খুলনা | শনিবার | ১৩ জুন ২০২৬ | ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

প্রত্যাশা অনেক, প্রতিফলন ঘটানোর চেষ্টা করেছি : অর্থমন্ত্রী

খবর প্রতিবেদন |
০৫:৩৭ পি.এম | ১২ জুন ২০২৬

 

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, এবারের বাজেটের প্রেক্ষাপট ছিল ভিন্ন। একটি ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর আসে অন্তর্বর্তী সরকার।

দেড় দশকের বেশি সময়ের সংগ্রামের পর জনগণ একটি নির্বাচিত সরকার পেয়েছে। সরকারের প্রতি মানুষের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষা অনেক। সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটানোর চেষ্টা করা হয়েছে এবারের বাজেটে।

শুক্রবার (১২ জুন) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, শিক্ষা মন্ত্রী আ. ন. ম. এহসানুল হক, অর্থ প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, অর্থসচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী বলেন, এবারের বাজেটের প্রেক্ষাপট এ কারণে ভিন্ন যে সত্যিকার অর্থে বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ ও প্রতিটি নাগরিককে কেন্দ্র করে এটি প্রণয়ন করা হয়েছে।

তাদের জীবনযাত্রার মান, ভবিষ্যৎ ও প্রত্যাশার বিষয়গুলো সব সময় বাজেটে যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি। তবে এবারের বাজেটে দেশের প্রতিটি মানুষকে বাজেট ভাবনার মধ্যে নিয়ে আসার চেষ্টা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করেছি। যদি কোনো ভুল না হয়ে থাকে, তাহলে সমাজের সব শ্রেণি-পেশা ও সব ধরনের মানুষের জন্যই এই বাজেটে কিছু না কিছু রয়েছে। কেউ এই বাজেটের আওতার বাইরে আছে বলে আমি মনে করি না।

মন্ত্রী আরও বলেন, বিগত সময়ে দেশের সম্পদ লুণ্ঠন হয়েছে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং অর্থনীতি একটি ভঙ্গুর অবস্থায় চলে গেছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক ও সামাজিক অধিকারও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। ফলে সীমিত সম্পদের মধ্যে সবার প্রত্যাশা পূরণ করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল।

তিনি বলেন, এই সীমাবদ্ধতা, উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্য সামনে রেখে বাজেট প্রণয়ন করা সহজ কাজ ছিল না। তারপরও আমরা চেষ্টা করেছি প্রতিটি মানুষকে এই বাজেটের আওতায় নিয়ে আসতে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারের মূল স্লোগান ছিল অর্থনীতিকে গণতান্ত্রিক করা। অতীতে অর্থনীতি ছিল কিছু ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা সুবিধাভোগী মহলের নিয়ন্ত্রণে। যারা সংগঠিত বা প্রভাবশালী ছিলেন না, তারা অর্থনৈতিক পরিকল্পনার বাইরে থেকে গেছেন। এবারের বাজেটে সেই মানুষদেরও অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বাজেট বাস্তবায়নের জন্য কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তার একটি রোডম্যাপও দেওয়া হয়েছে। এ কারণেই এবারের বাজেটের চিন্তা, দর্শন ও দৃষ্টিভঙ্গি কিছুটা ভিন্ন।

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে অর্থমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি খাতে বড় ধরনের অভিঘাত এসেছে। বৈশ্বিক কারণে সৃষ্ট মূল্যস্ফীতির ওপর দেশের নিয়ন্ত্রণ সীমিত। তবে সরকার এমন পদক্ষেপ নিয়েছে, যাতে অভ্যন্তরীণভাবে ব্যয় কমিয়ে মূল্যস্ফীতির চাপ কমানো যায়। তিনি বলেন, এই পরিস্থিতিতে কীভাবে মানুষের ব্যয় কমানো যায়, সে বিষয়েই আমরা গুরুত্ব দিয়েছি।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ