খুলনা | মঙ্গলবার | ১৬ জুন ২০২৬ | ২ আষাঢ় ১৪৩৩

বাগেরহাটে জলাবদ্ধতা নিরসনে সরকারি খাল ও জলাশয়ের সীমানা নির্ধারণ, খনন ও পরিস্কার পরিচ্ছন্ননা কর্মসূচি শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাগেরহাট |
০৫:৪১ পি.এম | ১৬ জুন ২০২৬


বাগেরহাট পৌর শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে সরকারি খাল ও জলাশয়ের সীমানা নির্ধারণ, খনন, বাঁধ অপসারণ ও পরিস্কার পরিচ্ছন্ননা কর্মসূচি শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে শহরের আলীয়া মাদরাসা সড়ক সংলগ্ন বালিয়ার খালের ময়লা অপসারণের মাধ্যমে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মোঃ বাতেন।

এসময়, বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও পৌর প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন, সুজন, সম্পাদক এসকে হাসিব, বাগেরহাট কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ, পুরাতন কোর্ট কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা রুহুল আমিনসহ পৌরসভার কর্মকর্তা কর্মচারী, পরিবেশকর্মী  ও স্থানীয়বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন। এই কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বাগেরহাট শহরে থাকা বিভিন্ন সরকারি খাল ও জলাশয় ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করা হবে। পাশাপাশি সীমানা নির্ধারণের মাধ্যমে দখলমুক্ত করা হবে।

তবে স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহল বলছে, আগেও এ ধরণের কর্মসূচি শুরু হয়েছিল। তবে অজানা কারণে বন্ধ হয়ে গেছে। এবার যাতে বন্ধ না হয়, সেজন্য সোচ্চার থাকবেন স্থানীয়রা।

সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন, বাগেরহাটের সম্পাদক এসকে হাসিব বলেন, বিভিন্ন সময় বাগেরহাট পৌরসভার সরকারি খালগুলো দখলমুক্ত ও পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে তা ভেস্তে গেছে অজানা কারণে। এবার বাগেরহাট সোসাইটি, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা), পৌরসভা ও জেলাপ্রশাসন মিলে একসাথে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে খাল খনন ও দখলমুক্ত করার জন্য। প্রশাসনের বাইরে শহরের বাসিন্দা ও আমরা সব সময় এ বিষয়টির সাথে থাকব। যাতে কোন কারণে এই কর্মসূচি বন্ধ না হয়।

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)র খুলনা বিভাগীয় সমন্বয়কারী মাহফুজুর রহমান মুকুল বলেন, বাগেরহাট শহরের সরকারি খালগুলোকে যত্রতত্র ময়লা ফেলা ও দখলের মাধ্যমে নিশ্চিহ্ন করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। যার ফলে বেশিরভাগ সময় শহরজুড়ে জলাবদ্ধতা থাকে। খালগুলোকে এখনই দখলমুক্ত ও খনন করে নাব্যতা ফিরিয়ে না আনতে পারলে, এই শহরে বসবাস করা কঠিন হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও পৌর প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন বলেন, পৌরসভার খালগুলো পরিদর্শন করা হয়েছে। কোথায় পানি আটকে যাচ্ছে, আবার কোথায় বাঁধ দেওয়া হয়েছে সেসব আমরা রেকি করেছি। আশাকরি খাল খননের মাধ্যমে পৌরবাসির জলাবদ্ধতার সমস্যা নিরসন করা সম্ভব হবে।

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মোঃ বাতেন বলেন, বাগেরহাট শহরে ৮টি খাল রয়েছে। কিছু অসাধু মানুষ এসব খালে ময়লা আবর্জনা ফেলে, আবার দখলেরও চেষ্টা চালায়। আজকে যে খাল খনন, পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা, বাঁধ অপসারণ ও সীমানা নির্ধারণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এটা একটি চলমান প্রক্রিয়া । এটা চলতে থাকবে। খুবদ্রুত শহরের সকল খাল দখল মুক্ত ও পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করা হবে। এই ধারাবাহিকতা চলতে থাকে। সাথে সাথে সরকারি খাল ও জলাশয় রক্ষায় শহরের বাসিন্দাদের সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেন কর্মকর্তারা।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ