খুলনা | রবিবার | ১৪ জুন ২০২৬ | ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

সুন্দরবনে মধু আহরণের অভিযোগে ১ হাজার কেজি মধুসহ ১১ মৌয়াল আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা |
০৫:৪৩ পি.এম | ১৩ জুন ২০২৬


নিষেধাজ্ঞা বলবত থাকা অবস্থায় অবৈধভাবে সুন্দরবনে প্রবেশ পূর্বক মধু আহরণ করে ফেরার পথে ১১ মৌয়ালকে আটক করেছে বন বিভাগের সদস্যরা। এসময় তাদের কাছ থেকে ২টি নৌকাসহ এক হাজার কেজি মধু জব্দ করা হয়।

শুক্রবার (১২ জুন) সকালে  সাতক্ষীরা রেঞ্জের টেংরাখালী বন টহল ফাঁড়ির সদস্যরা গহীন সুন্দরবন থেকে তাদের আটক করা হয়। পরে লোকায়লে এনে বিকালে তাদেরকে আদালতে পাঠানো হয়।

আটককৃতরা মৌয়ালরা হলেন, সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের ৯নং সোরা গ্রামের বানছার উদ্দীন গাজীর ছেলে মো. আমজাত হোসেন (৬৪), একই গ্রামের হাকিম শেখের ছেলে মো. কামরুল শেখ (৪৫), মতিয়ার রহমানের ছেলে আল-আমিন (৪০), আছান হাবিব (৩৫), মো. রাব্বানী (৩৫), মো. হায়াত আলী গাজী (৫৫), মো. মোবারক শেখ (৩২), মো. বাবলু রহমান (৩০), মো. মনিরুল খাঁ (৩৮), মো. আবিয়ার মালী (৪৫) ও মো. কবিররুল ইসলাম (৪৫)।

পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মশিউর রহমান বলেন, নিষেধাজ্ঞার সময় অবৈধভাবে সুন্দরবনে প্রবেশ করে মধু আহরণ শেষে ফেরার পথে টেংরাখালী টহল ফাঁড়ির পিনমারি খাল এলাকা থেকে ১ হাজার কেজি মধু ও দুটি নৌকাসহ ১১ মৌয়ালকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বন আইনে মামলা দায়ের করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

তবে আটক হওয়া মৌয়ালদের অভিযোগ, বনবিভাগের দালাল জালাল মোল্লার মাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে চুক্তি করে তারা সুন্দরবনে প্রবেশ করেছিলেন। গত ১ জুন থেকে সুন্দরবনে সকল ধরনের প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকলেও ওই চুক্তির ভিত্তিতেই তারা মধু সংগ্রহের জন্য বনে যান। শুক্রবার (১২ জুন) ফেরার পথে বনবিভাগের সদস্যরা তাদের আটক করে।

যদিও এসিএফ মশিউর রহমান বলেন, এ ধরনের অভিযোগের বিষয়টি আমি আপনাদের মাধ্যমেই প্রথম শুনলাম। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।

অন্যদিকে চুক্তির অভিযোগ অস্বীকার করে জালাল মোল্লা বলেন, গত ১৫ মে বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন থেকে বৈধভাবে তিনটি নৌকার পাস করিয়ে তাদের মধু আহরণের জন্য সুন্দরবনে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু সেখানে দুটি নৌকা বনদস্যুদের কবলে পড়ে। এ কারণে পাসের মেয়াদ শেষ হলেও তারা সময়মতো লোকালয়ে ফিরতে পারেনি। পরে ডাকাতদের কবল থেকে মুক্ত হয়ে তারা বনসংলগ্ন কাটা এলাকায় আসে। সেখান থেকে টেংরাখালী এলাকায় পৌঁছালে সিপিজি সদস্যরা তাদের আটক করে।

তিনি আরও দাবি করেন, মৌয়ালদের পাসের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় তারা আইনের দৃষ্টিতে অবৈধ হয়ে গেছে। তবে অতিরিক্ত সময়ের জন্য সরকারের নির্ধারিত রাজস্ব পরিশোধের সুযোগ দিয়ে তাদের মুক্তি দেওয়া যেতে পারে। তারা স্থানীয় রাজনৈতিক বিরোধেরও শিকার হয়েছে।

উল্ল্যেখ্য, প্রাণ প্রকৃতি সুরক্ষায় সুন্দরবনে প্রবেশে টানা তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা চলছে। গত ১ জুন থেকে সুন্দরবনের জীব বৈচিত্র্য সুরক্ষায় ৩ মাসের নিষেধাজ্ঞা জারি করে বনবিভাগ। এই নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন সুন্দরবনে প্রবেশ করতে পারবে না পর্যটক থেকে সাধারণ মানুষ কেউই। পুরোপুরি বন্ধ থাকবে বন থেকে মাছ, কাঁকড়া, মধু ও অন্যান্য সম্পদ আহরণ। কিন্তু অবৈধভাবে প্রবেশ করে মধু আহরণ করছিলেন তারা। তবে শেষ রক্ষা হয়নি।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ