খুলনা | শুক্রবার | ১২ জুন ২০২৬ | ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ইরানকে হুঁশিয়ারি দিল ২২ দেশ

খবর প্রতিবেদন |
০১:২৪ পি.এম | ১১ জুন ২০২৬


ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যে ইরানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে যৌথ বিবৃতি দিয়েছে ২২টি দেশ। বিবৃতিতে তাদের ভূখণ্ডে নাশকতামূলক ও হুমকিমূলক তৎপরতা বন্ধ করতে তেহরানকে সতর্ক করেছে তারা।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বার্তা সংস্থা এএফপি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়।

বিবৃতিতে বলা হয়, ইহুদি সম্প্রদায়, ইরানি ও মার্কিন সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে হামলার পেছনে ইরানের হাত রয়েছে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) গোয়েন্দা সংস্থা ও তাদের বিদেশে অভিযান পরিচালনাকারী শাখা কুদস ফোর্স—প্রাণঘাতী ষড়যন্ত্র ও ক্ষতিকর কর্মকাণ্ডে জড়িত। ইরান-সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠী হারাকাত আশাব আল-ইয়ামিন আল-ইসলামিয়া এসব হামলার দায় স্বীকার করেছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আমাদের ভূখণ্ডে মানুষকে হত্যা, অপহরণ, হয়রানি, ভয়ভীতি দেখানো বা অন্য যেকোনো ধরনের আক্রমণের চেষ্টা জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক নিয়ম-নীতিকে ক্ষুণ্ন করে। এসব হুমকির বিরুদ্ধে আমাদের দেশ ও জনগণকে রক্ষা করার সংকল্পে আমরা ঐক্যবদ্ধ। ইরানকে অবিলম্বে এসব কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে হবে।

যৌথ বিবৃতিতে দেওয়া দেশগুলো হলো—যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, কানাডা, আলবেনিয়া, অস্ট্রেলিয়া, বেলজিয়াম, যুক্তরাজ্য, বুলগেরিয়া, চেক প্রজাতন্ত্র, ডেনমার্ক, এস্তোনিয়া, ফিনল্যান্ড, জার্মানি, আয়ারল্যান্ড, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া, নেদারল্যান্ডস, নিউজিল্যান্ড, উত্তর মেসিডোনিয়া, নরওয়ে, পর্তুগাল ও সুইডেন।

এর আগে গত বছরের আগস্টে ইরানের রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার করে অস্ট্রেলিয়া। দেশটির অভিযোগ, অন্তত দুটি ইহুদি-বিদ্বেষী হামলা চালিয়েছে তেহরান। এছাড়া গত নভেম্বরে ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীকে সন্ত্রাসবাদের রাষ্ট্রীয় মদদদাতা হিসেবে চিহ্নিত করে অস্ট্রেলিয়া।

এদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির পর বৃহস্পতিবার ইরানে আবারও হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। জবাবে হরমুজে দুটি জাহাজ, বাহরাইন ও কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরান।

হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছে, তারা ইরানের একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাচ্ছে এবং এটি ইরানের অযৌক্তিক ও অব্যাহত আগ্রাসনের জবাব হিসেবে করা হচ্ছে।

এদিকে মার্কিন হামলার পাল্টা জবাবে হরমুজ প্রণালিতে দুটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। একইসঙ্গে হরমুজে সব ধরনের জাহাজ চলাচল পুরোপুরি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এই ঘোষণার পরই তেলের দাম কিছুটা বেড়েছে।

এছাড়া বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইরান। আল জাজিরা জানায়, যুক্তরাষ্ট্রে হামলার জবাবে বাহরাইনের শেখ ইসা বিমানঘাঁটি এবং কুয়েতের আলী আল সালেম ও আহমদ আল জাবের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে তেহরান।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত নতুন করে জোরদার হয় গত ৯ জুন। হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন সামরিক হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার পর ওইদিন রাতেই ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। জবাবে জর্ডান, কুয়েত ও বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি লক্ষ্য করে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় ইরান।

পাল্টাপাল্টি হামলার পর বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, চুক্তির দর-কষাকষিতে ইরান সময় ক্ষেপণ করছে। এ জন্য দেশটিকে মূল্য দিতে হবে।

অন্যদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এক্সে এক পোস্টে বলেছেন, যেকোনো চাপ বা হুমকির বিরুদ্ধে ইরান কঠোরভাবে দাঁড়াবে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ