খুলনা | মঙ্গলবার | ১৬ জুন ২০২৬ | ৩ আষাঢ় ১৪৩৩

সাতক্ষীরায় ভুয়া এমবিবিএস ডাক্তারের ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৬ মাসের কারাদন্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা ও কালিগঞ্জ প্রতিনিধি |
১২:৫০ এ.এম | ১৬ জুন ২০২৬


চিকিৎসক না হয়েও নামের আগে এমবিবিএস ডিগ্রি ব্যবহার ও ভুল চিকিৎসার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। কালিগঞ্জ উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মাইনুল ইসলাম সোমবার দুপুরে উপজেলার নলতা হাটখোলা এলাকায় মানব সম্পাদ হেলথ কেয়ার সেন্টারে অভিযান চালিয়ে এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।  
ভ্রাম্যমাণ আদালতের সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম ইয়াসিন আলী পলাশ। তিনি কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা বাজার সংলগ্ন হাটখোলা জামে মসজিদের পাশে “মানবস্বপ্ন হেলথ কেয়ার সেন্টার” নামে একটি প্রতিষ্ঠান খুলে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা বাণিজ্য চালিয়ে আসছিলেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বাটকেখালি গ্রামের মতি সরদারের ছেলে তন্ময় সরদার (৩০) তীব্র পেটে ব্যথা নিয়ে গত ১ এপ্রিল কালীগঞ্জের নলতা বাজারে অভিযুক্ত ইয়াসিন আলী পলাশের চেম্বারে যান। ৩০০ টাকা ভিজিট দিয়ে দেখানোর পর উক্ত ভুয়া চিকিৎসক রোগীকে ‘ন্যাপ্রসিন প্লাস ৩৭৫ মিলি গ্রাম’সহ বেশ কিছু উচ্চমাত্রার ওষুধ প্রেসক্রিপশন করেন। উক্ত ওষুধ খাওয়ার মাত্র দুই দিনের মাথায় তন্ময় সরদারের সমস্ত শরীর, মুখমন্ডল ও হাত-পা মারাত্মকভাবে ফুলে যায় এবং পেটের ব্যথা তীব্রতর হয়। রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে দ্রুত সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইউরোলজি বিভাগে ভর্তি করা হয়। 
হাসপাতালের ইউরোলজি বিভাগের কনসালট্যান্ট ডাঃ এস এম রমিজ আহমেদের অধীনে চিকিৎসাধীন থাকার পর জানা যায়, ভুল চিকিৎসার ফলে উচ্চমাত্রার ব্যথানাশক ওষুধ সেবনের কারণে তন্ময় সরদার তীব্র কিডনি বিকলতা এবং স্ক্রোটাল সোয়েলিং রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। দীর্ঘ দিন হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর সাথে লড়াই করে কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর তিনি খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন ইয়াসিন আলী কোনো এমবিবিএস পাস করা চিকিৎসক নন। তিনি মূলত ডিপ্লোমাধারী হয়েও দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করছেন।
তিনি খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন ইয়াসিন আলী যে বিএমডিসি নিবন্ধন নম্বরটি (ডি-১৩১৯৮) ব্যবহার করছেন, সেটি মূলত ডাঃ এ জেড এম ফখরুল ইসলাম নামে একজন এমবিবিএস চিকিৎসকের। বিষয়টি জানার পর তন্ময় সরদার সুস্থ হয়ে গত মে মাসে উক্ত চিকিৎসকের পরামর্শ চেম্বারে গিয়ে জালিয়াতি ও ভুল চিকিৎসার বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ভুয়া চিকিৎসক ও তার সহকারী ক্ষিপ্ত হয়ে রোগীকে লাঞ্ছিত করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাড়িয়ে দেন।
ভুক্তভোগী তন্ময় সরদার হাসপাতালের প্রমাণাদিসহ এই ভুয়া চিকিৎসকের দ্রæত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে কালিগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তন্ময়ের অভিযোগের প্রেক্ষিতে কালিগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাইনুল ইসলাম সোমবার দুপুর ১২টার দিকে কালিগঞ্জ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডালিয়া আক্তার সাথীকে সঙ্গে নিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। এ সময় সকল অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় ইয়াসিন আলী পলাশকে ৬ মাসে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ