খুলনা | শুক্রবার | ১৯ জুন ২০২৬ | ৬ আষাঢ় ১৪৩৩

যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কেন্দ্রের তদন্ত শুরু

ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে খুবি শিক্ষক অধ্যাপক রেজাউলের পুত্তলিকা দাহ, অভিযুক্তের বক্তব্যের প্রতিবাদ

খুবি প্রতিনিধি |
০১:৫৪ এ.এম | ১৯ জুন ২০২৬


খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানি ও অশালীন বার্তা পাঠানোর অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষককে ডিসিপ্লিনের প্রধানের পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। অন্যদিকে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কেন্দ্রের তদন্ত শুরু করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কেন্দ্রের সভাপতি অধ্যাপক তাসলিমা খাতুন অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এ সম্পর্কে তিনি বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যরা কাজ শুরু করেছেন। তদন্ত শেষে কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে যৌন হয়রানি ও অশালীন বার্তা পাঠানোর অভিযোগ এবং এর দায় এড়ানোর চেষ্টার প্রতিবাদে অভিযুক্ত শিক্ষকের কুশপুত্তলিকায় জুতা নিক্ষেপ ও দাহ করেছেন শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদি চত্বরে অনুষ্ঠিত এ বিক্ষোভে বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে অংশ নেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে তারা অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানান। 
এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী অনিমেষ দে বলেন, অতীতে বিভিন্ন ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষকদের সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলেও আমরা তেমন কোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি চাই না। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো আপস করা যাবে না। আমরা এই শিক্ষকের স্থায়ী বহিষ্কার চাই।
তানভীর বিন মুহিত বলেন, একজন শিক্ষক তার অবস্থান ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের প্রতি অনৈতিক আচরণের অভিযোগে অভিযুক্ত হলে তা পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য উদ্বেগজনক। আমরা এই শিক্ষককে আর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে দেখতে চাইনা। এই শিক্ষককে স্থায়ী বহিষ্কার না করলে আমরা কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করবো।
এর আগে, মঙ্গলবার দুপুরে এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থীরা ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেসেজ দিয়ে উত্ত্যক্ত করা মেসেজ সম্বলিত প্রমাণপত্রসহ যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কেন্দ্রে লিখিত অভিযোগ করেন।
অভিযোগে ভুক্তভোগী উলে­খ করেন, শুরুতে ওই শিক্ষক তার সঙ্গে ভালো আচরণ করলেও ধীরে ধীরে মেসেঞ্জারে ও হোয়াটসঅ্যাপে নানা ধরনের কুরুচিপূর্ণ ও অস্বস্তিকর বার্তা পাঠাতে শুরু করেন। 
উপযুক্ত প্রমাণসহ নথি পত্রে দেখা যায়, তোমার মতো মেয়ে বিয়ের আগে পাওয়া দরকার ছিল, আই লাভ ইউ মোর দ্যান আই ক্যান সে, লাভ ইন ইংলিশ দ্যা জান্নাহ, আমি তোমাকে ছাড়া থাকতে পারব না, তাহলে আজ থেকে ভালোবাসা শুরু হোক, বন্ধুর সাথে হাগ করলে সব ডিপ্রেশন থাকেনা, তোমার মতো সুন্দরী মেয়ে দুনিয়ায় কম আছে, ডিসিপ্লিনে আমি শুধু মারি, আদর করে মারি কোনো মেয়েদের মারি না কিন্তু তোমাকে মারতে হবে এমন সব বাক্য প্রদান করেন।
ভুক্তভোগী ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানান, ‘আমি ফেসবুকে তাকে ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট পাঠানোর পরদিনই তিনি তা গ্রহণ এবং সঙ্গে সঙ্গে বার্তা পাঠানো শুরু করেন। বিষয়টি আমাকে বিস্মিত করেছিল। পরবর্তীতে তার পাঠানো বার্তাগুলো ক্রমেই অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে আমি বিষয়টি আর সহ্য করতে না পেরে সহপাঠী ও ডিসিপ্লিনের প্রতিনিধিদের জানাই। প্রথমদিকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না দেখলেও, পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার চাওয়ার সিদ্ধান্ত নিই।’
তিনি আরও বলেন, ‘একজন শিক্ষকের কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ কোনো ভাবেই প্রত্যাশিত নয়। শুরুতে প্রভাবশালী এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মুখ খুলতে ভয় পেলেও, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলা প্রয়োজন মনে করেই আমি সামনে এসেছি। আমি চাই অন্য ভুক্তভোগীরাও সাহস করে কথা বলুক এবং এ ঘটনার এমন একটি দৃষ্টান্তমূলক বিচার হোক, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো শিক্ষার্থীকে এই পরিস্থিতির শিকার হতে না হয়।’
এদিকে এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কেন্দ্র তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে। এরইমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অভিযুক্ত শিক্ষককে ডিসিপ্লিন প্রধানের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে।
জানা যায়, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত বলে দাবি করে ড. রেজাউল ইসলাম জানান, তার মোবাইল ফোন হারিয়ে যায় ফেব্র“য়ারিতে এবং এরপর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এ্যাকাউন্ট অপব্যবহার হয়ে থাকতে পারে।
তবে ওই সময়ের পরও তার সঙ্গে একাধিকবার একাডেমিক বিষয়ে বার্তা আদান-প্রদান হয়েছে বলে দাবি করেন শিক্ষার্থীরা। এমনকি স¤প্রতি তিনি নিজের প্রোফাইল থেকে গবেষণা-সংক্রান্ত সংবাদও শেয়ার করেছেন। পাশাপাশি সা¤প্রতিক ঘটনার পর আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মুখ খুলেছেন বলেও জানা গেছে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ