খুলনা | বুধবার | ২৪ জুন ২০২৬ | ১১ আষাঢ় ১৪৩৩

যৌথ চিরুনি অভিযান শুরু, এলাকায় চরম উত্তেজনা

মোংলা কোস্ট গার্ড স্টেশনে দুর্বৃত্তদের হামলা ও ভাঙচুর : ফাঁকা গুলি, ৩ সদস্যসহ আহত ৪

মোংলা প্রতিনিধি |
০২:৩৫ এ.এম | ১২ জুন ২০২৬


সুন্দরবন সংলগ্ন মোংলা উপজেলার চিলা ইউনিয়নের জয়মনিরঘোল এলাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের একটি ভাসমান স্টেশনে অতর্কিত হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে একদল স্থানীয় দুর্বৃত্ত বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে সংঘটিত এই ঘটনায় কোস্ট গার্ডের ৩ জন সদস্য সহ ৪ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কোস্ট গার্ড ফাঁকা গুলি ছুড়লে পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও কোস্ট গার্ডের সমন্বয়ে ওই অঞ্চলে যৌথ চিরুনি অভিযান শুরু হয়েছে।
কোস্ট গার্ড সদর দপ্তরের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, সুন্দরবনের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, বনদস্যু দমন, জীববৈচিত্র সংরক্ষণ এবং উপকূলীয় অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে জয়মনিরঘোলে এই ভাসমান স্টেশনটি স্থাপন করা হয়। এই স্টেশনটি চালু হওয়ার পর থেকে সুন্দরবনের দস্যু ও চোরাকারবারিদের রসদ, লজিস্টিকস এবং অস্ত্র সরবরাহের পথ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। 
তিনি অভিযোগ করেন বলেন, অপরাধমূলক কর্মকান্ড বাধাগ্রস্ত হওয়ায় একটি স্বার্থান্বেষী মহল ও অসাধু চক্র বেশ কিছুদিন ধরে কোস্ট গার্ডের এই স্টেশনটি উচ্ছেদের পাঁয়তারা করে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার দুপুরে একদল দুষ্কৃতকারী লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ট্রলার ও নৌকা যোগে স্টেশনে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলার সময় সরকারি সম্পত্তি, অস্ত্র ও গোলাবারুদ রক্ষার্থে কোস্ট গার্ড সদস্যরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালান এবং ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। হামলায় কোস্ট গার্ডের ৩ জন সদস্যসহ ৪ জন আহত হয়েছেন। কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কোনো ধরনের হামলা, ভয়ভীতি বা বিভ্রান্তিমূলক অপপ্রচার চালিয়ে বাহিনীর চলমান সফল অপারেশন বন্ধ করা যাবে না।
এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে ভিন্ন তথ্য। জয়মনি এলাকার বাসিন্দা মিরাজ শেখ নামের এক যুবক গত দুই মাস (১০ এপ্রিল থেকে) নিখোঁজ রয়েছেন। পরিবারের দাবি, কোন এক বাহিনীর সদস্যরা সিভিল পোশাকে তাকে তুলে নিয়ে এই স্টেশনে রেখেছিল এবং এরপর থেকেই মিরাজ নিখোঁজ। বৃহস্পতিবার দুপুরে নিখোঁজ মিরাজের মা তাসলিমা বেগম, স্ত্রী মুক্তা বেগম এবং বোন লিজা ইসলামসহ তাদের স্বজন ও গ্রামবাসীরা ওই স্টেশনে মিরাজের খোঁজ নিতে যান বলে দাবি স্থানীয়দের। সেখানে কোস্ট গার্ড সদস্যদের সাথে তাদের তাদের বাকবিতন্ডা হয়। একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে স্টেশনে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। সংঘর্ষের পর আতঙ্কিত হয়ে স্থানীয় নারী-পুরুষসহ আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। ঘটনার পর পর মোংলা থানা পুলিশ এবং কোস্ট গার্ডের অতিরিক্ত সদস্য ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করে। 
মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান জানান, ঘটনার খবর পেয়েই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বর্তমানে জয়মনি ঠোটা এলাকার পরিবেশ স্বাভাবিক রয়েছে। কোস্ট গার্ড তাদের স্টেশনে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় লিখিত অভিযোগ দিলে এ ঘটনায় মামলা হবে। এখন পর্যন্ত কেউ গ্রেফতার হয়নি, তবে যৌথ বাহিনীর অভিযান চলছে। 
অপর দিকে, কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। সুন্দরবন ও উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা, শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড অতীতের ন্যায় ভবিষ্যতেও বদ্ধপরিকর থাকবে। প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করতে এবং এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে পুলিশ, কোস্ট গার্ড বাহিনীর যৌথ চিরুনি অভিযান ও কড়া নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ