খুলনা | বৃহস্পতিবার | ১১ জুন ২০২৬ | ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বাগেরহাটে দর্শনার্থীকে মারধর ও মিথ্যা মামলার ঘটনায় সহকারী বন সংরক্ষকসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাগেরহাট |
০৪:৫৬ পি.এম | ১০ জুন ২০২৬


বাগেরহাটে দর্শনার্থীকে মারধর ও মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়ার মামলায় সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের সাবেক সহকারী বন সংরক্ষক মো মাহবুব হাসানসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ। ক্ষমতার অপব্যবহার ও এক দর্শণার্থীকে মারধর ও মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে মামলা দায়েরের অভিযোগে এই চার্জশিট দাখিল করে। দীর্ঘ দুই বছর তদন্তের পরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর সার্কেল বাগেরহাট মোঃ শামীম হোসেন গত ১৬ মে আদালতে এই চার্জশিট দাখিল করেন।

অভিযুক্ত অন্যরা হলেন, বনরক্ষী মতিউর রহমান, আবুল হাসান, নাজমুল হক ও নজরুল ইসলাম।

মামলার বিবরণীতে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৭ এপ্রিল মামলার বাদী মোহাম্মদ জুয়েল স্ত্রীকে নিয়ে শরণখোলা উপজেলার খুড়িয়াখালী শ্বশুর বাড়িতে আসেন। তখন সুন্দরবনে ঘোরার বিষয়ে সহকারি বনরক্ষক মাহবুব হোসেনের সাথে যোগাযোগ করেন। পরে ওই দিন বিকেলে স্থানীয় বাজারের একটি চায়ের দোকান থেকে তাকে বন অফিসে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন সহকারী বন সংরক্ষক মাহবুব হাসান। পরে গেজেট অনুযায়ী বনে প্রবেশের ফি কত দেখতে চাইলে বাদিকে জোরপূর্বক হ্যান্ডকাপ পরিয়ে মারধর করা হয় এবং তার নিকট থাকা নগদ অর্থ, মোবাইল ফোন, স্বর্ণালংকার ও কাগজপত্র সহ বিভিন্ন মালামাল ছিনিয়ে নেয়। পরে বাদীকে ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে গভীর সুন্দরবনে ও চরখালী ফরেস্ট অফিসে নিয়ে যায়। চরখালী টহল ফাঁড়ির পূর্ব পাশের পুকুরে সিঁড়িতে তাকে নির্যাতন করে জোরপূর্বক কাদা মেখে ছবি তুলে বন আইনের একটি মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়। পরবর্তীতে তাকে আদালতে প্রেরণ করা হলে তিনি চিকিৎসা গ্রহণ করেন এবং জামিনে মুক্ত হয়ে আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন। আদালতের আদেশক্রমে ২০২৪ সালের ০২ মে অভিযোগটি থানায় মামলা হিসেবে রুজু হয়। মামলার দীর্ঘ তদন্ত শেষে ও সাক্ষীদের সাক্ষ্য নিয়ে পুলিশ ১৬ মে আদালতে পাঁচজনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করেন। তদন্তকারী অফিসার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর সার্কেল বাগেরহাট মোঃ শামীম হোসেন এই চার্জশিট দাখিল করেন।

এ বিষয়ে মামলার বাদি মো জুয়েল বলেন, মামলা দায়েরের দীর্ঘদিন পার হলেও পুলিশ তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, মামলা দায়েরের পর আমাকে বিভিন্নভাবে মামলা তুলে নিতে বিভিন্ন হুমকি ধামকি দিয়ে আসছিল। কিন্তু ন্যায় বিচারের অপেক্ষায় আছি। প্রাথমিকভাবে চার্জশিট দেওয়ায় আমি খুশি হলেও আশা করছি আদালতের মাধ্যমে ন্যায়বিচার পাব।

মামলায় বাদী পক্ষের আইনজীবি এনামুল হক বলেন, দীর্ঘ তদন্তের পরে পুলিশ চার্জশীট দিয়েছে। আশাকরি আমরা ন্যায় বিচার পাব।

মামলার প্রধান অভিযুক্ত সহকারী বন সংরক্ষক শেখ মাহবুব হাসান বনভবনের সংস্থাপন ইউনিটে কর্মরত আছেন।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ