খুলনা | মঙ্গলবার | ০৯ জুন ২০২৬ | ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

নেশার টাকা না পেয়ে ছুরিকাঘাতে স্ত্রীকে হত্যার পর স্বামীর আত্মহত্যার চেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক |
০৩:৩৬ পি.এম | ০৮ জুন ২০২৬

 

প্রেমের টানে ঘর বেধেছিলেন মামাতো-ফুফাতো ভাই-বোন। রঙিন স্বপ্নে সাজাতে চেয়েছিলেন নতুন সংসার।

কিন্তু সেই স্বপ্নকে চার মাসের মাথায় কেড়ে নিল মরণনেশা মাদক। মাদকের টাকার জন্য স্ত্রী ছামিনা আক্তার সম্মিকে (২০) নৃশংসভাবে খুন করে নিজের বুকেও ছুরি চালিয়েছেন স্বামী সুজন (২২)।

রোমহর্ষক এই ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার (৮ জুন) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে যশোর সদর উপজেলার শেখহাটি তামালতলা এলাকার একটি ভাড়া বাড়িতে।

নিহত ছামিনা আক্তার সাম্মী (২০) সদর উপজেলার তরফ নওয়াপাড়ার শফিয়ার রহমানের মেয়ে।

স্বামী সুজন টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর থানার গয়হাটা ইউনিয়নের শান্তিনগর গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে। সুজন বর্তমানে আশংকাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

নিহতের মামা মোস্তাফিজুর রহমান পিয়াস ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্কের জেরে পিতা-মাতাকে না জানিয়ে চার মাস আগে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন সুজন ও ছামিনা। বিয়ের পর ছামিনা জানতে পারেন তার স্বামী সুজন চরম মাদকাসক্ত। এরপর থেকেই তাদের সংসারে অন্ধকার নেমে আসে। নেশার টাকার জন্য প্রায়ই সুজন ছামিনাকে মারধর ও কলহ সৃষ্টি করতেন।

এরই এক পর্যায়ে মাদকের টাকার জন্য সুজন হিংস্র হয়ে গত শুক্রবার নিজের মাকেও ছুরিকাঘাত করে আহত করেন বলে জানা গেছে।

স্বামীর এই অন্ধকার জগৎ থেকে ফিরিয়ে আনতে আপ্রাণ চেষ্টা করছিলেন ছামিনা। সুজনকে সঠিক পথে ফেরাতে এবং সংসারী করতে উভয় পরিবার উদ্যোগ নেয়। তাকে পুনর্বাসন ও উপার্জনের জন্য বিদেশে পাঠানোর সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছিল।

সোমবারই (৮ জুন) সুজনের মালয়েশিয়া যাওয়ার বিমানের টিকিট কাটার কথা ছিল। তার আগেই সুজন মাদকের টাকার জন্য ছামিনাকে নৃশংসভাবে হত্যার পর নিজের বুকেও ছুরি চালিয়ে দিল।

পুলিশ ও স্থানীয় প্রতিবেশী আজিবার বিশ্বাস  জানান, সোমবার (৮জুন) ভোরে শেখহাটি তামালতলা এলাকার ইমরাজের ভাড়া বাড়িতে নেশার টাকা নিয়ে সুজন ও ছামিনার মধ্যে তীব্র কথা কাটাকাটি হয়।

এক পর্যায়ে সুজন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ছামিনাকে মারপিট করে। এক পর্যায়ে ধারালো চাকু দিয়ে ছামিনার সমস্ত শরীরে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকে। ছামিনার আর্তচিৎকারে বাড়ির লোকজন এবং প্রতিবেশীরা ছুটে এসে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সাকিরুল ইসলাম পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

অন্যদিকে, স্ত্রীকে হত্যার পর সুজন নিজের শরীরে নিজেই চাকু দিয়ে আঘাত করে আত্মহত্যার চেষ্টা চালান। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকেও উদ্ধার করে একই হাসপাতালের পুরুষ সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সুজনের ওপর হামলার চেষ্টা করেন ছামিনার কয়েকজন স্বজন। এতে হাসপাতাল চত্বরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরে সুজনের বাবা ও মাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।

যশোর জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক ডাক্তার সাকিরুল ইসলাম জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার পূর্বেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে ওই গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। লাশ পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া ও ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। জখমী স্বামী সুজন পুলিশি পাহারায় চিকিৎসাধীন ।

কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী বাবুল বলেন, মাদকাসক্তির জেরে এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

অপরাধীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ছেলের পিতা-মাতাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ