খুলনা | বুধবার | ১০ জুন ২০২৬ | ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ভারত রক্ষায় ঐক্যের ডাক রাহুল গান্ধীর

খবর প্রতিবেদন |
০৪:১২ পি.এম | ০৯ জুন ২০২৬

 

দেশের স্বার্থে এবং সংবিধান রক্ষার্থে সবাইকে একতাবদ্ধ হয়ে লড়াই করার আহ্বান জানিয়েছেন ভারতের লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী।

সোমবার (৮ জুন) নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের সভায় তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন, নিজেদের মধ্যে বিভেদ বজায় রাখলে জোটের মূল লক্ষ্য ব্যাহত হবে। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দল বিজেপিকে পরাস্ত করতে হলে জোটের সব শরিক দলকে পারস্পরিক কাদা ছোড়াছুড়ি বন্ধ করে একসঙ্গে পথ চলতে হবে বলে তিনি জোরালো হুঁশিয়ারি দেন।

প্রায় ১৫ মিনিটের এই দীর্ঘ বক্তব্যে কংগ্রেসের এই শীর্ষ নেতা জোটের কিছু শরিক দলের ভূমিকা নিয়ে প্রকাশ্যেই ক্ষোভ ও হতাশা ব্যক্ত করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, ‘ভোট চুরি’র মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুতর ইস্যুতে কিছু সহযোগী দলের কাছ থেকে আশানুরূপ সমর্থন পাওয়া যায়নি।

একই সঙ্গে জোটে অন্তর্ভুক্ত থেকেও যারা নিয়মিতভাবে জাতীয় কংগ্রেসের সমালোচনা ও বিরোধিতা করে চলেছে, তাদের তীব্র সমালোচনা করেন রাহুল গান্ধী। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, তার এই সমালোচনার মূল তির ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস এবং বামপন্থী দলগুলোর দিকে।

এই বৈঠকেই ভোটার তালিকা জালিয়াতি এবং বিশেষ নিবিড় সংশোধন ‘এসআইআর’ প্রক্রিয়ার নানা অনিয়ম নিয়ে জোটের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। উদ্ভূত এই জটিল পরিস্থিতি নিরসনে ভারতের প্রধান বিচারপতির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি যৌথ স্মারকলিপি জমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ‘ইন্ডিয়া’ জোট, যা খুব দ্রুতই তার কাছে হস্তান্তর করা হবে। রাহুল গান্ধী যুক্তি দেখান যে বিগত লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলেই প্রমাণিত হয়েছে বিজেপিকে পরাজিত করা অসম্ভব কিছু নয়, তাই নিজেদের অভ্যন্তরীণ কোন্দল মিটিয়ে শক্তি বাড়াতে হবে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়ে ২৪০টি আসনে থমকে যায় বিজেপি, যা ২০১৯ সালের ৩০৩টি আসনের চেয়ে অনেক কম। অন্যদিকে কংগ্রেস ২০১৯ সালের মাত্র ৫২টি আসন থেকে একলাফে ৯৯টি আসনে উন্নীত হয়ে নিজেদের শক্তির জানান দেয়। লোকসভায় বিরোধীদের সাম্প্রতিক একতার বড় প্রমাণ ছিল সরকারের সীমানা পুনর্নির্ধারণ বিলটি সম্মিলিতভাবে রুখে দেওয়া।

কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে গত ১৭ এপ্রিল লোকসভায় মোদি সরকারের বিতর্কিত সীমানা পুনর্নির্ধারণ বিলটি সর্বসম্মতভাবে প্রতিহত করার বিষয়টিকে জোটের একতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং পররাষ্ট্রনীতির ব্যর্থতা মোকাবিলায় এই সংহতি আরও জোরদার করা আবশ্যক। চার রাজ্যের সাম্প্রতিক নির্বাচনের পরপরই এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়, যেখানে আসাম ও বাংলায় বিজেপি সরকার গঠন করেছে, কেরালায় জিতেছে কংগ্রেস এবং তামিলনাড়ুতে বড় জয় পেয়েছেন সুপারস্টার বিজয়। তিন বছর আগে গঠিত এই জোটটি এখন থেকে প্রতি দুই মাস পরপর বৈঠকে বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং পরবর্তী সভাটি আগামী আগস্ট মাসে হায়দরাবাদে অনুষ্ঠিত হবে।
সূত্র: এনডিটিভি

প্রিন্ট

আরও সংবাদ