খুলনা | সোমবার | ২২ জুন ২০২৬ | ৯ আষাঢ় ১৪৩৩

কৃষি জমির অম্লতা বৃদ্ধি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিন

|
১২:১৬ এ.এম | ২২ জুন ২০২৬


শস্য শ্যামল বাংলাদেশের মূল চালিকাশক্তি হলো এর উর্বর মাটি। কিন্তু সা¤প্রতিক সময়ে কৃষি জমিতে বাড়ছে এসিডিটি বা অম্লতা। এতে জমির উৎপাদনক্ষমতা যেমন কমছে, আবার কৃষকের খরচও বেড়েই চলেছে। বলা যায়, দেশের কৃষিতে নীরব বিপর্যয় দানা বাঁধছে। জমির এই গুণগত মানের অবক্ষয় শুধু আমাদের খাদ্য নিরাপত্তার জন্যই হুমকি নয়, বরং আমাদের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার পথেও বড় অন্তরায়।
মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের (এসআরডিআই) গবেষণার বরাত দিয়ে গতকাল কালের কণ্ঠের প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের ৩৯ লাখ হেক্টর বা আমাদের আবাদি জমির প্রায় অর্ধেক বর্তমানে অম্লতা থেকে অতি অম্লতার পর্যায়ে পৌঁছেছে। এসব জমির পিএইচ মান ৪.৫ থেকে ৫.৫, যেখানে আদর্শ মান হলো ৬.৫ থেকে ৭.৫। এ ধরণের মাটি থেকে ফসল প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান গ্রহণ করতে পারে না। এতে ফলন কমে যায়। গবেষকরা বলছেন, একদিকে ফসলের মাধ্যমে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, পটাসিয়াম ও সোডিয়ামের মতো ক্ষারধর্মী উপাদান ক্রমাগত অপসারিত হচ্ছে; অন্যদিকে ইউরিয়া ও সালফারজাত রাসায়নিক সারের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার মাটিকে অতিরিক্ত অম্ল করে তুলছে।
জৈবসারের ব্যবহার কমে যাওয়া, অতিবৃষ্টিতে পুষ্টি উপাদান ধুয়ে যাওয়া মাটির অম্লতা বৃদ্ধির জন্য দায়ী। এছাড়া মাটির স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিয়ে শুধু একের পর এক ফসল উৎপাদনের কারণেও মাটির গুণগত মান কমছে। এর চড়া মূল্য দিতে হচ্ছে আমাদের কৃষকদের। কঠোর পরিশ্রম করেও কৃষকরা কাক্সিক্ষত ফলন পাচ্ছেন না, যা তাঁদের ঠেলে দিচ্ছে ধারাবাহিক লোকসানের দিকে।
আমাদের মনে রাখতে হবে, মাটি শুধু ফসল উৎপাদন মাধ্যম নয়, এটি জীবন্ত ইকোসিস্টেম।একে বাঁচিয়ে না রাখলে ভবিষ্যতে খাদ্যসংকট প্রকট হবে। চলমান বিপর্যয় রোধে গবেষকরা বলছেন, সঠিক মাত্রায় চুন প্রয়োগের মাধ্যমে মাটির মান পুনরুদ্ধার করা সম্ভব। শুধু তা-ই নয়, এতে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি সার খরচ কম লাগায় উৎপাদন খরচও অনেকটা বেঁচে যায়। খবরে বলা হয়েছে, এ নিয়ে রাজশাহীর তানোর উপজেলায় আলু চাষিদের নিয়ে মাঠ পর্যায়ে গবেষণাও হয়েছে। এতে বেশ চমকপ্রদ ফল পাওয়া গেছে। এ ছাড়া জৈবসারও মাটির অম্লতা নিয়ন্ত্রণে জাদুর মতো কাজ করে।
আমরা মনে করি, অম্লতার অভিশাপ থেকে মাটিকে মুক্ত করতে এখনই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। প্রতিটি এলাকার মাটি পরীক্ষা করে সে বিষয়ে করণীয় সম্পর্কে স্থানীয় পর্যায়ে কৃষকদের অবগত করতে হবে। পাশাপাশি অম্লতা সহনশীল ফসলের জাত উদ্ভাবনে গবেষণায় জোর দেওয়া এখন সময়ের দাবি।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ