খুলনা | শুক্রবার | ১২ জুন ২০২৬ | ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

‘দুর্বল’ ব্যাংকের জন্য ৪০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করছে সরকার

খবর প্রতিবেদন |
০২:৪৪ এ.এম | ১২ জুন ২০২৬


‘ঋণ কেলেঙ্কারি’ ও আর্থিক সংকটে জেরবার ব্যাংকগুলোকে ‘দুর্বল’ ব্যাংক হিসেবে তুলে ধরে সেগুলোর আর্থিক সক্ষমতা ফেরাতে ‘ঝুঁকিভিত্তিক’ তদারকি ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। একই সঙ্গে এমন ব্যাংকের রক্ষায় ৪০ হাজার কোটি টাকা সরকার ব্যয় করছে বলে তুলে ধরেন তিনি।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী অর্থনীতির পুনরুদ্ধার ও বিনিয়োগ প্রবাহ সচল রাখতে সরকারের মধ্যমেয়াদি কৌশলে প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে ‘ব্যাংক ও আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা’ ফিরিয়ে আনার কতা বলেন। এর মাধ্যমে এ খাতের প্রতি আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা হবে বলে আশা তার। ব্যাংক ও আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা অর্জনে বেশ কিছু পদক্ষেপের প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “দুর্বল ব্যাংকসমূহের আর্থিক সক্ষমুা পুনর্গঠনের জন্য ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি ব্যবস্থা চালু করা হবে এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে পুনমূলধনীকরণ ও ব্যবস্থাপনা সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। এ জন্য চলতি অর্থবছরে সরকার প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করছে।’’
আর্থিক খাতের ‘স্থিতিশীলতা’ নিয়ে অর্থমন্ত্রীর ভাষ্য, সরকারের লক্ষ্য ব্যাংক ও আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা এবং জবাদিহিতা প্রতিষ্ঠা করে আমানতকারীদের আস্থা ও দায়বদ্ধতা ফিরিয়ে আনা। পুঁজিবাজার সংস্কারের মাধ্যমে বিনিয়োগ উৎসাহ দেওয়া।
অর্থমন্ত্রী বলছেন, এর আগে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোট সরকারের মেয়াদ শেষে ২০০৫ সালে সামগ্রিক ব্যাংকিং খাতে মূলধন পর্যাপ্ততার অনুপাত ছিল ৭.৩ শতাংশ। ২০২৫ সালের শেষে তা ঋণাত্মক অর্থাৎ ২.৬৪ শতাংশে নেমে এসেছে।
সংসদে এ তথ্য তুলে ধরে বলা হয়, “২০০৫-০৬ অর্থবছরের বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি ১৮.৩ শতাংশ থেকে অনেক কমে ২০২৪-২৫ এ ৬.৫ শতাংশে নেমে এসেছে। লুটপাট, অব্যবস্থাপনা, স্ক্যাম ও ভুল নীতি গ্রহণের মাধ্যমে পুঁজিবাজারকে সম্পূর্ণ ধ্বংস এবং এর উপর বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুরোপুরি নষ্ট করা হয়েছে। বিএনপি যুবার এ দেশে সরকার পরিচালনা করেছে, কখনোই ব্যাংক, আর্থিক খাতসহ পুঁজিবাজারে কোনো সংকট সৃষ্টি হয়নি।’’
অর্থমন্ত্রীর তুলে ধরা প্রস্তাবগুলো হলো : 
১. খেলাপি ঋণ হ্রাস, ঋণ অনুমোদন ও পুনঃতফসিল ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং ব্যাংক পরিচালনায় জবাবদিহিতা জোরদার করা হচ্ছে। ২. আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে ব্যাংক পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ৩. বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।
৪. ব্যাংক কার্যক্রম পরিচালনায় রাজনৈতিক নিয়োগ ও হস্তক্ষেপ বন্ধ করা হয়েছে। এটিকে পারিবারিক প্রভাবমুক্ত করার জন্য আইনের প্রয়োজনীয় সংশোধন করা হয়েছে।
ব্যাংকিং খাতে আন্তর্জাতিক মানদÐভিত্তিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, মূলধন পর্যাপ্ততা এবং করপোরেট গভর্ন্যান্স নিশ্চিত করা হবে, যাতে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল ও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠতে পারে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, আর্থিক অন্তর্ভুক্তির পরিধি বাড়িয়ে নারী, তরুণ উদ্যোক্তা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য অর্থায়নের সুযোগ সম্প্রসারণ করা হবে।
তিনি বলেন, অর্থনীতি ‘পুনর্গঠনের’ অংশ হিসেবে একটি আধুনিক, শক্তিশালী ও টেকসই আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে ব্যাংক ও পুঁজিবাজার খাতে কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়ন করতে সরকার বদ্ধপরিকর। সরকার ঋণনির্ভর বিনিয়োগকে ইক্যুইটিতে রূপান্তর করেছে। সরকারের লক্ষ্য বর্তমান ঋণভিত্তিক অর্থনীতি থেকে দ‚রে সরে এসে বিনিয়োগভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলা বলে তুলে ধরেন আমির খসরু।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ