খুলনা | মঙ্গলবার | ২৩ জুন ২০২৬ | ১০ আষাঢ় ১৪৩৩

ফ্রিল্যান্সারদের জন্য সুখবর দিলেন অর্থমন্ত্রী

খবর প্রতিবেদন |
০২:০৮ এ.এম | ২৩ জুন ২০২৬


দেশের ফ্রিল্যান্সারদের সুখবর দিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। আন্তর্জাতিক অনলাইন পেমেন্ট সেবা প্রতিষ্ঠান পেপ্যালসহ কয়েকটি বৈশ্বিক পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘তরুণ উদ্যোক্তা, ফ্রিল্যান্সার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য ডিজিটাল অর্থনীতির নতুন সুযোগ তৈরি এবং বৈদেশিক আয় দেশে আনা সহজ করতেই সরকার এ উদ্যোগ নিয়েছে।’
সোমবার রাজধানীর গ্রিন রোডে ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের অডিটোরিয়ামে সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘নতুন বাজেটে তরুণ প্রজন্মকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। স্টার্টআপ উদ্যোক্তা, ফ্রিল্যান্সার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য কর-সুবিধা দেওয়া হয়েছে এবং বিদেশ থেকে আয় দেশে আনার প্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছে।’
তিনি জানান, পাঁচ হাজার ডলার পর্যন্ত বৈদেশিক আয় দেশে আনতে কোনো ধরনের জটিলতা বা অতিরিক্ত ফরম পূরণের প্রয়োজন হবে না। রেমিট্যান্স ও বৈদেশিক লেনদেনের প্ল্যাটফর্মগুলোও আরও সহজ ও উন্মুক্ত করা হয়েছে।
আমির খসরু বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন ডিজিটাল পেমেন্ট ও ট্রানজেকশন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরকার আলোচনা করছে। এরই মধ্যে পেপ্যালসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে কার্যক্রম চালুর আগ্রহ দেখিয়েছে এবং এ বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে।’
ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশকে বাস্তব অর্থে একটি ডিজিটাল রাষ্ট্রে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে। দেশের বিভিন্ন সেবা ধীরে ধীরে অনলাইনে ও রিয়েল-টাইম প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসা হচ্ছে, যাতে মানুষকে সরকারি অফিসে গিয়ে হয়রানির শিকার হতে না হয়।’
তার মতে, ‘সরকারি সেবার ডিজিটালাইজেশন বাড়লে দুর্নীতি কমবে, সেবার গতি বাড়বে এবং কর ফাঁকি দেওয়ার সুযোগও সংকুচিত হবে। এজন্য একটি শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট অবকাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।’
বাজেটের সামগ্রিক দর্শন তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বৈশ্বিক অস্থিরতা, যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে স্বল্প সময়ের মধ্যে বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে জনগণের প্রত্যাশা অনেক বেড়েছে এবং সেই আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটানোর চেষ্টা করা হয়েছে এবারের বাজেটে।’
তিনি বলেন, ‘অতীতে দেশের অর্থনীতি কিছু বিশেষ গোষ্ঠীকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছিল। সেই ধারা থেকে বেরিয়ে এসে সরকার এখন ‘অর্থনৈতিক গণতন্ত্রায়ন’-এর পথে এগোতে চায়, যেখানে অর্থনীতির সুফল সমাজের সব স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছাবে।’
সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশেও গুরুত্বারোপ করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি জানান, কামার, কুমার, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প উদ্যোক্তা, বাউলশিল্পী, পালাগান ও থিয়েটারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মূলধারার অর্থনীতিতে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পূর্বাচলে ১৬০ একর জমির ওপর একটি থিয়েটার ডিস্ট্রিক্ট গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিজিএসের সভাপতি জিল্লুর রহমান। এতে বক্তব্য দেন অর্থনীতিবিদ সেলিম জাহান, বিসিআই সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ, ট্রান্সকম লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সিমিন রহমানসহ বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধিরা।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ