খুলনা | শুক্রবার | ১২ জুন ২০২৬ | ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

শিক্ষাখাতে বরাদ্দ বেড়ে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা

খবর প্রতিবেদন |
০৪:৪৫ পি.এম | ১১ জুন ২০২৬

 

দেশের ইতিহাসে অন্যতম বড় শিক্ষা বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী অর্থবছরে শিক্ষা খাতে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। গত অর্থবছরে এই খাতে বরাদ্দ ছিল ৮৭ হাজার ২০৬ কোটি টাকা। এক্ষেত্রে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার মতো বরাদ্দ বেড়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে এই শিক্ষাখাতের বরাদ্দ বিষয়ে জানানো হয়।

বাজেট প্রস্তাবনায় অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আগামী অর্থবছরে শিক্ষাখাতে বরাদ্দ জিডিপির ২ শতাংশে উন্নীত করে সর্বমোট ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করছি। যা ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ছিল ৮৭ হাজার ২০৬ কোটি টাকা, জিডিপির ১.৩৯ শতাংশ।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষায় সরকারি বিনিয়োগ পর্যায়ক্রমে ও ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি করে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি।

এছাড়া বাজেট বক্তৃতায় বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি বাধ্যতামূলক তৃতীয় ভাষা যেমন-জাপানিজ, কোরিয়ান, ম্যান্ডারিন, আরবি, ফ্রেঞ্চ, জার্মান ভাষা শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এ লক্ষ্যে তৃতীয় ভাষাজ্ঞানসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে সেসকল দেশে উচ্চশিক্ষায় গমনেচ্ছুদের ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা প্রদানের কথাও বাজেটে বলা হয়।

এছাড়া মেয়েদের জন্য বিনামূল্যে স্নাতক পর্যন্ত শিক্ষা সম্প্রসারণ করা হয়েছে। দরিদ্র শিক্ষার্থীদের স্কুল ইউনিফর্ম, জুতা ও স্কুলব্যাগ সরবরাহ, প্রতিবন্ধী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং বিশেষায়িত সহায়ক প্রযুক্তি ও শিক্ষাসামগ্রী প্রদান করা হবে।

ছাত্র-ছাত্রীদের পুষ্টির চাহিদা মেটাতে এবং সুস্বাস্থ্য নিশ্চিতকরণে মিড-ডে মিল কর্মসূচি চালু ও পর্যায়ক্রমে সারা দেশে সম্প্রসারণ এবং ছাত্রী ও শিক্ষিকাদের স্যানিটেশন ও হাইজিনকে প্রাধান্য দিয়ে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে।

প্রযুক্তি ও এআই নির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিতকল্পে ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব কর্মসূচি, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন, বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই সুবিধা সম্প্রসারণ করা হবে।

প্রসঙ্গত, নতুন অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী, যা দেশের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ বাজেট। প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এর ফলে মোট আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা, যা অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের মাধ্যমে অর্থায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ