খুলনা | শনিবার | ১৩ জুন ২০২৬ | ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বিজিবির সঙ্গে পাহারায় এলাকাবাসী

ঝিনাইদহ সীমান্তে ৭ দিনে ৫ বার পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি |
০২:২৩ এ.এম | ১৩ জুন ২০২৬


ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) ঠেলে পাঠানো (পুশইন) ঠেকাতে বিশেষ টহল, হ্যান্ডমাইকে সতর্কবার্তা, ঝোপঝাড়ে অবস্থান এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্পৃক্ত করে তৎপরতা চালাচ্ছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বিজিবির দাবি, গত ৭ দিনে বিএসএফ পাঁচবার পুশ ইনের চেষ্টা চালালেও প্রতিবারই তা প্রতিহত করা হয়েছে।বিজিবি বলছে অবৈধভাবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে লোকজন ঢুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা অব্যাহত আছে। তবে সীমান্তে কঠোর নজরদারির কারণে এখন পর্যন্ত মহেশপুর সীমান্তে কোনো পুশইনের ঘটনা ঘটেনি।
বিজিবি সূত্র জানায়, ৫৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের আওতাধীন মহেশপুর উপজেলায় ১২টি বর্ডার অবজারভেশন পোস্ট (বিওপি) আছে। এর মধ্যে যাদবপুর, সামন্তা, মাটিলা, বাঘাডাঙ্গাসহ অন্তত পাঁচটি বিওপি পুশইনের ঝুঁকিতে আছে। এসব এলাকায় টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
মহেশপুরের সঙ্গে ভারতের ৭৮ কিলোমিটার সীমান্ত আছে। এর মধ্যে ৬৮ কিলোমিটার এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া থাকলেও যাদবপুর ও মাটিলা বিওপি-সংলগ্ন প্রায় ১০ কিলোমিটার সীমান্তে কোনো বেড়া নেই। ফলে ওই অংশকে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছে বিজিবি। সীমান্তের ওপারে আছে ভারতের নদীয়া জেলার বাঁশখালী থানা ও উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বাগদা থানা।
সীমান্তবর্তী গোপালপুর গ্রামের বাসিন্দা হারুন অর রশীদ বলেন, ‘বিএসএফ তাঁদের কাঁটাতার ঘেঁষা সড়কে বড় গাড়িতে করে লোকজন ধরে এনে জমা করেছিল। আমরা দেখেছি। পরে রাতে কাঁটাতারের আলো বন্ধ করে গেট খুলে দিয়ে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছে বিএসএফ। তবে এলাকাবাসী ও বিজিবির শক্ত অবস্থানের কারণে তা ব্যর্থ হয়েছে।’ তিনি আরও জানান, দিনের বেলাতেও পুশইনের চেষ্টা করা হয়েছে, যা স্থানীয় লোকজন মিলে প্রতিহত করেছেন।
শুক্রবার সরেজমিনে যাদবপুর, সামন্তা, মাটিলা, বাঘাডাঙ্গা, কুসুমপুর ও শ্রীনাথপুর বিওপি এলাকায় বিজিবির টহল জোরদার দেখা যায়। হাতে মাইক ও বাঁশি নিয়ে সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছিলেন। বিশেষ করে নাটিমা ইউনিয়নের গোপালপুর এবং কাজিরবেড় ইউনিয়নের সামন্তা ও মাটিলা সীমান্তে বিজিবির উপস্থিতি বেশি চোখে পড়ে। এক দল সদস্য খাবারের বিরতিতে গেলে অন্য দল দায়িত্ব নেয়।
যাদবপুর গ্রামের বাসিন্দা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সীমান্তে বিএসএফ’র পুশইন চেষ্টার আলামত দেখলেই আমরা সঙ্গে সঙ্গে তা বিজিবিকে জানাই। বিজিবির সঙ্গে রাত জেগে গ্রামের মানুষ সীমান্ত পাহারা দিচ্ছেন। গ্রামের মানুষ ঐক্যবদ্ধ। তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে একটা আতঙ্ক কাজ করছে, কোনো খারাপ কিছু না ঘটে যায়।’
মহেশপুর ৫৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সিইও লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ রফিকুল আলম বলেন, ‘৫৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীন সীমান্ত এলাকায় পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ সফল হয়নি। তারা পাঁচ দফা সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে পুশইনের চেষ্টা করেছিল। আমাদের সৈনিকেরা সার্বক্ষণিক সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। তাঁরা বিরতিহীন সীমান্তে নজরদারি ও টহল বজায় রেখেছেন।’ 
তিনি আরও বলেন, ‘সীমান্তবর্তী এলাকার সাধারণ মানুষ, আনসার সদস্য ও গ্রাম পুলিশের সদস্যরাও আমাদের সৈনিকদের সঙ্গে টহলে সহায়তা করছেন। তাঁরা আমাদের নানাভাবে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করছেন। দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত সুরক্ষিত রাখতে আমরা কোনো ছাড় দেব না।’

প্রিন্ট

আরও সংবাদ