খুলনা | বুধবার | ১০ জুন ২০২৬ | ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বান্দরবান সীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরণে রোহিঙ্গা যুবক নিহত

খবর প্রতিবেদন |
০৪:২৭ পি.এম | ০৯ জুন ২০২৬


বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি অংশে স্থলমাইন বিস্ফোরণে এক রোহিঙ্গা নাগরিক নিহত হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার সকালে নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম ইউনিয়নের রেজু আমতলী সীমান্তে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

সীমান্তে একের পর এক মাইন বিস্ফোরণের ঘটনায় স্থানীয় বাগান মালিক, পাহাড়ি জুমচাষি ও সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মাঝে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, গত এক মাসে এই সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে অন্তত চারজনের মৃত্যু হয়েছে।

নিহত ওই রোহিঙ্গা শ্রমিকের নাম আব্দুল খালেক (৩০)। তিনি কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার কুতুপালং ১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সি-ব্লকের বাসিন্দা মো. আনু মিয়ার ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে আব্দুল খালেক নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের রেজু আমতলী বিওপি (সীমান্ত ফাঁড়ি) সংলগ্ন ৪০ নম্বর সীমান্ত পিলারের কাছাকাছি এলাকায় যান। সেখানে হঠাৎ একটি স্থলমাইন বিস্ফোরিত হলে তিনি গুরুতর আহত হন।

বিস্ফোরণে তাঁর বাম পা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং ডান পা মারাত্মকভাবে জখম হয়। গুরুতর রক্তাক্ত অবস্থায় সঙ্গে থাকা অন্য শ্রমিকেরা তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার কুতুপালং এমএসএফ (মেডিসিনস স্যানস ফ্রন্টিয়ার্স) হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরে তাঁর মৃত্যু হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, সীমান্তে বিস্ফোরণের খবর পাওয়ার পরপরই ঘুমধুম পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র থেকে পুলিশের একটি মোবাইল টিম তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়।

তিনি আরও জানান, নিহত ব্যক্তির সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি এবং এ বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান।

সীমান্তবর্তী ঘুমধুম ও রেজু আমতলী এলাকার বাসিন্দারা জানান, সীমান্তরেখা বরাবর মিয়ানমার অভ্যন্তরে দীর্ঘদিন ধরে স্থলমাইন পুঁতে রাখা হয়েছে। বর্ষার শুরুতে বা অসাবধানতাবশত সীমান্তের কাছাকাছি গেলেই এই ধরনের ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটছে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও জুমচাষীরা জানিয়েছেন, গত এক মাসে সীমান্তে একের পর এক মাইন বিস্ফোরণ এবং চারজনের মৃত্যুর ঘটনার পর থেকে সাধারণ মানুষের যাতায়াত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে সীমান্তের কাছাকাছি যাদের ফসলি জমি, ফলের বাগান বা জুমচাষের জমি রয়েছে, তাঁরা এখন সেখানে কাজে যেতে ভয় পাচ্ছেন। ফলে সীমান্ত সংলগ্ন গ্রামগুলোতে এক ধরনের থমথমে পরিস্থিতি ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ