খুলনা | শনিবার | ২০ জুন ২০২৬ | ৬ আষাঢ় ১৪৩৩

কলারোয়ায় যুবকের ও আশাশুনিতে খাল থেকে বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা |
১২:৪১ এ.এম | ২০ জুন ২০২৬


সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার খাল থেকে আব্দুর রহিম মালি (৬০) নামে এক মানসিক ভারসাম্যহীন বৃদ্ধের এবং কলারোয়ায় মোবাইল টাওয়ারের নিচে থেকে মেহেদী হাসান (৩২) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে আশাশুনির বেউলা পশ্চিম বিলের লম্বাডাঙ্গা খাল থেকে আব্দুর রহিমের মরদেহ এবং সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কলারোয়ার জালালাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের পেছনের মোবাইল টাওয়ারের নিচে থেকে মেহেদী হাসানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মৃত আব্দুর রহিম মালি সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা ইউনিয়নের শেতপুর গ্রামের মৃত ফরিদ উদ্দিন মালির ছেলে এবং নিহত মেহেদী হাসান কলারোয়া উপজেলার কয়লা গ্রামের মিজানুর রহমানের ছেলে। তিনি পেশায় একজন মধু ব্যবসায়ী ছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, অনেকদিন আগে থেকে আব্দুর রহিম মালি মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন ছিলেন। শুক্রবার ভোর রাতে ফজরের নামাজ পড়ার জন্য মসজিদে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে তিনি আর ফিরে আসেননি। সকালে বুধহাটা ইউনিয়নের বেউলা গ্রামের পশ্চিম বিলের লম্বাডাঙ্গা খালে আব্দুর রহিমের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা তার বাড়িতে খবর দেয়। খবর পেয়ে স্বজনরা মরদেহ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যায়।
আশাশুনি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ হারুনার রশিদ মৃধা বলেন, আব্দুর রহিম মালি মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন ছিলেন। অসাবধানতাবশত: খালের পানিতে পড়ে গিয়ে তিনি আর উঠতে পারেননি। খালের পানিতে পড়ে থাকার কারণে কাঁকড়া বা অন্য জল প্রাণী আঘাতে তার চোখেও মুখে সামান্য ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি তদন্তপূর্বক পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 
এদিকে নিহত মেহেদী হাসানের স্ত্রীর বরাত দিয়ে কলারোয়া থানা পুলিশ জানায় বৃহস্পতিবার রাত ৯টা পর্যন্ত মেহেদী হাসান তার স্ত্রীর সাথে কলারোয়া উপজেলার আলাইপুর গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে ছিল। রাত ৯টার পর বাড়ি যাওয়ার কথা বলে সে শ্বশুরবাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। নিহতের মা মনোয়ারা খাতুন জানান, শ্বশুর বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে সে বেরিয়ে যায়। রাতে আর ফিরে আসেনি। শুক্রবার সকালে প্রতিবেশীদের মাধ্যমে জানতে পারি যে, জালালাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের পিছনে মোবাইল টাওয়ারের গোড়ায় তার মরদেহ পড়ে রয়েছে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, বাড়ির পাশে নজরুল ইসলাম নামের একজনের সঙ্গে জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাদের বিরোধ রয়েছে। পূর্ব বিরোধীদের জের ধরে তারাই আমার ছেলেকে হত্যা করে থাকতে পারে বলে তিনি সন্দেহ পোষণ করছেন।
কলারোয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এইচ এম শাহীন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড। মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে।
 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ