খুলনা | সোমবার | ২২ জুন ২০২৬ | ৯ আষাঢ় ১৪৩৩

পরিদশর্নকালে যুগ্ম-সচিবের অসন্তোষ

ডুমুরিয়ায় খাল খননের নামে অর্থের অপচয়, জলাবদ্ধতা নিরসন অনিশ্চিত

শেখ আব্দুস সালাম, ডুমুরিয়া |
০১:৪৫ এ.এম | ২২ জুন ২০২৬


কোথাও ৫ ফুট, কোথাও ৭ ফুট, আবার কোথাও রয়েছে ১০ ফুটের মত পানি। সেই পানির মধ্যে ভাসমান ভেক্যু দিয়ে পেড়ি মাটি তুলে ফেলা হচ্ছে খালের পাড়ে। শ্রমিকদের অংশগ্রহণে খাল কাটার কথা থাকলেও সেটি করা হচ্ছে না। এমন অবস্থা দেখা গেছে খুলনা জেলার ফুলতলা ও ডুমুরিযা উপজেলার বিল ডাকাতিয়ার নিমতলা ও ডুমুরিয়া উপজেলার সাহস ইউনিয়নের তেলিখালী খালে। এই খাল দু’টি খননে ব্যয় ধরা হয়েছে আড়াই কোটি টাকার উপরে। এদিকে খাল খনন কাজ পরিদর্শনে এসে ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব মিনাক্ষী ব্রহ্ম অসন্তোষ প্রকাশ করে নকশা অনুযায়ী ও পানি অপসারণ করে খাল খননের নির্দেশনা দিয়েছেন। 
খুলনা জেলার ডুমুরিয়া ও ফুলতলা উপজেলার জলাবদ্ধতার সমস্যা দীর্ঘদিনের। এই জলাবদ্ধতা নিরসনে নির্বাচনী প্রতিশ্র“তি অনুযায়ী খাল খননের উদ্যোগ নেয় সরকার। তারই অংশ হিসেবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ত্রান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অর্থায়নে ইজিপিপি (এমপ¬য়মেন্ট জেনারেশন প্রগ্রাম ফর দ্যা পুয়োরেস্ট) অর্থাৎ অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির আওতায় বিলডাকাতিয়ার নিমতলা থেকে সাড়াভিটা ৮০ ফুট খাল নামে পরিচিত খালটি ১ কোটি ৩০ লাখ ১১ হাজার ৮৪৩ টাকা ব্যয়ে খনন করা হচ্ছে। যার মধ্যে শ্রমিকদের জন্য বরাদ্দ ৩৯ লাখ ৪৪ হাজার টাকা। আধুনিক যন্ত্রের সাহায্যে খননের জন্য বরাদ্দ ৯০  লাখ ৭১ হাজার ৮৪৩ টাকা। এছাড়া ডুমুরিয়ার ডোলডাঙ্গা কাঠবুনিয়া খাল খননে বরাদ্দ ১ কোটি ২৮ লাখ ৭৯ হাজার ৮৮৮ টাকা। যার মধ্যে শ্রমিকদের জন্য বরাদ্দ ৬৩ লাখ ৮৫ হাজার ৫০০টাকা। আধুনিক যন্ত্রের সাহায্যে খননের জন্য বরাদ্দ ৬৪ লাখ ৭৯ হাজার ৮৮৮ টাকা। 
স্থানীয়দের অভিযোগ যে  খালে এখনও ৫ থেকে ১০ ফুট পানি রয়েছে সেই খাল খননের কি প্রয়োজন। তাছাড়া খাল খননের মাটি খালের মধ্যেই রাখা হচ্ছে যা বৃষ্টি হলে আবার খালে যাবে। জলাবদ্ধতা নিরসন করতে হলে পানি বের হওয়ার স্থান আগে খনন করতে হবে। না হলে কোন উপকারে আসবে না।
এদিকে গত সপ্তাহে ত্রান মন্ত্রণালযের যুগ্ম-সচিব মিনাক্ষী ব্রহ্ম জলাবদ্ধতা নিরসন ও খাল খননের প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্পের কাজ পরিদর্শনে আসেন। তিনি খাল খননের প্রক্রিয়া দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি নিয়ম ও নকশাঁ অনুযায়ী খাল খননের জন্য সংশ্লি¬ষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। 
বিলডাকাতিয়ার নিমতলা থেকে সাড়াভিটা ৮০ ফুট খাল নামে পরিচিত খাল খনন প্রকল্পের সভাপতি ২ নম্বর রঘুনাথপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মনোজিৎ বালা বলেন, সঠিক ভাবে খাল খনন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে অর্ধেকের বেশি কাজ শেষ হয়েছে। তবে খাল খনন প্রকওেল্পর অনুকূলে বরাদ্দ দেয়া অর্থের কোন ছাড় পাইনি। তিনি বলেন যুগ্ম-সচিব মহোদয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী খাল খনন কাজ চলমান রয়েছে। 
ডুমুরিযা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের উপ-সহকারি প্রকৌশলী মোঃ রবিউল ইসলাম জানান, বিলডাকতিয়া ও সাহস ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে বয়ে চলা দু’টি খাল খনন চলমান রয়েছে। ডোলডাঙ্গা কাঠবুনিয়া খাল খননে বরাদ্দ ১ কোটি ২৮ লাখ ৭৯ হাজার ৮৮৮ টাকার মধ্যে ২৪ লাখ টাকা ছাড় করা হয়েছে। আর বিলডাকাতিয়ার নিমতলা থেকে সাড়াভিটা ৮০ ফুট খাল নামে পরিচিত খালটি ১ কোটি ৩০ লাখ ১১ হাজার ৮৪৩ টাকা ব্যয়ে খনন কাজ চলছে। তবে এ প্রকল্পে এখনও অর্থ ছাড় দেয়া হয়নি। অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি। 
এদিকে জেলা ত্রান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল করিম জানালেন জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ি খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এর মধ্যে খুলনা জেলার ডুমুরিয়া ও ফুলতলা উপজেলার দু’টি খাল খনন করা হচ্ছে। বর্তমানে ভেক্যু দিয়ে কাজ চলছে। এছাড়া শ্রমিক দিয়ে মাটি ড্রেসিং করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ