খুলনা | রবিবার | ১৪ জুন ২০২৬ | ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বাঙালিত্বের সার্টিফিকেট কলকাতার কাছ থেকে ধার করতে হবে না: তথ্যমন্ত্রী

খবর প্রতিবেদন |
০৫:০৩ পি.এম | ১৩ জুন ২০২৬


৫৬ হাজার বর্গমাইলের কোনো বাঙালিকে বাঙালিত্বের সার্টিফিকেট নেওয়ার জন্য সীমান্তের ওপারে গিয়ে কলকাতা অথবা কারো কাছে ধার করতে হবে না বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ভারতের জনগোষ্ঠীর সঙ্গে বাংলাদেশের জনগোষ্ঠীর যোগফল যারা মেলাতে চান, তাদের উদ্দেশ্য ‘সুদূরপ্রসারী দুর্ভিসন্ধিমূলক’ অথবা তারা ‘বোকা’।

শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের মুক্তিযোদ্ধা মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘দেশ পুনর্গঠনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন’ শীর্ষক এই সভার আয়োজন করে ‘আমরা বাংলাদেশি’ নামের একটি সংগঠন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘শক্তি হচ্ছে ইতিহাসের, শক্তি হচ্ছে জনগণের, শক্তি হচ্ছে সত্যের। এই উপমহাদেশে ৫৬ হাজার বর্গমাইলের বাইরে যারা বাংলায় কথা বলেন, আর আমরা যারা ৫৬ হাজার বর্গমাইলের মধ্যে থেকে বাংলায় কথা বলি, আমাদের মধ্যে ভাষার মিল আছে এ কথা সত্য। কিন্তু এ কথাও সত্য যে আমাদের সাংস্কৃতিক মনোজগতের মধ্যে একটি মৌলিক পার্থক্য আছে। যারা এটাকে আড়াল করতে চান তারা হয় বোকা অথবা তাদের কোনো সুদূরপ্রসারী দুর্ভিসন্ধি আছে।’

ঐতিহাসিক ও নৃতাত্ত্বিক বিবর্তনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ঐতিহাসিক ও নৃতাত্ত্বিকভাবেই এই দেশের জন্ম নেওয়া বাঙালি আমরা। ইতিহাস থেকে এ কথাও খুব পরিষ্কারভাবে জেনেছি এবং প্রমাণিত, জাতপাতের কাঠামোর কারণে কেমন করে সনাতন ধর্মের পরে বৌদ্ধ ধর্ম, বৌদ্ধ ধর্মের পরে কীভাবে এখানে নতুন করে ইসলামের সাম্যবাদের আলোকে এই এলাকার সব মানুষ দলে দলে ধর্মান্তরিত হয়েছেন। পবিত্র কোরআনকে গ্রহণ করেছেন। এটাও ইতিহাসের জানা সত্য। কেউ বানিয়ে কথা বলছে না। এই বিবর্তন আমাদের সংস্কৃতির মধ্যে যে একটা সকীয়তা দিয়েছে, সেই সকীয়তার নাম হচ্ছে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ।’

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘আমাদের বাংলাদেশের ক্ষণজন্ম পুরুষ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের এটাই হচ্ছে সবচাইতে বড় অবদান। ইতিহাসের এই অনুউন্মোচিত বিষয়টিকে তিনি উন্মোচিত করে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠা করেছেন। যা আমাদের নৃতাত্ত্বিক ঐতিহ্য, ভাষাগত ঐতিহ্য ও ধর্মীয় মূল্যবোধের সংমিশ্রণে তৈরি স্বকীয় সংস্কৃতিকে স্পষ্ট করে দেয়। সে কারণে আমরা গর্বের সঙ্গে দাবি করতে পারি আমরা বাংলাদেশি। আমাদের কাছে সবার আগে বাংলাদেশ।’

আঞ্চলিক রাজনীতির সমীকরণ টেনে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এই কথা মেনে নিয়ে কেউ যদি সীমান্ত দিয়ে আমাদের মধ্যে প্রবেশ করতে চান আমাদের কোনো আপত্তি নাই। কিন্তু এই কথাকে বাইরে রেখে কেউ যদি বলতে চান, ভারতের জনগোষ্ঠীর সঙ্গে শুধুমাত্র বাংলাদেশের জনগোষ্ঠীর যোগফল আমরা তাদেরকে বিনয়ের সঙ্গে মনে করি দিতে চাই, সার্কের জনগোষ্ঠীর সংখ্যা হচ্ছে এখন ২২০ কোটি মানুষ। আমাদেরকে যদি পৃথিবীতে আমাদের দেশের বাইরে নতুন কোনো জনশক্তির উপরে ভর করে আঞ্চলিক এবং বৈশ্বিক রাজনীতিতে জাতীয় স্বার্থে ও অন্য সকলের স্বার্থকে নিশ্চিত করতে হয় তাহলে সার্কের ২২০ কোটি মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে সকলে মিলে।’

তিনি বলেন, ‘সার্কের ঐক্য যারা চায় না তারা অন্য যেকোনো ঐক্যের কথা বলা মানেই আমরা সন্দেহের চোখে দেখব। আমাদের কাছে বাংলাদেশের স্বার্থ আঞ্চলিক ক্ষেত্রে সার্ক ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে জাতিসংঘ। জাতিসংঘ, সার্ক ও বাংলাদেশ এর বাইরে আর কোনো কাঠামোর ব্যাখ্যা যিনিই বলবেন, তাকে আমরা সন্দেহের চোখে দেখতে বাধ্য। সবার আগে বাংলাদেশ এই কথা মাথায় রেখে আঞ্চলিকতার জন্য সার্ক আন্তর্জাতিকতার জন্য জাতিসংঘ, এই পথ ধরে আমরা একটা বৈশ্বিক মানচিত্রে আমাদের সম্মানজনক মর্যাদা, আঞ্চলিক মানচিত্রে আমরা আমাদের সম্মানজনক মর্যাদা অর্জন করতে চাই।’

সংগঠনের মূল উদ্যোক্তা সৈয়দ এহসানুল হুদার সভাপতিত্বে ও তমিজ উদ্দিন টিটুর পরিচালনায় আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নূরুল হক নূর, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, বিএনপি নেতা রাশেদ খান ও মোমিনুল আমিন প্রমুখ।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ