খুলনা | শনিবার | ১৩ জুন ২০২৬ | ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

সম্পদের সীমাবদ্ধতায় অন্তর্ভুক্তিমূলক বাজেট কঠিন ছিল

‘প্রত্যাশা অনেক, প্রতিফলন ঘটানোর চেষ্টা করেছি’

খবর প্রতিবেদন |
০১:৪৪ এ.এম | ১৩ জুন ২০২৬


অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, এবারের বাজেটের প্রেক্ষাপট ছিল ভিন্ন। একটি ফ্যাসিস্ট সরকারের পুনের পর আসে অন্তর্বতী সরকার। দেড় দশকের বেশি সময়ের সংগ্রামের পর জনগণ একটি নির্বাচিত সরকার পেয়েছে। সরকারের প্রতি মানুষের প্রত্যাশা ও আকাক্সক্ষা অনেক। সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটানোর চেষ্টা করা হয়েছে এবারের বাজেটে। শুক্রবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট-পরর্বুী সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী বলেন, এবারের বাজেটের প্রেক্ষাপট এ কারণে ভিন্ন যে সত্যিকার অর্থে বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ ও প্রতিটি নাগরিককে কেন্দ্র করে এটি প্রণয়ন করা হয়েছে। তাদের জীবনযাত্রার মান, ভবিষ্যৎ ও প্রত্যাশার বিষয়গুলো সব সময় বাজেটে যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি। তবে এবারের বাজেটে দেশের প্রতিটি মানুষকে বাজেট ভাবনার মধ্যে নিয়ে আসার চেষ্টা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করেছি। যদি কোনো ভুল না হয়ে থাকে, তাহলে সমাজের সব শ্রেণি-পেশা ও সব ধরনের মানুষের জন্যই এই বাজেটে কিছু না কিছু রয়েছে। কেউ এই বাজেটের আওতার বাইরে আছে বলে আমি মনে করি না।
মন্ত্রী আরও বলেন, বিগণ সময়ে দেশের সম্পদ লুণ্ঠন হয়েছে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং অর্থনীতি একটি ভঙ্গুর অবস্থায় চলে গেছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক ও সামাজিক অধিকারও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। ফলে সীমিত সম্পদের মধ্যে সবার প্রত্যাশা পূরণ করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল।
তিনি বলেন, এই সীমাবদ্ধতা, উচ্চাকাক্সক্ষা এবং সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্য সামনে রেখে বাজেট প্রণয়ন করা সহজ কাজ ছিল না। তারপরও আমরা চেষ্টা করেছি প্রতিটি মানুষকে এই বাজেটের আওতায় নিয়ে আসতে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারের মূল স্লোগান ছিল অর্থনীতিকে গণতান্ত্রিক করা। অণীতে অর্থনীতি ছিল কিছু ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা সুবিধাভোগী মহলের নিয়ন্ত্রণে। যারা সংগঠিত বা প্রভাবশালী ছিলেন না, তারা অর্থনৈতিক পরিকল্পনার বাইরে থেকে গেছেন। এবারের বাজেটে সেই মানুষদেরও অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বাজেট বাস্তবায়নের জন্য কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তার একটি রোডম্যাপও দেওয়া হয়েছে। এ কারণেই এবারের বাজেটের চিন্তা, দর্শন ও দৃষ্টিভঙ্গি কিছুটা ভিন্ন।
বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে অর্থমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি খাতে বড় ধরনের অভিঘাত এসেছে। বৈশ্বিক কারণে সৃষ্ট মূল্যস্ফীতির ওপর দেশের নিয়ন্ত্রণ সীমিত। তবে সরকার এমন পদক্ষেপ নিয়েছে, যাতে অভ্যন্তরীণভাবে ব্যয় কমিয়ে মূল্যস্ফীতির চাপ কমানো যায়। তিনি বলেন, এই পরিস্থিতিতে কীভাবে মানুষের ব্যয় কমানো যায়, সে বিষয়েই আমরা গুরুত্ব দিয়েছি।
৪-৫ বছরে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে: আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের অর্থনীতি নতুন গতি ফিরে পাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য সরকার বড় ধরনের অবকাঠামো প্রকল্পের পরিবর্তে মানবসম্পদ উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় পরির্বুন এসেছে। দেশের শ্রমবাজারের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো দক্ষ জনশক্তির ঘাটতি। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের অনেকেই কম মজুরি পান। কারণ তাদের প্রয়োজনীয় দক্ষতা নেই। এ পরিস্থিতি পরির্বুনে সরকার কারিগরি ও দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো এমন জনশক্তি তৈরি করা, যারা দেশে কিংবা বিদেশে দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে পারবেন এবং বেশি আয় করতে সক্ষম হবেন। একই সঙ্গে সৃজনশীল অর্থনীতি, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রেও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, র্বুমানে সরকার কোনো নতুন মেগা প্রকল্প হাতে নেয়নি। বরং সামাজিক উন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা, কর্মসংস্থান, জলবায়ু অভিযোজন এবং দক্ষতা উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। অর্থনীতির সব স্তরের মানুষ যাতে উৎপাদন ও প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখতে পারে, সে লক্ষ্যেই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতিতে নানা সীমাবদ্ধতা থাকলেও সরকার একটি ইতিবাচক প্রবণতা তৈরি করতে চায়। ধারাবাহিকভাবে সংস্কার ও বিনিয়োগ কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া গেলে আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের অর্থনীতি দৃশ্যমান ভাবে ঘুরে দাঁড়াবে।
সবার জন্য সমৃদ্ধির বাংলাদেশ গড়তেই ভিন্নধর্মী বাজেট: ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিু বাজেটকে সরকার একটি ভিন্নধর্মী বাজেট হিসেবে উপস্থাপন করেছে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা ও অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘অণীতে দেশের অর্থনীতি কিছু গোষ্ঠী ও পৃষ্ঠপোষকতাপ্রাপ্ত মানুষের স্বার্থকেন্দ্রিক ছিল। এবার সেই ধারা থেকে বেরিয়ে অর্থনৈতিক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে উন্নয়নের মূল স্রোতে আনার চেষ্টা করা হয়েছে।’
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘সরকার প্রতিটি মানুষকে উন্নয়ন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিবেচনা করছে। সে কারণেই সবার জন্য বাংলাদেশ স্লোগানকে সামনে রেখে বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। অর্থনৈতিক গণতন্ত্রের ধারণাকে গুরুত্ব দিয়ে এমন একটি বাজেট তৈরি করা হয়েছে, যেখানে দীর্ঘদিন ধরে অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের বাইরে থাকা মানুষদেরও অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘অণীতে দেশের অর্থনীতি মূলত পৃষ্ঠপোষকতাভিত্তিক ছিল। কিছু ব্যক্তি, গোষ্ঠী কিংবা সংগঠিত স্বার্থান্বেষী মহল অর্থনৈতিক সুবিধা ভোগ করলেও অনেক মানুষ উন্নয়নের মূলধারার বাইরে রয়ে গিয়েছিল। এবারের বাজেটে সেই বৈষম্য কমিয়ে সকল শ্রেণির মানুষের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সীমিত সম্পদ ও বিভিন্ন ধরনের সীমাবদ্ধতা থাকা সত্তে¡ও বাজেটে সমাজের প্রায় সব শ্রেণির মানুষের জন্য কমবেশি বরাদ্দ, কর্মসূচি ও উন্নয়ন পরিকল্পনা রাখা হয়েছে। শুধু নীতিগত ঘোষণা নয়, সেগুলো বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় রোডম্যাপও স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এ কারণেই এবারের বাজেটের প্রেক্ষাপট, দর্শন ও পরিকল্পনা অন্য সময়ের তুলনায় ভিন্ন।’
বিশ্ব অর্থনীতির পরিবর্তিত বাস্তবুার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘গত দেড় দশকে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরির্বুন এসেছে। একসময় বিশ্ব অর্থনীতি নিয়মভিত্তিক কাঠামোর ওপর পরিচালিত হলেও র্বুমানে অনেক দেশ সুরক্ষাবাদী নীতির দিকে ঝুঁকেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে নতুন ধরনের অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যুদ্ধ-বিগ্রহ এখন বিশ্ব বাস্তবুার অংশ হয়ে উঠেছে। ইউক্রেন, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান সংঘাত অর্থনৈতিক কর্মকান্ডকে বাধাগ্রস্ত করছে। এতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়ছে এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য চ্যালেঞ্জ আরও বাড়ছে।’
বাংলাদেশের পরিস্থিতি সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বিগত সরকারের রেখে যাওয়া অর্থনৈতিক অবস্থা, অন্তর্বতী সরকারের সময়কার বাস্তবুা এবং বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে র্বুমান সরকারের সামনে চ্যালেঞ্জ অনেক বেশি। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই সরকার অর্থনৈতিক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, সবার জন্য বাংলাদেশ গড়ে তোলা এবং নৈতিকতার ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনার লক্ষ্যে কাজ করছে।’
সরকারি ব্যয়ের ক্ষেত্রে কঠোর মূল্যায়নের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতে প্রতিটি প্রকল্প ও ব্যয় চারটি মানদন্ডের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হবে। এগুলো হলো ভ্যালু ফর মানি, রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামাজিক বিবেচনা। এই চারটি বিষয়কে সামনে রেখেই আগামী দিনের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে একটি গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের প্রধান দায়িত্ব হলো জনগণের কাছে জবাবদিহি করা। সে কারণেই সরকার বাজেটের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে জনগণ ও গণমাধ্যমের প্রশ্নের উত্তর দিতে প্রস্তুত রয়েছে।’
অর্থমন্ত্রী জানান, বাজেটের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জন্য সহজ ভাষায় একটি নাগরিক বাজেট প্রকাশ করা হয়েছে, যাতে একজন নাগরিক এক নজরে পুরো বাজেটের মূল বিষয়গুলো বুঝতে পারেন। এ বিষয়ে জনগণের কোনো প্রশ্ন থাকলে সরকার তার ব্যাখ্যা দিতে প্রস্তুত বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সম্পদের সীমাবদ্ধতায় অন্তর্ভুক্তিমূলক বাজেট কঠিন ছিল:  আওয়ামী লীগের ফ্যাসিস্ট রিজিমে দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং অর্থনীতির মেরুদন্ড ভেঙে দেয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী । তিনি বলেন, মানুষ দীর্ঘ ফ্যাসিস্ট রিজিম ও অন্তর্বতী সরকারের সময় পার করে বাজেট পেয়েছে। আওয়ামী আমলে দেশের প্রতিষ্ঠান ভেঙে দেয়া হয়েছে, অর্থনীতির মেরুদন্ড ভেঙে দেয়া হয়েছে। তাই সম্পদের সীমাবদ্ধতার মধ্যে অন্তর্ভুক্তিমূলক বাজেট করা কঠিন ছিল।
বাজেটে মানুষের চাওয়ার প্রতিফলন ঘটেছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, বাজেটে প্রতিটি নাগরিকের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটানোর চেষ্টা হয়েছে। মানুষের প্রত্যাশা আকাশচুম্বি, আমরা সবার সাথে কথা বলে প্রত্যাশা প্রতিফলনের চেষ্টা করেছি বাজেটে। প্রতিটি নাগরিককে বাজেট চিন্তায় আনার চেষ্টা করেছে সরকার। কোনো শ্রেণি-পেশার মানুষ এই বাজেটের আওতার বাইরে থাকেনি।
তিনি দাবি করেন, অর্থনীতিকে গণতন্ত্রায়ণ করার উদ্দেশ্য ছিল এবারের বাজেটে। আগে যা ছিল কিছু মানুষ বা গোষ্ঠীর জন্য। কারণ সবার জন্য রোডম্যাপ দেয়া হয়েছে, বাস্তবায়নে কী কী করতে হবে তা পরিষ্কার করে দেয়া হয়েছে। কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ পরিবেশসহ প্রতিটি প্রকল্প ব্যায়ে ৪ ধরনের কন্সিডার করা হয়েছে বাজেটে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, এবারের বাজেটর ভাবনা, চিন্তা ও দর্শন ভিন্ন। ‘রুল বেইজড অর্ডার’ থেকে বিশ্ব সরে এসেছে, যুদ্ধ নতুন করে চ্যালেঞ্জ হচ্ছে। ফলে প্রোপার অর্থনীতিতে যাওয়া কঠিন হয়ে গেছে। অবিঘাত বেশি এসেছে জ্বালানি খাতে।
ব্যাংকিং ব্যবস্থার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ব্যাংকগুলাতে পাচার ও লুটপাটের কারণে ঘাটতি ও কস্ট অব ফান্ডের অভাবে মূল্যস্ফীতিতে পড়ছে।
ব্যবসা বান্ধব অবস্থা সৃষ্টিতে সরকার কাজ করছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ব্যবসা পরিচালন ব্যয় কমানের চেষ্টা করা হচ্ছে। পণ্য খালাস থেকে বাজার পর্যন্ত অধিক খরচ করতে হয়। সেটি প্রভাব ফেলে মূল্যস্ফীতিতে। ইতোমধ্যে তেল-গ্যাসের মূল্য বেড়েছে। বহিরাগত মূল্য বৃদ্ধিতে কিছু করার থাকে না। ফলে অভ্যন্তরীণ খরচ কমানোর চেষ্টা চলছে। এটি কমানো গেলে আগামীতে মূল্যস্ফীতি কমাতে ইতিবাচক প্রভাব রাখবে।
তিনি আরও বলেন, জ্বালানি ক্রয়ে বাফারস্টক রাখার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। পোর্টে খরচ ও দুর্নীতি কমানোরও চেষ্টা চলছে।
সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী বাজেটের ওপর দীর্ঘ বক্তব্য না দিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নোত্তর পর্বকে বেশি গুরুত্ব দেন এবং বাজেট সম্পর্কে গণমাধ্যমের মতামত ও পর্যবেক্ষণকে স্বাগত জানান।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, কৃষি, মৎস্য ও পানি সম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ (হাজী ইয়াছিন), স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন, শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোঃ মোস্তাকুর রহমান, এনবিআর চেয়ারম্যান মোঃ আবদুর রহমান খান এবং প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারবিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর গনি। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন অর্থ সচিব ড. মোঃ খায়রুজ্জামান মজুমদার।
এর আগে, বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী। এটি দেশের ৫৫তম জাতীয় বাজেট এবং বর্তমান সরকারের মেয়াদে অর্থমন্ত্রী হিসেবে আমির খসরুর প্রথম বাজেট।
সংসদে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করা হয়। এর বিপরীতে মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা, যার ফলে সামগ্রিক বাজেটে নিট ঘাটতি দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা।
বাজেটের এই বিশাল ঘাটতি পূরণে সরকার অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা (যার মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি এবং সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য উৎস থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা) এবং বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে।
প্রস্তাবিত বাজেটে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আকার ধরা হয়েছে ৬৮ লাখ ৩০ হাজার ২৪ কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ