খুলনা | শনিবার | ১৩ জুন ২০২৬ | ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

মুক্তিপণ দিয়ে বাড়ি ফিরলো বনদস্যুদের হাতে অপহৃত শ্যামনগরের চার জেলে

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা |
০২:১২ এ.এম | ১৩ জুন ২০২৬


মুক্তিপণের ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা দিয়ে অপহরণের ১১ দিন পর বাড়ি ফিরলেন সুন্দরবনে বনদস্যুদের হাতে অপহৃত সাতক্ষীরার শ্যামনগরের চার জেলে। বৃহস্পতিবার দুপুরের পর লোকলয়ে পৌঁছান জিম্মিদশা থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত চার জেলে। এর আগে দাবিকৃত মুক্তিপণ পেয়ে বৃহস্পতিবার ভোরে সুন্দরবনের অভ্যন্তরের একটি খালে তাদের রেখে যায় বনদস্যুরা। পরে স্বজনরা নৌকা নিয়ে এগিয়ে গিয়ে তাদের লোকালয়ে ফিরিয়ে নিয়ে আসে।
মুক্তি পাওয়া জেলেরা হলেন সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের কুলতলী গ্রামের সুলতান খাঁর ছেলে শাহাজান খাঁ, দিলবার খাঁর ছেলে ইয়াছিন খাঁ, হরিনগর গ্রামের আব্দুল গফুরের ছেলে শাহাজান আলী ও নজরুল গাইনের ছেলে শরিফুল ইসলাম।
জেলেদের স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ মে সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের কদমতলা স্টেশন থেকে বৈধ পাস নিয়ে সুন্দরবনে মাছ-কাঁকড়া ধরতে যান তারা। বন বিভাগের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ৩১ মে রাতের মধ্যে লোকালয়ে ফেরার কথা থাকলেও ফেরার পথে পশ্চিম সুন্দরবনের মালঞ্চ নদীর চালতেবেড়ে খাল ও সুবদের খাল এলাকায় বনদস্যুদের কবলে পড়েন তারা। ওই রাতে পাঁচটি মাছ ধরার নৌকা থেকে তাদেরসহ ছয় জেলেকে অপহরণ করে বনদস্যুরা।
অপহরণকারীরা নিজেদের কুখ্যাত ‘নানাভাই/ডন বাহিনীর’ সদস্য পরিচয় দিয়ে জেলেদের মুক্তির জন্য সাড়ে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। পরে জেলেদের মহাজন ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে দেন দরবারের মাধ্যমে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকায় সমঝোতা হয়। পরিবারের সদস্যরা বিকাশের মাধ্যমে মুক্তিপণের টাকা পরিশোধ করলেও সঙ্গে সঙ্গে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়নি। বরং দস্যুরা বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে কয়েকদিন ধরে তাদেরকে বনের মধ্যে আটকে রাখে।
অপহৃত জেলে শাহাজান খাঁ’র চাচাতো ভাই আবুল হোসেনের দাবি, মুক্তিপণের টাকা পরিশোধ করার পরও আমরা কয়েকদিন ধরে তাদের ফেরার অপেক্ষায় ছিলাম। দস্যুরা বলছিল সুন্দরবনে নৌকা চলাচল কম থাকায় তাদের পাঠানো যাচ্ছে না। বৃহস্পতিবার সকালে খবর পাই, সুন্দরবনের একটি খালে তাদের রেখে যাওয়া হয়েছে। পরে আমরা নৌকা নিয়ে এগিয়ে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসি। ফিরে আসা জেলেদের পরিবারের সদস্যরা জানান, দীর্ঘ ১১ দিন জিম্মি অবস্থায় থাকায় তারা শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। মুক্তিপণের দাবিতে বনদস্যুদর নির্যাতন ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাতে হয়েছে তাদের।
অপহৃত জেলেদের ফিরে আসার খবরে সাতক্ষীরা রেঞ্জার আওতাধীন কদমতলা ফরেস্ট স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তা মনিরুল করিম বলেছেন, অপহৃত জেলেরা নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের আগে সুন্দরবনে প্রবেশ করেছিলেন। ফেরার পথে তারা দস্যুদের কবলে পড়েন। তাদের ফিরে আসার বিষয়টি আমরা জেনেছি।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ