খুলনা | বুধবার | ১৭ জুন ২০২৬ | ৩ আষাঢ় ১৪৩৩

সেলফ সাসটেইন্ড পন্টনের কিল লেয়িং অনুষ্ঠানে মাহবুব আনাম

দেশের অপার সম্ভাবনাময় সমুদ্র সম্পদের বিজ্ঞান ভিত্তিক টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করবে সরকার

তথ্য বিবরণী |
০১:২২ এ.এম | ১৭ জুন ২০২৬


ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেছেন, বর্তমান সরকার দেশের অপার সম্ভাবনাময় সমুদ্র সম্পদের বিজ্ঞান ভিত্তিক টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা আমাদের নির্বাচনী ইশতেহার এ বর্ণিত সুনীল অর্থনীতির সকল কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। এর মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, খাদ্য নিরাপত্তা, জলবায়ু সহনশীলতা অর্জন করার লক্ষ্যে সামুদ্রিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা, সমুদ্র ভিত্তিক শিল্প প্রযুক্তির উন্নয়ন, জীববৈচিত্র রক্ষা এবং সমুদ্রে পরিবেশ সংরক্ষণ, উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন, গবেষণা এবং উদ্ভাবনে গুরুত্বারোপ করা হবে। 
গতকাল মঙ্গলবার নগরীর শিপইয়ার্ডে বাংলাদেশ ওশেনোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউট (বিওআরআই)-এর জন্য দেশে নির্মিতব্য প্রথম আন্তর্জাতিক মানের সামুদ্রিক গবেষণা জাহাজ একটি স্মল রিসার্চ ভেসেল-এর আনুষ্ঠানিক কিল লেয়িং এবং একইসাথে গবেষণা জাহাজটির মুরিং সহায়তার জন্য নির্মিতব্য একটি সেলফ সাসটেইন্ড পন্টনের কিল লেয়িং অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। 
মন্ত্রী বলেন, একটি গবেষণা জাহাজের Keel Laying Ceremony  হচ্ছে জাহাজ নির্মাণের প্রাথমিক ধাপ।  আজকের এই ভিত্তিপ্রস্তর বাংলাদেশের সমুদ্রবিজ্ঞান, সামুদ্রিক সম্পদ অনুসন্ধান, ব্লু-ইকোনমি এবং টেকসই উন্নয়েনের ভবিষ্যৎ যাত্রার দৃঢ় ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। বাংলাদেশ ওশেনোগাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্যই ছিল দেশের সামুদ্রিক সম্পদ সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক জ্ঞান বৃদ্ধি করা এবং সেই জ্ঞানকে জাতীয় উন্নয়নের কাজে লাগানো। আমরা সবাই উপলব্ধি করি যে আন্তর্জাতিক মানের সামুদ্রিক গবেষণার জন্য একটি নিজস্ব আধুনিক গবেষণা জাহাজ দীর্ঘদিনের প্রয়োজন ছিল। আজ সেই প্রয়োজন পূরণের পথে আমরা একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ গ্রহণ করছি। 
মন্ত্রী বলেন, নতুন গবেষণা জাহাজ সমুদ্রের মৎস্যসম্পদ, সামুদ্রিক জীবপ্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পর্যটনসহ সমুদ্রকেন্দ্রিক বিষয় সমূহের তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ এবং নীতি প্রনয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বৈজ্ঞানিক রিসার্চ ভেসেল এ জানতে পারবো আমাদের সমুদ্র সীমানার মধ্যে কোথায় মাছের বসবাস। সমুদ্রের গভীরে কী আছে, কোন প্রজাতির জীব কোথায় বাস করে, কী ধরনের পরিবেশগত পরিবর্তন ঘটছে, কোন সম্পদ ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক উন্নয়নের ভিত্তি হতে পারে- এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করার জন্য অত্যাধুনিক গবেষণা অবকাঠামো প্রয়োজন। গবেষণা জাহাজ সেই অবকাঠামোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। মন্ত্রী জাহাজ নির্মাণ শিল্পে দেশের সক্ষমতার কথা উলে­খ করে বলেন, গবেষণা জাহাজ নির্মাণের উদ্যোগ ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ সক্ষমতার এক উজ্জ্বল উদাহরণ। এটি আমাদের আত্মবিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করবে এবং প্রমাণ করবে যে বাংলাদেশ এখন শুধু জাহাজ ব্যবহারকারী দেশ নয়, বরং জাহাজ নির্মাণেও একটি সক্ষম ও সম্ভাবনাময় রাষ্ট্র। 
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সমুদ্রভিত্তিক সম্পদ আহরণ ও সকল অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে জাস্ট ট্রানজিশন ফ্রেমওয়ার্কে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, যাতে সমুদ্র সম্পদ আহরণ কিংবা উপকূলীয় অঞ্চলের মানোন্নয়ন করতে গিয়ে জনগণ তাদের জীবিকা এবং পরিবেশের ক্ষতি সাধিত না হয়। এছাড়াও শিক্ষা ও শিল্পখাতে মেরিটাইন ইনোভেশন ফান্ড প্রতিষ্ঠা করা হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তৃতা করেন বাংলাদেশ ওশেনোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক কমডোর মোঃ মিনারুল হক। স্বাগত বক্তৃতা করেন খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক রিয়ার এডমিরাল একেএম জাকির হোসেন। অনুষ্ঠানে  খুলনার বিভাগীয় কমিশনার মোঃ আব্দুললাহ হারুন, জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, বাংলাদেশ ওশেনোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউট (বিওআরআই)-এর  বিজ্ঞানী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, প্রকৌশলী, নৌ-প্রযুক্তিবিদ, উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিগণ, গণমাধ্যমকর্মীবৃন্দ  উপস্থিত ছিলেন। 
উলে­খ্য, ২০২৩ সালের ১০ ফেব্র“য়ারি খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড ও বাংলাদেশ ওশেনোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউটের মধ্যে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতির (উচগ) আওতায় একটি নির্মাণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তিতে খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড বাংলাদেশ ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউট (বিওআরআই)-এর জন্য ১টি স্মল রিসার্চ ভেসেল ফর স্যাম্পল কালেকশন, ১টি সেলফ সাসটেইন্ড পন্টুন নির্মাণ করবে। ভেসেলটি যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিখ্যাত ডিজাইন প্রতিষ্ঠান Keel Marine Ltd  এর সর্বাধুনিক ড্রইং ও কারিগরি সহায়তায় খুশিলি (খুলনা শীপ লিমিটেড) কর্তৃক নির্মিত হবে। এটি বাংলাদেশের সমুদ্র সীমায় বিভিন্ন ধরণের সামুদ্রিক মেরিন স্যাম্পল কালেকশন, বৈজ্ঞানিক রিসার্চ, হাইড্রোগ্রফিক ও ভূতাত্তি¡ক সার্ভে, বায়োলজিক্যাল, কেমিক্যাল ও এনভায়রনমেন্টাল ওশেনোগ্রাফি, মৎস্য গবেষণা ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা কাজে নিয়োজিত থাকবে। 
পরে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম খুলনা শিরোমনি বাংলাদেশ ক্যাবল শিল্প লিমিটেড পরিদর্শন এবং কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় করেন। এ সময় খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, বিভাগীয় কমিশনার মোঃ আব্দুল­াহ হারুন, ক্যাবল শিল্প লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ শহিদুল ইসলামসহ বিভিন্ন শাখার কর্মকর্তা ও সিবিএ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ