খুলনা | শুক্রবার | ১৯ জুন ২০২৬ | ৬ আষাঢ় ১৪৩৩

রোনালদোর পর্তুগালকে রুখে দিয়ে ডিআর কঙ্গোর ইতিহাস

ক্রীড়া প্রতিবেদক |
০১:১৯ এ.এম | ১৮ জুন ২০২৬

 

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ষষ্ঠ বিশ্বকাপের শুরুটা হলো হতাশায় ঘেরা। ১৯৭৪ সালে জায়ার নামে প্রথম বিশ্বকাপ খেলা ডিআর কঙ্গো ৫২ বছর পর ফিরে তার দল পর্তুগালকে রুখে দিলো। ম্যাচের শুরুতে লিড নেয় পর্তুগিজরা। কিন্তু হাফটাইমের আগে শেষ মুহূর্তে গোল করে সমতা ফেরায় কঙ্গো।

কে গ্রুপের প্রথম ম্যাচেই বড় চমকের দেখা মিলল। ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ের ৪৬ নম্বরে থাকা কঙ্গো বিশ্বকাপের প্রথম পয়েন্ট পেল তাদের চেয়ে ৪১ ধাপ এগিয়ে থাকা একটি দলের বিপক্ষে। এমনকি এই এক পয়েন্ট নিয়েই গ্রুপের শীর্ষে উঠে গেছে আফ্রিকান দেশটি।

পর্তুগালের হয়ে বড় কোনো টুর্নামেন্টে টানা ১০ ম্যাচে গোল করতে পারেননি ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে এটিই তাঁর সবচেয়ে দীর্ঘ গোলখরা।

বিশ্বকাপের আগে নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে গিয়েছে কঙ্গো। তারপর আন্তর্জাতিক ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে তাদের দুর্দান্ত এক প্রত্যাবর্তন হলো।

তারা ম্যাচের শুরুর দিকের কঠিন সময়টি কাটিয়ে ওঠে। খেলা যত গড়িয়েছে, তাদের আত্মবিশ্বাস ততই বেড়েছে। হাফটাইমের আগমুহূর্তে সমতাসূচক গোল করার পর দ্বিতীয়ার্ধে তারা ম্যাচটি জিতেও যেতে পারত।

১৯৭৪ সালে একমাত্র বিশ্বকাপে তিন ম্যাচে ১৪ গোল হজম করা দেশটি ইউরোপিয়ান জায়ান্টদের রুখে দিলো। নিশ্চিতভাবে এই ফল তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিলো।

ম্যাচের শুরু থেকেই পর্তুগাল আক্রমণাত্মক খেলায় এগিয়ে যায়। ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটে জোয়াও নেভেস পর্তুগালের হয়ে প্রথম গোলটি করেন। পিএসজি ক্লাবের মিডফিল্ডার নেভেস এই গোলটি করেন নেতোর পাস থেকে, যা তার পর্তুগাল জাতীয় দলের জার্সিতে চতুর্থ গোল হিসেবে রেকর্ডে যুক্ত হলো।

তবে ম্যাচের যোগ করা সময়ের শেষ মুহূর্তে কঙ্গো সমতা ফিরিয়ে আনে। কঙ্গোর ফুটবলাররা প্রথমে একটি কর্নার শট ছোট পাসে খেলেন এবং পরবর্তীতে সতীর্থ আর্থার মাসুয়াকু অত্যন্ত নিখুঁত ও দ্রুত গতিতে বলটি ডি-বক্সের ভেতর বাড়িয়ে দেন।

সেখানে পর্তুগালের রক্ষণভাগের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে সম্পূর্ণ আনমার্কড বা অরক্ষিত অবস্থায় থাকা উইসা এক দারুণ গ্লান্সিং হেডের সাহায্যে বল পর্তুগিজ গোলরক্ষক দিয়োগো কস্তাকে পরাস্ত করে জালের ঠিক ভেতরে পাঠিয়ে দেন।

এই ম্যাচে বিশেষ নজর কেড়েছে দুই ফুটবল মহাতারকা লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর বিশ্বকাপ রেকর্ড। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো তার টানা ষষ্ঠ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করছেন, যা মেসির সঙ্গে সমান রেকর্ড। এছাড়াও, ৪১ বছর ১৩২ দিন বয়সী রোনালদো পর্তুগালের হয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বয়স্ক আউটফিল্ড খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামেন। 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ