খুলনা | শনিবার | ২০ জুন ২০২৬ | ৬ আষাঢ় ১৪৩৩

খবিরের পানি বিক্রির ভ্যানটি অকেজো, মেরামতে প্রয়োজন পাঁচ হাজার টাকা

এস এস সাগর, চিতলমারী |
০৩:৩১ পি.এম | ২০ জুন ২০২৬


পঁয়ষট্টি বছরের খবির দাড়িয়া। জীর্ণশীর্ণ শরীর। মানুষের কাছে হাত পাততে বড় লজ্জা। তাই দু’বেলা দু’মুঠো খাওয়ার জন্য হাড়ভাঙা সংগ্রাম। পুরানো জোড়াতালি দেওয়া ভ্যানে পানি বিক্রি করে চলত তাঁর জীবিকা। তাও এখন বন্ধ হওয়ার উপক্রম। পানি বিক্রির কাজে ব্যববহৃত ভ্যানটি এখন অকেজো। মেরামতের জন্য প্রয়োজন পাঁচ হাজার টাকা। কিন্তু টাকা দিয়ে সহযোগিতা করার মত তেমন কেউ নেই। তাইতো বৃদ্ধ খবিরের কপালে আজ দুঃচিন্তার ভাঁজ।

শনিবার (২০ জুন) সরেজমিনে দেখা গেছে, বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলা পরিষদের পুকুর। পুকুরের পাড় থেকে ৭ থেকে ৮ ফুট গভীরে পানি। সেখান থেকে দু’হাতে দু’টি কলসিতে পানি ভরে পিচ্ছিল পথ অতিক্রম করে পাড়ে তুলছেন খবির। পাড় থেকে আবার ভাঙা ভ্যানে উঠে বিক্রির জন্য কলসির পানি ড্রামে ঢালছেন। ভ্যানের লক্কর-ঝক্কর কাঠের বডিটি দড়ি দিয়ে বাধা। দড়ি ছিঁড়ে যে কোন সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দূর্ঘটনা। তবুও খবিরের পানি নিয়ে ছুটে চলা। কারণ এই পানি বিক্রি করতে না পারলে তাঁর দু’বেলার আহার বন্ধ হয়ে যাবে।

খবির দাড়িয়া (৬৫) জানান, উপজেলার আড়–য়াবর্নি চরপাড়া গ্রামে তাঁর বসবাস। বাবা কেয়াম উদ্দিন দাড়িয়া ও মা মাঝু বিবি মারা গেছেন বহু বছর আগে। স্ত্রী ও দুই ছেলে ২০ বছর আগে তাঁকে ফেলে অন্যত্র চলে গেছে। সেই থেকে একা চলা। তাই দু’বেলা দু’মুঠো খাওয়ার জন্য হাড়ভাঙা সংগ্রাম করেন। বাজারে চায়ের দোকান ও হোটেলে রান্নার জন্য পুকুরের পানি বিক্রি করেই তাঁর জীবিকা চলে। প্রতি কলস পানি ১০ টাকা এবং এক ড্রাম ১০০ টাকা। পানি বিক্রি করে দিনে ২০০-৩০০ টাকা আয় করেন। এ দিয়ে সে হোটেল থেকে খাবার কিনে খান। যেদিন আয় হয় না সেদিন না খেয়ে থাকেন। বর্তমানে ভ্যানের বডি ভেঙে লক্কর-ঝক্কর অবস্থা। তবুও চরম ঝুঁকি নিয়ে পানি টানছেন। তানা হলে খাওয়া বন্ধ হয়ে যাবে। ভ্যানটি মেরামত করতে তাঁর কমপক্ষে ৫ হাজার টাকা প্রয়োজন। আজ পর্যন্ত তিনি কখনো কোন সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতা পাননি।

চিতলমারী সদর বাজারের ব্যবসায়ী সুবল কর্মকার জানান, খবির দাড়িয়া না খেয়ে থাকলেও কখনো ভিক্ষা করেন না। তাই তাঁর সহযোগিতার জন্য ভ্যানটি মেরামত বা একটি নতুন ভ্যানের ব্যবস্থা করা উচিৎ। 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ