খুলনা | রবিবার | ১৪ জুন ২০২৬ | ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

কানাডার বিশ্বকাপ উদ্বোধনী মঞ্চে বাংলাদেশের ছোঁয়া

ক্রীড়া প্রতিবেদক |
০৩:০১ পি.এম | ১৩ জুন ২০২৬

 

বিশ্বকাপের কানাডা অধ্যায় শুরু হলো টরন্টোতে। কানাডা-বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা ম্যাচের আগে টরন্টো স্টেডিয়ামে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ছিল দেশটির বহুসাংস্কৃতিক পরিচয়ের এক রঙিন প্রদর্শনী। আর সেই মঞ্চেই ছিল বাংলাদেশের ছোঁয়া—পারফরমারদের তালিকায় ছিলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন ডিজে ও সংগীত প্রযোজক সঞ্জয়।

ফিফা আগেই জানিয়েছিল, কানাডার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে দেশটির বৈচিত্র্য, কমিউনিটি ও ফুটবলের একত্রীকরণ শক্তিকে সামনে রেখে। সেই ভাবনাই দেখা গেছে অনুষ্ঠানের সাজসজ্জা ও পারফরম্যান্সে। কানাডিয়ান সংগীতের বড় নাম মাইকেল বুবলে, অ্যালানিস মরিসেট, অ্যালেসিয়া কারা, জেসি রেয়েজদের সঙ্গে বৈশ্বিক শিল্পীদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানকে দিয়েছে আন্তর্জাতিক রূপ।

মঞ্চে ছিলেন নোরা ফাতেহি, ভেজেড্রিম, এলিয়ানা, উইলিয়াম প্রিন্সদের মতো শিল্পীরাও। এই তারকাবহুল তালিকাতেই জায়গা করে নেন সঞ্জয়। বাংলাদেশের দর্শকদের জন্য এটিই ছিল অনুষ্ঠানের সবচেয়ে আবেগের জায়গা। ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত একজন সংগীতশিল্পীর উপস্থিতি নিছক বিনোদন নয়, প্রবাসী বাংলাদেশি পরিচয়েরও এক দৃশ্যমান মুহূর্ত।

সঞ্জয় দেব জন্মসূত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত, বেড়ে ওঠা যুক্তরাষ্ট্রে। ইলেকট্রনিক ড্যান্স মিউজিক, পপ ও দক্ষিণ এশীয় সাউন্ডের মিশ্রণে নিজের আলাদা পরিচয় তৈরি করেছেন তিনি। বিশ্বকাপের অফিশিয়াল সংগীত আয়োজনেও তাঁর নাম যুক্ত হয়েছে। তাই টরন্টোর মঞ্চে তাঁর উপস্থিতি ছিল বিশ্বকাপের সাংস্কৃতিক পরিসরে দক্ষিণ এশীয় ও বাংলাদেশি প্রতিনিধিত্বের গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত।

কানাডার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি মেক্সিকোর আজতেকার আবেগঘন শুরুর তুলনায় আলাদা চরিত্রের ছিল। এখানে বেশি জোর ছিল পরিচয়, বৈচিত্র্য ও কমিউনিটির ওপর। বড় কানাডিয়ান পতাকা, সোনালি ফুটবলকেন্দ্রিক মঞ্চসজ্জা, আদিবাসী সংস্কৃতির উপস্থাপনা এবং স্থানীয় ও বৈশ্বিক শিল্পীদের একসঙ্গে আনা—সব মিলিয়ে অনুষ্ঠানটি কানাডার বহুজাতিক সমাজের প্রতিফলন হয়ে ওঠে।

মাইকেল বুবলে ও অ্যালানিস মরিসেট ছিলেন অনুষ্ঠানের সবচেয়ে আলোচিত কানাডিয়ান মুখ। মরিসেট কানাডার জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেন। বুবলের পারফরম্যান্সও গ্যালারিতে উষ্ণ আবহ তৈরি করে। তবে বড় তারকাদের ভিড়েও সঞ্জয়ের নাম বাংলাদেশের পাঠকের জন্য আলাদা গুরুত্ব রাখে।

বিশ্বকাপের মতো আয়োজনে বাংলাদেশ মাঠে নেই, কিন্তু সাংস্কৃতিক মঞ্চে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত একজন শিল্পীর উপস্থিতি এক ধরনের প্রতীকী অংশগ্রহণ। ফুটবল শুধু মাঠের ৯০ মিনিট নয়; বিশ্বকাপের গান, অনুষ্ঠান, শহর, সমর্থক সংস্কৃতি—সব মিলিয়েই এটি বৈশ্বিক উৎসব। সেই উৎসবে সঞ্জয়ের জায়গা পাওয়া বাংলাদেশের সংগীতপ্রেমীদের জন্যও গর্বের মুহূর্ত।

টরন্টোর অনুষ্ঠান খুব দীর্ঘ বা ভারী ছিল না। বরং ম্যাচের আগে দর্শকদের আবেগ তৈরি করে দ্রুত ফুটবলে ফেরানোর মতোই সাজানো ছিল। কানাডা প্রথমবার নিজেদের মাটিতে পুরুষ বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলতে নামার আগে এই অনুষ্ঠান ছিল দেশটির জন্য ঐতিহাসিক মুহূর্ত।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ