খুলনা | মঙ্গলবার | ১৬ জুন ২০২৬ | ৩ আষাঢ় ১৪৩৩

অভিষেকেই স্পেনকে রুখে দিয়ে বিশ্বকাপে স্মরণীয় ড্র কেপ ভার্দের

ক্রীড়া প্রতিবেদক |
১২:০৭ এ.এম | ১৬ জুন ২০২৬


একের পর এক আক্রমণ শাণাল স্পেন, ম্যাচ জুড়ে খেলা হলো কেপ ভার্দের অর্ধে, তাদের ডি-বক্সের আশেপাশেই থাকল বল; কিন্তু কোনোকিছুতেই আফ্রিকার দলটির মনোযোগে বিঘ্ন ঘটল না। অসাধারণ দৃঢ়তায় রক্ষণ দেয়াল মজবুত রাখল তারা। চোট কাটিয়ে ফেরা লামিনে ইয়ামাল দলের খুব প্রয়োজনে মাঠে নামলেন; তিনিও পারলেন না দলকে কাঙ্ক্ষিত ঠিকানায় নিতে।

শেষ পর্যন্ত পারলো না স্পেন। তাদের রুখে দিলো অপেক্ষাকৃত কম শক্তির দল কেপ ভার্দে। তাদের প্রতিরোধ, জমাট রক্ষণ আর গোলকিপারের নিপুণ সেভে গোল ছাড়াই মাঠ ছাড়তে হলো শক্তিশালী স্পেনকে।

কেপ ভার্দের এই অর্জনের কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন গোলরক্ষক ভোজিনিয়া। ম্যাচজুড়ে স্প্যানিশ আক্রমণের সামনে যেন মানবপ্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন ৪০ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক। করেছেন ৭টি অসাধারণ সেভ, যার কয়েকটি ছিল নিশ্চিত গোল বাঁচানো। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই আবেগে ভেঙে পড়েন ভোজিনিয়া। সেটি হতাশার নয়, বরং এক স্বপ্নপূরণের আনন্দ।

কেপ ভার্দের মানুষের জন্য এ এক উৎসবের মুহূর্ত, আর সেই উৎসবের প্রধান কারিগর হয়ে রইলেন তাদের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক। বিশ্বকাপের মঞ্চে স্পেনের মতো পরাশক্তিকে রুখে দিয়ে তিনি উপহার দিলেন দেশের ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে গৌরবময় সন্ধ্যাগুলোর একটি।

ম্যাচজুড়ে বলের দখল ছিল স্পেনের নিয়ন্ত্রণে। তবে আধঘণ্টা পার হওয়ার পরও কেপ ভার্দের রক্ষণ ভাঙতে পারেনি তারা। এমনকি শট অন টার্গেটও ছিল মাত্র একটি। প্রথমার্ধের শেষ দিকে অবশ্য চাপ বাড়ায় স্পেন। ফেরান তোরেস গোলের দারুণ একটি সুযোগ নষ্ট করেন, তার শট গিয়ে লাগে ক্রসবারে। ফিরতি বলে মিকেল ওইয়ারসাবালের হেড অসাধারণ দক্ষতায় ফিরিয়ে দেন ভোজিনিয়া।

প্রথমার্ধের একেবারে শেষ মুহূর্তেও তোরেস ও আয়মেরিক লাপোর্তের দুটি সম্ভাবনাময় আক্রমণ ব্যর্থ করে দেন কেপ ভার্দের গোলরক্ষক। তার দৃঢ়তায় গোলশূন্য সমতায় বিরতিতে যায় দুই দল।

দ্বিতীয়ার্ধেও একই চিত্র। আক্রমণের পর আক্রমণ চালিয়েও গোলের দেখা পাচ্ছিল না স্পেন। শেষ পর্যন্ত ৭১ মিনিটে মিকেল মেরিনোর বদলি হিসেবে মাঠে নামানো হয় লামিন ইয়ামালকে। চোট কাটিয়ে পুরোপুরি ফিট না হলেও গোলের খোঁজে তরুণ এই তারকার ওপরই ভরসা রাখেন স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে।

ইয়ামালের এই ম্যাচ দিয়েই বিশ্বকাপ অভিষেক হয়। ১৮ বছর ৩৪২ দিন বয়সে বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রথমবার নামেন তিনি। অন্যদিকে ৪০ বছর ২২ দিন বয়সে বিশ্বকাপ অভিষেক হয় ভোজিনিয়ার। দুজনের বয়সের পার্থক্য ২১ বছর ৪৫ দিন। বিশ্বকাপ ইতিহাসে একই ম্যাচে মুখোমুখি হওয়া দুই প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড় বয়সের ব্যবধান।

ইয়ামালকে নামিয়েও জালের দেখা পায়নি স্পেন। শেষ পর্যন্ত আর কোনো দলই গোল করতে পারেনি। ফলে স্পেনকে রুখে দিয়ে নিজেদের বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় ড্র তুলে নেয় কেপ ভার্দে। আর সেই অর্জনের সবচেয়ে বড় নায়ক নিঃসন্দেহে গোলরক্ষক ভোজিনিয়া।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ