খুলনা | সোমবার | ১৫ জুন ২০২৬ | ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

শ্যামনগরের কাশিমাড়ীর সফিউল্লার চায়ের দোকানের আড়ালে মাদকের রমরমা ব্যবসা ‎‎‎

শ্যামনগর প্রতিনিধি |
১১:৫৮ পি.এম | ১৪ জুন ২০২৬


‎সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কাশিমাড়ী গাজীর বাজারের পূর্ব পাশে অবস্থিত একটি সাধারণ চায়ের দোকানকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে মাদক, জুয়া ও বখাটেদের অভয়ারণ্য। সরদার পাড়ার রজব সরদারের ছেলে সফিউল্লার মালিকানাধীন চায়ের ব্যবসার আড়ালে চলছে রমরমা মাদক ব্যবসা ও কেরাম বোর্ড জুয়ার আসর। গভীর রাত পর্যন্ত উচ্চ শব্দে সাউন্ড বক্সে গান বাজানো, নগ্ন ছবি ছবি দেখা এবং বখাটেদের আনাগোনার কারণে স্থানীয় জনজীবন এখন বিপর্যস্ত।
বিতর্কিত এই চায়ের দোকানটির একদম গা ঘেঁষেই রয়েছে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও একটি মাদ্রাসাসহ সরদার বাড়ী জামে মসজিদ এবং ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা। ‎স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ প্রতিদিন সকাল থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত এই দোকানে মাদক সেবন ও জুয়ার আসর বসে। মাদকসেবী ও জুয়াড়িদের চিৎকার এবং উচ্চ শব্দে গান-বাজনার কারণে রাস্তায় চলাচলের সাধারণ মানুষ ছাত্র-ছাত্রীসহ মুসল্লি এবং দোকানের আশেপাশের বসতবাড়ীতে সাধারণ মানুষের থাকাটাই এখন অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এমনকি মসজিদের পবিত্রতা নষ্ট হচ্ছে এবং মুসল্লিদের ইবাদত-বন্দেগিতে চরম বিঘœ ঘটছে। ছাত্রীদের ইভটিজিং ও বখাটেদের দৌরাত্ম্য ‎সবচে উদ্বেগজনক। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চলাকালীন সময়ে এই দোকানে আসা বখাটেরা ছাত্রীদের প্রতিনিয়ত ইভটিজিং ও উত্যক্ত করছে। স্কুল-মাদ্রাসাগামী ছাত্রীদের নিরাপত্তা এখন চরম হুমকির মুখে। অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের একা স্কুলে পাঠাতে আতঙ্কিত বোধ করছেন।
‎স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই অপকর্মের মূল হোতা দোকানদার সফিউল্লাহ হলেও তার এই সিন্ডিকেটের অন্যতম সক্রিয় সদস্য হিসেবে জড়িত জাহেরুল্লাহ, নাহিদ, রিয়াজুল, তাইজুল, মারুফ হোসেনসহ কয়েকজন। ‎নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন আমরা বাধা দিতে গেলে সন্ত্রাসী কায়দায় দলবল নিয়ে হুমকি দেয়। ‎একটি চায়ের দোকানের জন্য সন্তানদের ভবিষ্যৎ আজ ধ্বংসের মুখে। যুবসমাজ মাদকের দিকে ঝুঁকছে, মেয়েরা নিরাপদে স্কুলে যেতে পারছে না, আবার রাতে শান্তিতে ঘুমানোরও উপায় নেই। ‎এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং মসজিদের পবিত্রতা রক্ষা করতে অবৈধ মাদক ও জুয়ার আড্ডাটি বন্ধে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ