খুলনা | বৃহস্পতিবার | ১১ জুন ২০২৬ | ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

মাছ ধরার ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা উঠছে আজ

বনদস্যু আতঙ্ক নিয়ে সাগরে যাওয়ার প্রস্তুতি জেলেদের

শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি |
০২:১৮ এ.এম | ১১ জুন ২০২৬


আজ বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে উঠছে সাগরে ৫৮ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা। এ পরই ফিািশং ট্রলার নিয়ে সাগরে যাওয়া কথা জেলেদের। মহাজনের আড়তে জড়ো হচ্ছেন জেলেরা, একে একে ট্রলার এসে ভিড়ছে ঘাটে। সাগরে যাওয়ার প্রস্তুতিও চলছে জেলেদের। কিন্তু পেছন থেকে তাদের আতঙ্কিত করছে বন ও জলদস্যু। উপকূলের জেলে-মহাজনদের কাছে আতঙ্কে পরিণত হয়েছে দস্যু বাহিনীগুলো।
সুন্দরবন ও সাগর উপকূল সংলগ্ন এলাকার সক্রিয় রয়েছে একাধিক বন ও জলদস্যু বাহিনী। তারাও অপেক্ষায় রয়েছে কখন আসবেন জেলেরা। দীর্ঘ প্রায় দুই মাস অবসরে থাকার পর অনেক আশা নিয়ে মাছ ধরতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিলেও দস্যু আতঙ্ক জেঁকে বসেছে জেলে ও মহাজনদের মাঝে। সাগরে নামলেই এসব দস্যু বাহিনীর হামলার শিকার হতে পারেন জেলেরা। এমন শঙ্কা ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে উপকূলের জেলে পল্লীতে।  
বুধবার দুপুরে বাগেরহাটের শরণখোলা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, কিছু কছিু ট্রলার ঘাটে আসতে শুরু করেছে। প্রায় দুই মাস অবসর সময় কাটিয়ে জেলেরা জড়ো হচ্ছেন মহাজনের আড়তে। কেউ জাল তুলছেন ট্রলারে, কেউ করছেন ইঞ্জিন পরীক্ষা। শেষ মুহুর্তে এভাবেই ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।
মৎস্য আড়তদার ও ট্রলার মালিক মজিবর তালুকদার ও কবির হাওলাদার বলেন, নিষেধাজ্ঞা শেষে সাগরে জাল ফেললে প্রচুর মাছ পাওয়া যায়। কিন্তু শুরুতেই বৈরী আবাহওয়া, যে কারণে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেও বেশির ভাগ ট্রলার সাগরে যাওয়া থেকে বিরত রয়েছে। আবাহওয়া ভালো হলে সেসব ট্রলার মাছ ধরতে সমুদ্রে রওনা হবে। তার ওপর রয়েছে দস্যু আতঙ্ক। ইলিশ মৌসুমের শুরুতেই উভয় সংকটে পড়ে অনেকটা হতাশাগ্রস্ত জেলে-মহাজনরা। 
শরণখোলা সমুদ্রগামী ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি মোঃ আবুল হোসেন বলেন, জাল-ট্রলার মেরামত এবং একটি ট্রলার সাগরে যাওয়ার উপযোগী করতে একেক মজাহনের কমপক্ষে চার থেকে পাঁচ লাখ টাকা খরচ হয়। অনেক মহাজন ঋণ নিয়ে করেছেন এসব কাজ। নিষেধাজ্ঞা শেষে সাগরে গিয়ে মাছ ধরে তা বিক্রি করে শোধ করবেন সেই দেনা। কিন্তু প্রথম দিনই  বৈরী আবহাওয়া হতাশ করেছে আমাদের। এমন পরিস্থিতিতে বেশির ভাগ মহাজন তাদের ট্রলার সাগরে না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। 
দস্যুদের বিষয়ে জানতে চাইলে মৎস্যজীবী নেতা আবুল হোসেন বলেন, দস্যুরা আক্রমণ করলে গভীর সাগরে জেলেদের কিছুই করার থাকে না। দস্যু আতঙ্ক নিয়েই যেতে হয় সাগরে। অনেক সময় জেলেদের নির্যাতন, অপহরণ ও আহরিত মাছসহ ট্রলারের সবকিছু লুটে নেয় দস্যুরা। পুরো চালান শেষ করে খালি হাতে ফিরতে হয় জেলেদের। আর কোনো জেলে অপহরণ হলে গুণতে হয় লাখ লাখ টাকা মুক্তিপণ। তাই মৌসুমের শুরুতেই দস্যুদমনে কঠোর উদ্যোগ না নিলে ব্যাহত হবে কাক্সিক্ষত ইলিশ আহরণ।
শরণখোলা উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা অঞ্জন বিশ^াস বলেন, বৃহস্পতিবার রাত ১২টার পর থেকেই সাগরের উদ্দেশ্যে রওনা করতে পারবেন জেলেরা। আবহাওয়া কিছুটা খারাপ থাকায় প্রথম দিনে অনেকেই সাগরে ট্রলার না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কিছু কিছু ট্রলার ঝুঁকি নিয়ে গেলেও গভীর সাগরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া দস্যুদের বিষয়টি আমাদের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নৌ-বাহিনী ও কোস্ট গার্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ