খুলনা | শুক্রবার | ১৯ জুন ২০২৬ | ৬ আষাঢ় ১৪৩৩

প্রেস ব্রিফিংয়ে কোস্ট গাডের্র ডিজি জিয়াউল হক

সুন্দরবনের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার অপচেষ্টা বরদাশত করা হবে না

মোংলা প্রতিনিধি |
০২:১০ এ.এম | ১৯ জুন ২০২৬


বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড মহাপরিচালক রিয়ার এডমিরাল মোঃ জিয়াউল হক বলেছেন, সুন্দরবনে দস্যুতা দমন, মাদক ও মানব পাচার রোধ এবং উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে দৃঢ় অবস্থানে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। তিনি বলেন, সুন্দরবনের নিরাপত্তা বিঘিœত করার অপচেষ্টা বরদাশত করা হবে না।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সুন্দরবনের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি ছাড়াও ভাসমান ষ্টেশন পরিদর্শন শেষে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড মহাপরিচালক রিয়ার এডমিরাল মোঃ জিয়াউল হক সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
কোস্ট গার্ডের ডিজি বলেন, দেশের সামুদ্রিক সম্পদ রক্ষা, মাদক ও মানবপাচার প্রতিরোধ, চোরাচালান ও অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ, জেলে ও উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং দুর্যোগকালীন উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।
তিনি বলেন, বিশেষ করে সুন্দরবন অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও সম্পূর্ণরূপে বনদস্যুতা দমনে বর্তমান সরকারের দিকনির্দেশনায় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে “অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন” এবং “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড” নামে দু’টি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, কোস্ট গার্ডের ধারাবাহিক অভিযান, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টায় দস্যু চক্রগুলো ব্যাপকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত ছোট সুমন ও তার সহযোগীরা স¤প্রতি কোস্ট গার্ডের নিকট আত্মসমর্পণ করে। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে বনদস্যুদের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত মোংলার জয়মনির ঘোল এলাকায় কোস্ট গার্ড স্টেশন হারবারিয়া স্থাপনের কারণে বনদস্যুদের কাছে রসদ, লজিস্টিক সহায়তা, অস্ত্র ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহের পথ কার্যকরভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ফলে তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা উল্লেখযোগ্যভাবে ব্যাহত হয়েছে এবং সুন্দরবনে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।
স¤প্রতি সুন্দরবনের জয়মনির ঘোল এলাকায় কোস্ট গার্ড স্টেশন হারবারিয়ায় দুর্বৃত্তদের হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় নিন্দা জানান কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক। তিনি বলেন, রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত একটি বাহিনীর স্থাপনায় হামলা কেবল সরকারি সম্পদের ক্ষতিই নয়, বরং সুন্দরবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অপরাধ দমন কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করার একটি অপচেষ্টা বলে প্রতীয়মান। এ ঘটনার পরপরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ সময় সুন্দরবন ও উপকূলীয় এলাকার জনগণের প্রতি আহŸান জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো ধরনের গুজব, অপপ্রচার বা বিভ্রান্তিকর তথ্য দ্বারা প্রভাবিত না হয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আস্থা রাখুন এবং দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করুন। পাশাপাশি সুন্দরবনের নিরাপত্তা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং স্থানীয় জনগণের নিরাপদ জীবন-জীবিকা নিশ্চিত করতে যে কোনো অপরাধমূলক তথ্য কোস্ট গার্ড জরুরি সেবা নম্বর ১৬১১১-এ অবহিত করার মাধ্যমে অপরাধ দমনে সক্রিয় ভূমিকা রাখুন।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ