খুলনা | মঙ্গলবার | ০৯ জুন ২০২৬ | ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

পালিয়েছে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ

পাটকেলঘাটার লোকনাথ নার্সিং হোমে ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা ও পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি |
০২:২৬ এ.এম | ০৯ জুন ২০২৬


সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটার লোকনাথ নার্সিং হোম এ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার নামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় পারুল খাতুন (৩২) নামের এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।  রোববার সন্ধ্যায় এই ঘটনার পর রোগীর স্বজন ও স্থানীয়দের তোপের মুখে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তালা ঝুলিয়ে পালিয়েছে। মৃত প্রসূতি পারুল খাতুন সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বড়দল ইউনিয়নের  জামালনগর গ্রামের আবু হানিফের স্ত্রী। তবে সিজারের মাধ্যমে জন্ম নেওয়া নবজাতক পুত্র সন্তানটি বর্তমানে সুস্থ রয়েছে।
মৃতের পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে,  কন্যাসন্তানের জননী গর্ভবতী পারুল খাতুনের প্রসব বেদনা উঠলে শনিবার (৬ জুন) সকালে তাকে পাটকেলঘাটা এলাকার লোকনাথ নার্সিং হোমে ভর্তি করা হয়। রোববার দুপুর ২টার দিকে ডাঃ রমিজ রেজা তার সিজার অপারেশন করেন। এরপর সন্ধ্যার দিকে পারুলের শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। অবস্থা বেগতিক দেখে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি করে রোগীকে অন্য ক্লিনিকে হস্তান্তরের চেষ্টা চালায়। কিন্তু তার আগেই ক্লিনিকের ভেতরেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন পারুল খাতুন ।
মৃতের বাবা আজিত খাঁ ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, এটি পারুলের তৃতীয় সিজার হওয়ায় ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে তিনি আগেই ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের সাথে পরামর্শ করেছিলেন। সে সময় ক্লিনিকের মালিক পুলক পাল অভিজ্ঞ সার্জন দিয়ে অপারেশন করানোর আশ্বাস দিলেও শেষ পর্যন্ত ভুল চিকিৎসা ও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। 
এদিকে মায়ের আকস্মিক মৃত্যুতে কান্নায় ভেঙে পড়ে পারুলের ১৪ বছর বয়সী বড় মেয়ে সাদিয়া খাতুন। এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করে মৃতের পরিবার থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে। 
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, লোকনাথ নার্সিং হোমটি বর্তমানে একটি ‘মৃত্যুকূপে’ পরিণত হয়েছে। সুচিকিৎসার অভাবে ও অপচিকিৎসার শিকার হয়ে এ পর্যন্ত এখানে ৫ জন প্রসূতি মায়ের মৃত্যু হয়েছে। মাঝেমধ্যে প্রশাসনের ঝটিকা অভিযানে ক্লিনিকটি বন্ধ হলেও অদৃশ্য শক্তির ইশারায় আবারও তা চালু হয়ে যায়। 
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে লোকনাথ নার্সিং হোম এ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক পুলক কুমার পাল জানান, ভুল চিকিৎসায় নয়, বরং হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে (কার্ডিয়াক এ্যারেস্ট) ওই রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এ ব্যাপারে সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন ডাঃ আব্দুস সালাম জানান, বর্তমানে ছুটিতে তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ডাঃ ফরহাদ জামিলকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে  জানান তিনি। 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ