খুলনা | শুক্রবার | ১৯ জুন ২০২৬ | ৬ আষাঢ় ১৪৩৩

মোদিকে দেখতে দেবদূত মনে হলেও ‘একজন কিলার’: ট্রাম্প

খবর প্রতিবেদন |
০৫:৪৪ পি.এম | ১৮ জুন ২০২৬

 

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাইরের রূপ ও কাজের কঠিন মানসিকতা নিয়ে হাস্যরস করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফ্রান্সের এভিয়ানে চলমান জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে আয়োজিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মোদির ভূয়সী প্রশংসা করতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘নরেন্দ্র মোদি দেখতে একদম দেবদূতের মতো সুন্দর ও শান্ত মনে হলেও আসলে তিনি একজন পেশাদার ‘কিলারের’ মতোই কঠিন ও শক্ত চরিত্রের মানুষ।’ একইসঙ্গে মোদিকে ‘কঠিন ব্যবসায়ী’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ট্রাম্প।

বুধবার (১৭ জুন) দুই নেতার দ্বিপাক্ষিক বৈঠক চলাকালীন ডোনাল্ড ট্রাম্প তাদের মধ্যকার সৌহার্দ্য তুলে ধরে রসিকতার ছলে বলেন, ‘তিনি কঠোর সমঝোতাকারী। আপনারা এই মানুষটির দিকে তাকান, আপনাদের একটি শিক্ষা দিই। তিনি সবচেয়ে সুন্দর দেখতে। তাকে দেখতে খুব সুন্দর লাগে, ঠিক একজন দেবদূতের মতো। কিন্তু বাস্তবে, তিনি একজন কিলারের (খুনি) মতো কঠিন। তবে চেহারাটা এত ভালো ও সুন্দর হওয়ায় তিনি খুব সহজে আপনাকে চমকে দেবেন। পৃথিবীতে আসলে এই ধরনের মানুষ খুব কম দেখা যায়।’

হোয়াইট হাউসে ভারতের জন্য সব ধরনের বন্ধুত্বের দুয়ার খোলা রাখার আশ্বাস দিয়ে ট্রাম্প আরও বলেন, ‘যতদিন আমি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্বে আছি, হোয়াইট হাউসে ভারত একজন দারুণ বন্ধু পাবে। এখানকার সবাই ভারতকে ভালোবাসে এবং এই মানুষটির (প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি) প্রতি তাদের প্রচণ্ড শ্রদ্ধা রয়েছে।’

মোদির এই নরম-কঠিন চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে ট্রাম্প আরও বলেন, ‘মানুষ বলে তিনি নাকি খুব ভালো ও নরম মনের মানুষ। কিন্তু আমি তাদের বলেছি, তিনি আসলে অত্যন্ত কঠিন। তিনি একজন কঠিন ব্যবসায়ী। তিনি যেমন ভারতের জনগণকে ভালোবাসেন, ঠিক তেমনি যুক্তরাষ্ট্রকেও ভালোবাসেন। হিউস্টনে আমাদের সেই ‘হাউডি মোদি’ অনুষ্ঠানের কথা মনে আছে তো? পুরো স্টেডিয়ামটি তখন কানায় কানায় পূর্ণ ছিল। আমরা ভবিষ্যতের কোনো এক সময়ে আবারও সশরীরে ভারতে যাব।’

মোদির নেতৃত্বে ভারতের প্রতি আমেরিকার সমর্থনের ঘোষণা দিয়ে ট্রাম্প বলেন, কোনো দেশ যদি ভারতকে আক্রমণ করে, তবে তার দেশ যে কোনো মূল্যে ভারতের সাহায্যে এগিয়ে আসবে। তবে এই ক্ষেত্রে একটি বিশেষ শর্তজুড়ে দিয়ে তিনি জানান, ‘আমি মনে করি এটি একটি চমৎকার সম্পর্ক। যদি তারা আক্রান্ত হয়, আমরা তাদের সাহায্য করতে সেখানে থাকব। যদি কেউ ওই মানুষটিকে আক্রমণ করে, তবে আমরা সেখানে উপস্থিত থাকব।’

এ ছাড়া পশ্চিম এশিয়ায় ভারত কোনো বড় ভূমিকা পালন করবে কি না—জানতে চাওয়া হলে ট্রাম্প ইতিবাচক সাড়া দিয়ে বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি অবশ্যই তা মনে করি। ভারত সবকিছুতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আর যতদিন নরেন্দ্র মোদি দেশটির নেতৃত্বে আছেন, ভারত বিশ্বরাজনীতিতে একটি বড় ভূমিকা পালন করতে যাচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রী মোদিকে নিজের দীর্ঘদিনের পুরোনো ‘বন্ধু’ হিসেবে উল্লেখ করে দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্যিক সফলতার কথা তুলে ধরেন ট্রাম্প। তিনি জানান, ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাদের খুব ভালো আলোচনা হয়েছে। দুই দেশ বড় বড় বাণিজ্য চুক্তি করছে।

ট্রাম্প বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র এখন অর্থনৈতিকভাবে ইতিহাসে সেরা পারফরম্যান্স করছে। আমাদের দেশে ১৯ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলারের চেয়েও বেশি অর্থ আসছে। আমরা নতুন নতুন কারখানা তৈরি করছি। ভারতের প্রধানমন্ত্রীও যুক্তরাষ্ট্রে অনেক কিছু তৈরি করছেন এবং সেখানে প্রচুর অর্থ ব্যয় করছেন। আমরা তার সেই ভূমিকার প্রশংসা করি। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে আমার একজন ভালো বন্ধু। আমাদের মধ্যে সবসময় একটি চমৎকার সম্পর্ক ছিল।’

বৈঠকে ট্রাম্পের বৈশ্বিক শান্তি প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছেন মোদি। বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার জন্য ট্রাম্পের উদ্যোগের প্রশংসা করে মোদি বলেন, এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতার একটি নতুন আশা পুনরুজ্জীবিত হয়েছে। ট্রাম্পের এ পদক্ষেপ অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ধরে রাখবে বলে তিনি আশাবাদী।
সূত্র: এনডিটিভি

প্রিন্ট

আরও সংবাদ