খুলনা | মঙ্গলবার | ১৬ জুন ২০২৬ | ৩ আষাঢ় ১৪৩৩

যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার : পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

ডাঃ জাহেদ ইস্যুতে ভারতীয় দূতকে তলব, ঢাকার তীব্র প্রতিবাদ

খবর প্রতিবেদন |
০১:৩১ এ.এম | ১৬ জুন ২০২৬


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপদেষ্টা ডাঃ জাহেদ উর রহমানকে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবেশে বাধার ঘটনায় ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার (ডেপুটি হাইকমিশনার) পাওয়ান বাঢ়েকে তলব করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া এই ঘটনায় ঢাকা তীব্র প্রতিবাদ ও উদ্বেগ জানিয়েছে। সোমবার বিকেলে ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে তলব করা হয় বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি বিষয়ক উপদেষ্টা ডাঃ জাহেদ উর রহমানকে ভারতের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ দিল্লিতে প্রবেশে বাধা দেওয়ার ঘটনায় যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডাঃ খলিলুর রহমান। ওই ঘটনাকে অনাকাক্সিক্ষত এবং দুঃখজনক বলেও মন্তব্য করেন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সদ্য নির্বাচিত এই সভাপতি।
সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে খলিলুর রহমান বলেন, এটা একটা অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা এবং দুঃখজনকও বটে। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নিচ্ছে। 
মন্ত্রী বলেন, নয়া দিল্লির বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডাঃ জাহেদ উর রহমানের বিষয়ে পুরো ঘটনা জেনে যদি কোনো অ্যাকশন নেওয়ার থাকে, সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নেব। এ বিষয়ে আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা কাজ করছেন।
এর আগে রোববার সন্ধ্যায় ভারতের ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। দিল্লিতে সোমবার শুরু হওয়া ইন্ডিয়ান ওশান রিম এ্যাসোসিয়েশনের (আইওআরএ) জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের দুই দিনের বৈঠকে অংশ নেওয়া ছিল তার উদ্দেশ্য। সেখানে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল ডাঃ জাহেদের। কিন্তু ক‚টনৈতিক চিঠি দিয়ে আগে জানানোর পরও রোববার সন্ধ্যায় ভারতের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ডাঃ জাহেদকে দিল্লিতে ঢুকতে বাধা দেয়।
পরে উচ্চ মহলের নির্দেশে অনুমতি দেওয়া হলেও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা দিল্লিতে না গিয়ে কলম্বো হয়ে ঢাকায় ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। সোমবার দুপুরে তিনি ঢাকায় ফিরেও এসেছেন। এই ঘটনা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
কলম্বো হয়ে ঢাকায় ফিরলেন বললেন না কথা : ভারতের দিল্লি বিমানবন্দরে অভিবাসন (ইমিগ্রেশন) কর্তৃপক্ষের ‘অসৌজন্যমূলক আচরণ’ এবং দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখার প্রতিবাদে সরকারি সফর বাতিল করে দেশে ফিরে এসেছেন প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি এবং তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডাঃ জাহেদ উর রহমান।
সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিনি শ্রীলঙ্কার কলম্বো হয়ে ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। এ সময় বিমানবন্দরে উপস্থিত সাংবাদিকেরা দিল্লির ঘটনা নিয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এদিকে, ঢাকার সরকারি সূত্রগুলো জানিয়েছে, দিল্লির বিমানবন্দরে বাংলাদেশের একজন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিনিধির সঙ্গে ঠিক কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। সব তথ্য যাচাইয়ের পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। 
সোমবার থেকে নয়াদিল্লিতে শুরু হওয়া ‘ইন্ডিয়ান ওশান রিম এ্যাসোসিয়েশনের’ (আইওআরএ) জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের দুই দিনব্যাপী বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানের।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স‚ত্রে জানা গেছে, এই সরকারি সফরের বিষয়ে গত শুক্রবারই (১২ জুন) দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ক‚টনৈতিক পত্রের (নোট ভারবাল) মাধ্যমে অবহিত করেছিল। শুধু তাই নয়, দিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহ ব্যক্তিগতভাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে ফোনেও কথা বলেছিলেন।
এতকিছুর পরও গতকাল রোববার সন্ধ্যায় দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামার পর অভিবাসন কর্মকর্তারা উপদেষ্টাকে প্রায় আড়াই ঘণ্টা বসিয়ে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। ঢাকা ও দিল্লির ক‚টনৈতিক স‚ত্রগুলো একে ‘অনাকাক্সিক্ষত ও রহস্যজনক’ বলে অভিহিত করেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকার একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, আগাম তথ্য দেওয়া সত্তে¡ও প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার একজন সরকারি প্রতিনিধির সঙ্গে এমন আচরণ ক‚টনৈতিক প্রটোকলের চরম লঙ্ঘন।
কেন আটকে দেওয়া হয়েছিল? : ভারতীয় সংবাদমাধ্যম সিএনএন-নিউজ১৮ সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানের নাম ভারতের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত একটি নজরদারি তালিকায় (ওয়াচ লিস্ট) থাকায় এই জটিলতার সৃষ্টি হয়েছিল। দিল্লি বিমানবন্দরে নিয়মিত তল্লাশির সময় অভিবাসন কর্মকর্তারা তাঁকে শনাক্ত করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাময়িকভাবে আটকে রাখেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, এটি মূলত একটি ‘প্রশাসনিক ত্র“টি’ ছিল। পরবর্তীতে অসঙ্গতিটি চিহ্নিত হওয়ার পর দেশটির উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে দ্রুত বিষয়টির সমাধান করা হয় এবং উপদেষ্টাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়।
জানা গেছে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ থেকে পরিচালিত কিছু ইনফ্লুয়েন্সার ও এ্যাক্টিভিস্টদের ইউটিউব চ্যানেল ভারত বিরোধী প্রচারণার অভিযোগে ভারতে ব্লক করা হয়েছিল। ভারতের নিরাপত্তা নজরদারি তালিকায় থাকা সেই তালিকায় ডাঃ জাহেদ উর রহমানের নামও যুক্ত ছিল।
উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান কূটনৈতিক পাসপোর্ট পাওয়ার যোগ্য হলেও, এই সফরে তিনি তাঁর সাধারণ পাসপোর্ট ব্যবহার করছিলেন বলে জানা গেছে। তবে ক‚টনৈতিক পত্রের কারণে তাঁর রাষ্ট্রীয় প্রটোকল পাওয়ার আইনি ভিত্তি ছিল।
দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ ও বিরক্ত হয়ে উপদেষ্টা নিজেই কর্মকর্তাদের কাছ থেকে নিজের পাসপোর্ট ফেরত চান এবং ভারতে প্রবেশ না করে পরবর্তী ফ্লাইটে দেশে ফেরার প্রস্তুতি নেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পরবর্তীতে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাঁকে সসম্মানে ভারতে প্রবেশের অনুরোধ জানালেও, আত্মসম্মান ও প্রটোকল বজায় রাখতে ডাঃ জাহেদুর রহমান সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি দিল্লি থেকে কলম্বো হয়ে ঢাকার পথ ধরেন।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ