত জটিলতার কারণেই এই ভয়াবহ সংকট তৈরি হয়েছিল।

উল্লেখ্য, রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে সাত শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি। একই সময়ে হাম শনাক্ত হয়েছে ৬৬ জনের।

এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ৫২৯টি শিশুর। আর হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ৯১টি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ৬২০টি শিশু মারা গেছে।

১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম শনাক্ত হয়েছে ৯ হাজার ৬৮৬ জনের। একই সময় হামের উপসর্গ দেখা দেওয়া রোগীর সংখ্যা ৭৯ হাজার ১২ জন।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ