খুলনা | সোমবার | ১৫ জুন ২০২৬ | ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

মালিককে না পেয়ে চালককে জরিমানা

আশাশুনিতে আমদানীকৃত ভারতীয় অবৈধ বাগদার ডিম জব্দ

আশাশুনি (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি |
১১:৪২ পি.এম | ১৪ জুন ২০২৬


অবৈধভাবে ভারতীয় বাগদা চিংড়ির ফুটানো ডিম (নকলি) আশাশুনিতে আটকের পর ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ড্রাইভারকে ৫ হাজার টাকা জরামানা ও ডিম নদীতে অবমুক্ত করা হয়েছে। শনিবার সকালে এ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। 
প্রতক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, জেলার দেবহাটা উপজেলার বালিয়াঘাটা গ্রামের আলম বারীর ছেলে প্রাইভেটকার চালক সাইদুল ইসলাম শনিবার রাত সাড়ে ১১ টার দিকে সাতক্ষীরার বর্ডার এলাকা থেকে অবৈধভাবে ৮ পলি ভারতীয় বাগদা চিংড়ীর ডিম নিয়ে আশাশুনির মানিকখালি বিসমিল্লাহ হ্যাচারীর উদ্দেশ্যে আসে। স্থানীয় জনতা সন্দেহজনকভাবে ডিমসহ প্রাইভেটকার হ্যাচারির গেট দিয়ে ঢুকার মুখেই আটক করে পুলিশে খবর দেয়। থানা পুলিশ গভীর রাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছে সকল মালামাল ও প্রাইভেটকার চালককে থানা হেফাজতে নেয়া হয়। রোববার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার শ্যামানন্দ কুন্ডু ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জব্দকৃত ৮ পলি বাগদার ডিম মরিচ্চাপ নদীতে অবমুক্ত করেন এবং মৎস্য সংরক্ষণ আইন ১৯৫০ ধারায় প্রাইভেট কার চালককে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। 
প্রাইভেট চালক সাইদুল ইসলাম জানান, বাগদার ডিমসহ পলিগুলো বিসমিল্লাহ হ্যাচারীতে পৌঁছে দিতে তার প্রাইভেট ভাড়া করা হয়। হ্যাচারীতে পৌঁছানোর প্রাক্কালে স্থানীয় জনতা গাড়ী আটক করে।  
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার শ্যামানন্দ কুন্ডু জানান, জব্দকৃত বাগদার ডিম অবৈধভাবে ভারত থেকে আমদানী করা বলে ড্রাইভারের স্বীকারোক্তি মতে বোঝা যায়। সেজন্য হ্যাচারীর মালিক বা কর্তৃপক্ষের কাউকে না পেয়ে আপাতত ড্রাইভার সাইদুলকে জরিমানা করা হয়েছে এবং বাগদার ডিম মরিচ্চাপ নদীতে অবমুক্ত করা হয়েছে, সাইদুলকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা। বিসমিল্লাহ হ্যাচারীর বিষয়টি খতিয়ে দেখে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান। 
প্রসঙ্গত সরকারিভাবে প্রতি বছর ১৫ এপ্রিল থেকে জুন মাস পর্যন্ত দেশের সাগর থেকে ডিম আহরণের জন্য রানী বাগদাসহ সকল মাছ ধরা বা আহরণ করা নিষিদ্ধ। সে কারনে বিসমিল্লাহ হ্যাচারীর মালিকসহ অবৈধ হ্যাচারী ব্যবসায়ীরা প্রতি বছর এ মৌসুমে অধিক লাভের আসায় ভারত বা থাইল্যান্ড থেকে অবৈধভাবে বাগদার ডিম (নকলি) গভীর রাতে আমদানী করে থাকে। ফলে কেমিক্যাল দেয়া নকলি হ্যাচারীতে ফুটিয়ে বাজারজাত করায় মৎস্য চাষীরা চাষে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। ভুক্তভোগী মৎস্য চাষীরা এর প্রতিকার প্রার্থনা করেছে। 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ