খুলনা | সোমবার | ২২ জুন ২০২৬ | ৯ আষাঢ় ১৪৩৩

আন্দোলনের একক কৃতিত্ব নেওয়ার অপচেষ্টা ও উসকানিমূলক রাজনীতি পরিহার করুন

সমাবেশে জামায়াত-মামুনুল-নাসিরের বক্তব্যের ধিক্কার মহানগর বিএনপি’র

খবর বিজ্ঞপ্তি |
০১:৫০ এ.এম | ২২ জুন ২০২৬


খুলনার ঐতিহাসিক সার্কিট হাউজ ময়দানে গত ২০ জুন অনুষ্ঠিত ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডাঃ শফিকুর রহমান, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দীন পাটোয়ারী কর্তৃক বিএনপিকে জড়িয়ে দেওয়া অসত্য, বিভ্রান্তিকর ও রাজনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভ‚ত বক্তব্যের তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও ধিক্কার জানিয়েছে খুলনা মহানগর বিএনপি।
গতকাল রবিবার যৌথ বিবৃতিতে খুলনা মহানগর বিএনপি’র সভাপতি এড. শফিকুল আলম মনা এবং সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন এই মিথ্যাচারের কড়া জবাব দেন। নেতৃবৃন্দ স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যারা দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে জনগণের আত্মত্যাগকে খাটো করে নিজেদের স্বার্থে সস্তা ও উসকানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছেন, খুলনা তথা দেশের মানুষ তাদের এই রাজনৈতিক হঠকারিতা ও একক কৃতিত্ব নেওয়ার অপচেষ্টা কখনোই মেনে নেবে না।
সমাবেশে জামায়াত আমির ও মামুনুল হকের ‘বিএনপি জাতির সাথে দেওয়া কথা রাখেনি ও জুলাই সনদের সাথে প্রতারণা করেছে’Ñএমন মিথ্যাচারের জবাবে বিএনপি নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘বিএনপি কোনো আপসকামী দল নয়। দীর্ঘ ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে বিএনপি’র হাজার হাজার নেতাকর্মী গুম, খুন ও পঙ্গুত্বের শিকার হয়েছেন। খুলনার মাটিতে দাঁড়িয়ে যারা আজ বড় বড় কথা বলছেন, তারা যখন ফ্যাসিবাদের সাথে গোপনে আঁতাত করে কিংবা নিজেদের গুটিয়ে রেখেছিলেন, তখনও বিএনপি’র লাখ লাখ নেতাকর্মী রাজপথে বুকের রক্ত ঢেলে দিয়েছেন। সুতরাং, বিএনপিকে নিয়ে কথা বলার আগে নিজেদের আজ্ঞাবহ ও আপসকামী অতীতের দিকে তাকানো উচিত।
ডাঃ শফিকুর রহমানের ‘আরেকটি অনিবার্য বিপ্লবের জন্য প্রস্তুত থাকুন’ এবং ‘সংসদে ফয়সালা না হলে আগ্নেয়গিরি তৈরি হবে’Ñএমন উসকানিমূলক বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে বিএনপি নেতারা বলেন, ২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশ যখন একটি স্থিতিশীল গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার দিকে এগোচ্ছে, ঠিক তখনই ’৭১-এর মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের গৌরবময় ইতিহাসকে মুছে ফেলে, কেবল ২৪-কে সামনে এনে যারা ভাওতাবাজি করতে চাচ্ছেÑদেশের জনগণ তাদের চেনে। ৭১-এ স্বাধীনতা যুদ্ধের বিপক্ষে অবস্থানকারী পরাজিত শক্তির মুখে যুবসমাজকে ‘আরেকটি অনিবার্য বিপ্লবের’ নামে মাঠে নামানোর উসকানি অত্যন্ত রহস্যজনক এবং দেশকে গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দেওয়ার চক্রান্ত। খুলনার শান্তিপ্রিয় মানুষ কোনো তৃতীয় অপশক্তির এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে দেবে না। জামায়াতকে কাঠগড়ায় তুলে বিএনপি নেতারা সরাসরি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, টাকার বিনিময়ে কারা ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদককে দীর্ঘ সময় আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় দিয়েছিলেন? অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যাংক-বীমা-হাসপাতাল কারা গায়ের জোরে দখলে নিয়েছিল? আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে কারা ‘ছায়া সরকার’ হিসেবে দেশ পরিচালনা করার অপচেষ্টা করেছে, তা দেশের মানুষ ভুলে যায়নি। এমনকি পুলিশ প্রশাসনে নিজেদের পছন্দের লোকদের পোস্টিং দেওয়া এবং খুলনা-৬ আসনে সরকারি বরাদ্দের টাকা লুটপাটের প্রমাণ ইতিমধ্যে মিলেছে।
সমাবেশে মাওলানা মামুনুল হকের বক্তব্যের প্রতিবাদে নেতৃবৃন্দ বলেন, গণভোটের আড়ালে যদি কোনো সুগভীর চক্রান্ত বা একনায়কতান্ত্রিক প্রবণতা লুকিয়ে থাকে, তবে তার সমালোচনা করার অধিকার একটি গণতান্ত্রিক দলের রয়েছে। এটাকে ‘অন্তহীন প্রতারণা’ বলা মাওলানা মামুনুল হকের সংকীর্ণ ও দেউলিয়া রাজনৈতিক মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ। অন্যদিকে, এনসিপির নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী কর্তৃক বিএনপিকে ‘ব্যর্থ ও সন্ত্রাসী’ আখ্যা দেওয়া এবং খুলনার স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে দলীয়করণের কাল্পনিক অভিযোগের জবাবে নেতারা বলেন, যাদের কোনো রাজনৈতিক ভিত্তি ও জনগণের ম্যান্ডেট নেই, তারা লাইমলাইটে আসার জন্য বিএনপি’র মতো ঐতিহ্যবাহী দলের বিরুদ্ধে কুৎসা রটাচ্ছেন। কেসিসি, জেলা পরিষদ বা কেডিএ-তে কোনো দলীয়করণ করা হয়নি, বরং ফ্যাসিবাদের দোসরদের সরিয়ে জনবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। যাদের ত্যাগের খাতা শূন্য, তাদের কাছ থেকে বিএনপি’র মতো ত্যাগী দলকে সফলতার সার্টিফিকেট নিতে হবে না।
খুলনা মহানগর বিএনপি ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের উদ্দেশ্যে স্পষ্ট ভাষায় বলে, দেশ এখন একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর সময় পার করছে। এই মুহূর্তে আধিপত্যবাদ ও স্বৈরাচারের অবশিষ্টাংশের বিরুদ্ধে সব দেশপ্রেমিক শক্তির মধ্যে ইস্পাতকঠিন ঐক্য প্রয়োজন। এমন সময়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে কাদা ছোড়াছুড়ি এবং উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। অন্যথায়, এই ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের কারণে যদি রাজনৈতিক মাঠ আবার উত্তপ্ত হয় এবং কোনো অগণতান্ত্রিক শক্তি এর সুফল লুফে নেয়, তবে তার সমস্ত দায়ভার জামায়াত ও ১১ দলীয় ঐক্যকেই নিতে হবে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ