খুলনা | বুধবার | ১৭ জুন ২০২৬ | ৩ আষাঢ় ১৪৩৩

লোহাগড়ায় টিকটকে আসক্তির জেরে স্ত্রীকে হত্যা, স্বামী আটক

নড়াইল প্রতিনিধি |
০১:৪৬ এ.এম | ১৭ জুন ২০২৬


নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় দিঘলিয়া গ্রমে  সুমনা ফেরদৌসী (৩৮) নামের এক গৃহবধূকে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার অভিযোগে স্বামী লিমন মল্লিককে (২৭) আটক করেছে পুলিশ। সোমবার রাতে উপজেলার দিঘলিয়া এলাকা থেকে অভিযুক্ত স্বামী লিমন মল্লিককে আটক করা হয়। নিহত সুমনা ফেরদৌসী দিঘলিয়া গ্রামের ইদ্রিস মল্লিকের ছেলে লিমন মল্লিকের দ্বিতীয় স্ত্রী এবং তার বাবার বাড়ি নারায়ণগঞ্জে। অভিযুক্ত লিমন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্ত্রীকে হত্যার দায় স্বীকার করেছে ।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন লোহাগড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায়।
জানা গেছে সুমনা টিকটকে বিভিন্ন ধরনের ভিডিও পোস্ট করতেন। এই সূত্রধরে অনেক অপরিচিত পুরুষদের সাথে সখ্যতা গড়ে ওঠে। বিভিন্ন সময় তিনি আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও আদান প্রদান করে থাকেন। এই নিয়ে লিমন ও সুমনা দম্পতির মাঝে পারিবারিক কলহ লেগেই থাকতো। তবে সুমনা এ ধরনের কর্মকান্ড ভবিষ্যতে করবেনা বলে স্বামী লিমনের কাছে কয়েকবার ওয়াদা করেন। সোমবার সকাল ৮ টার দিকে আবারও টিকটিকে কুরুচিপূর্ণ ছবি ভিডিও পোস্ট করা ও পরপুরুষদের সাথে আপত্তিকর ছবি আদান-প্রদান ও কথোপকথনের জেরে লিমন সুমনার মাঝে বাকবিতন্ডা শুরু হয়। এর এক পর্যায়ে লিমনের আঘাতে সুমনা রক্তাক্ত অবস্থায় মাঠিতে পড়ে যান। পরে সুমনাকে তার স্বামী শ্বাসরোধ করে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে ঘরের আড়ার সাথে ঝুলিয়ে দেয়। 
পুলিশ সূত্রে জানায় ঢাকার একটি গার্মেন্টসে কাজ করার সুবাদে লিমন ও সুমনার পরিচয় হয়। ২০২১ সালে ঢাকায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। এটি  লিমনের দ্বিতীয় ও সুমনার চতুর্থ বিয়ে। বিয়ের পরে দ্বিতীয় স্ত্রী সুমনাকে নিয়ে লিমন বাড়িতে চলে আসে। প্রথম স্ত্রী ও সন্তান থাকা সত্তে¡ও সুমনাকে বাড়িতে নিয়ে আসায় পারিবারিক কলহ সৃষ্টি হয়। কিছুদিন পর লিমনের প্রথম স্ত্রী তার একমাত্র কন্যা সন্তানকে নিয়ে রংপুরে চলে যায়। পরবর্তীতে লিমন চায়ের দোকান চালানোর পাশাপাশি কাঠ কাটা শ্রমিক হিসেবে কাজ করে সংসার চালাতেন। 
পুলিশ আরও জানায় সকাল ১০টার দিকে প্রতিদিনের মতো কাজে বেরিয়ে পড়ে লিমন। স্বাভাবিকভাবে সারাদিন কাজ শেষ করে বিকেল ৫টার পর বাড়িতে এসে ঘরের দরজা খুলে নিজেই চিৎকার চেচামেচি ও কান্নাকাটি শুরু করে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নড়াইল জেলা হাসপাতালে পাঠায়। প্রাথমিক সুরতহাল শেষে পুলিশ প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয় এটি কোনো আত্মহত্যা নয়, হত্যাকান্ড। পরে রাতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য স্বামী লিমনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। 
লোহাগড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায় বলেন, আটক লিমন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার স্ত্রী সুমনাকে হত্যার দায় স্বীকার করে ঘটনার বর্ননা দিয়েছে। মূলতঃ হত্যার পর আত্মহত্যা দেখাতেই সুমনাকে ঘরে ঝুলিয়ে দিয়েছিলো। ভুক্তভোগী নারীর পরিবারের নিকট খবর পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ