খুলনা | বুধবার | ১৭ জুন ২০২৬ | ৩ আষাঢ় ১৪৩৩

গোপালগঞ্জে দু’টি বাস ও ট্রাকের ত্রিমুখী সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৩৫

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি |
১২:৩৭ এ.এম | ১৭ জুন ২০২৬


গোপালগঞ্জে দু’টি বাস ও ট্রাকের ত্রিমুখী সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছে আরও ৩৫ জন যাত্রী। মঙ্গলবার বিকেল সোয়া চারটার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার চেচানিয়াকান্দি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় কুষ্টিয়া জেলার ভেড়ামারা থানার শোদাগ গ্রামের আজাহার উদ্দিনে ছেলে নূর হোসেন গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে মারা যান। বাকি আহত ৩৫ জনকে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সুন্দরবন পরিবহনের যাত্রী ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার দুলাল মিয়া বলেন, “আমি মংলা থেকে ঢাকার দিকে সুন্দরবন পরিবহনে যাচ্ছিলাম। গোপালগঞ্জের ঘোনাপাড়ায় পৌঁছালে দেখি দু’টি বাস পাল্লা দিয়ে চলছিল। সুন্দরবন পরিবহন জিএমএস পরিবহনকে সাইড দেওয়ার জন্য বারবার সংকেত দিলেও তারা সাইড দেয়নি। দ্রুতগতির কারণে জিএমএস পরিবহনের বাসটি সড়কের ওপর এদিক-সেদিক করছিল। এ সময় ঢাকার দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে জিএমএস পরিবহনের বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। পরে সুন্দরবন পরিবহনের বাসটি পেছন থেকে গিয়ে ধাক্কা দেয়। এতে যাত্রীবাহী দু’টি বাস সড়কের পাশে খাদে পড়ে যায়। ফলে দুই বাসের অধিকাংশ যাত্রী আহত হন।”
গোপালগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের ডিএডি শিপলু আহমেদ জানান, মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকাগামী সুন্দরবন পরিবহনের একটি বাস অন্য একটি জিএমএস পরিবহনের বাসকে ওভারটেক করতে যায়। এ সময় বিপরীত দিক অন্য একটি ট্রাক চলে আসলে সংঘর্ষ ঘটে। এতে বাস দু’টি মহাসড়ক থেকে খাদে পড়ে যায় ও ট্রাকের পিছনের অংশ দুমড়ে মুচড়ে যায়। এতে দুই বাসে থাকা অন্তত অর্ধশতাধিক যাত্রী আহত হয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করে। পরে গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নূর হোসেন মারা যান। অতিরিক্ত গতি ও ওভারটেকের প্রতিযোগিতার কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগে আহত যাত্রীদের। দুর্ঘটনার পর ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। পরে স্থানীয়দের সরিয়ে দিলে এক ঘণ্টা পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এ সময় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও আইসিটি মন্ত্রী ফকির মাহাবুব আনাম বলেন, সকলকে সচেতন হতে হবে। বাসের চালক কত গতিতে চালাচ্ছে, অপ্রয়োজনীয়ভাবে ওভারটের করছে কি না তা যাত্রীদের জানতে ও দেখতে হবে। বাসের চালক গতিতে চালাতে মানা করতে হবে। সবই যদি সচেতন না হই তাহলে সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করা যাবে না।
 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ