খুলনা | মঙ্গলবার | ১৬ জুন ২০২৬ | ৩ আষাঢ় ১৪৩৩

ইরানের জব্দ করা ১২ বিলিয়ন ডলার ছেড়ে দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

খবর প্রতিবেদন |
০২:১৭ পি.এম | ১৫ জুন ২০২৬


দীর্ঘ সংঘাতের পর একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র।

শুক্রবার (১৯ জুন) সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করবে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই দেশ। চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকেই হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

কাতারের একটি প্রতিনিধিদল তেহরানে ইরানি আলোচক দলের কাছে সম্ভাব্য চুক্তির খসড়া হস্তান্তর করেছেন। খসড়ার থাকা ১৪টি শর্ত পর্যালোচনা শেষে দেশটি প্রতিদ্বন্দ্বী যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরে সম্মত হয়েছে বলৈ মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান জানিয়েছে। এসব দফার মধ্যে অন্যতম আলোচিত বিষয় মার্কিন জব্দকৃত ২৪ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ইরানের কাছে হস্তান্তরের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহের জানিয়েছেন, আলোচনা শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছে জব্দকৃত ১২ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ হস্তান্তর করবে। দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত ১৪ দফা সমঝোতা স্মারকে বলা হয়েছে, চুক্তি স্বাক্ষরের পর ৬০ দিন ধরে আলোচনা চলবে। আর সেই সময়ের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রে জব্দ হয়ে থাকা ইরানের ২৪ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ছেড়ে দেওয়া হবে।

ফরাসি সংবাদ সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত না হওয়া খসড়াটিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ‘আলোচনা শুরুর আগেই এই অর্থের অর্ধেক ইরানকে ফেরত দেওয়া হবে।’

ট্রাম্পের প্রশাসন ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তির খুঁটিনাটি নিয়ে এখনও কোনো স্পষ্ট মন্তব্য করেনি। এ কারণে বিষয়টি বিতর্ক তৈরি করতে পারে। কারণ যুক্তরাষ্ট্র বহুদিন ধরে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করতে এবং তাদের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত নিয়ন্ত্রণে আনতে চেষ্টা করছে।

বিভিন্ন সময় প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুসারে, ধারণা করা হয় গত বছর মার্কিন হামলার পর সেই ইউরেনিয়ামের মজুতের একটি অংশ ভূগর্ভে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।

গতকাল রোববার নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরান কি ২০ বছরের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ রাখবে, তা নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে এখনো আলোচনা চলছে। অর্থাৎ এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি; দুই পক্ষ শর্ত ও সময়সীমা নিয়ে দরকষাকষি চালিয়ে যাচ্ছে।

সমঝোতার মূল ১৪টি দফা
সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের অপেক্ষায় থাকা এই খসড়া চুক্তির মূল ১৪টি শর্ত নিচে তুলে ধরা হলো:

১. লেবাননসহ সব যুদ্ধক্ষেত্রে অবিলম্বে এবং স্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা হবে।

২. ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ না করার অঙ্গীকার করবে।

৩. নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করা হবে এবং আগামী ৩০ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করা হবে।

৪. ইরানের পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলো থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনী প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে।

৫. ইরানের তেল খাতের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করা হবে এবং ইরানকে তার জ্বালানি আয়ের ওপর পূর্ণ প্রবেশাধিকার দেওয়া হবে।

৬. ইরানের যুদ্ধপরবর্তী পুনর্গঠন পরিকল্পনা ও অর্থায়নের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা ৩০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি প্রস্তাব রেখেছে।

৭. চূড়ান্ত চুক্তির লক্ষ্যে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি বিশেষ আলোচনা শুরু হবে, যার মূল কেন্দ্রবিন্দু হবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং স্থায়ীভাবে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার।

৮. ইরান ‘পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি’র (এনপিটি) আওতায় পুনরায় নিশ্চিত করবে যে তারা কোনো পরমাণু অস্ত্র তৈরি বা উন্নয়ন করবে না।

৯. এই অন্তর্বর্তীকালীন আলোচনা চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চলে নতুন কোনো সেনা মোতায়েন করতে পারবে না।

১০. আলোচনাকালীন ইরানের ওপর নতুন কোনো অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা যাবে না।

১১. আলোচনা চলাকালেই ইরানের স্থগিত থাকা ২৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ফ্রিজড অ্যাসেট বা সম্পদ অবমুক্ত করা হবে।

১২. চুক্তির শর্তগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না, তা তদারকির জন্য একটি যৌথ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা বা কমিটি গঠন করা হবে।

১৩. এই চূড়ান্ত চুক্তির বৈধতার জন্য জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন বা সমর্থন নেওয়া হবে।

১৪. ইরানের নিজস্ব ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক মিত্র বা সহযোগী গোষ্ঠীগুলোর প্রতি তেহরানের সমর্থনের বিষয়টি এই আলোচনার আওতার বাইরে (সম্পূর্ণ নিরাপদ) রাখা হবে।
 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ