খুলনা | বুধবার | ২৪ জুন ২০২৬ | ১১ আষাঢ় ১৪৩৩

জামায়াতের বিভাগীয় সমাবেশে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যের নিন্দা ও ধিক্কার জেলা বিএনপি’র

খবর বিজ্ঞপ্তি |
০২:২৭ এ.এম | ২৩ জুন ২০২৬


টানা ১৭ বছর বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, জনগণের ভোট ও ভাতের অধিকার আদায়ের জীবনবাজী রেখে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। ফ্যাসিবাদ পতনের পর জনগনের ভোটে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রকৃত মালিকানা স্বত্ব জনগণকেই ফেরত দিয়েছেন। অথচ, খুলনার সার্কিট হাউস ময়দানে গত ২০ জুন ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডাঃ শফিকুর রহমান, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক এবং জাতীয় নাগরিক পাটি-এনসিপি’র মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দীন পাটোয়ারী কর্তৃক বিএনপিকে জড়িয়ে দেওয়া কুরুচিপূর্ণ, অসত্য, বিভ্রান্তিকর ও রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত বক্তব্য রেখেছেন। এ ধরনের অরাজনৈতিক বক্তব্যের তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও ধিক্কার জানিয়ে গতকাল সোমবার (২২ জুন) বিবৃতি দিয়েছেন খুলনা জেলা বিএনপি’র নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশে জামায়াত আমির ও মামুনুল হকের ‘বিএনপি জাতির সাথে দেওয়া কথা রাখেনি ও জুলাই সনদের সাথে প্রতারণা করেছে’ এমন মিথ্যাচারের জবাবে জেলা বিএনপি নেতৃবৃন্দ বলেছেন, বিএনপি কোনো আপসকামী বা গুপ্ত রাজনৈতিক দল নয়। দীর্ঘ ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে বিএনপি’র হাজার হাজার নেতাকর্মী গুম, খুন ও পঙ্গুত্বের শিকার হয়েছেন। খুলনার মাটিতে দাঁড়িয়ে যারা আজ বড় বড় কথা বলছেন, তারা যখন ফ্যাসিবাদের সাথে গোপনে আঁতাত করে কিংবা নিজেদের গুটিয়ে রেখেছিলেন, তখনও বিএনপি’র লাখ লাখ নেতাকর্মী রাজপথে বুকের রক্ত ঢেলে দিয়েছেন। সুতরাং, বিএনপিকে নিয়ে কথা বলার আগে নিজেদের আজ্ঞাবহ ও আপসকামী অতীতের দিকে তাকানো উচিত।
খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-কেডিএ, খুলনা সিটি কর্পোরেশন-কেসিসি ও খুলনা জেলা পরিষদে সাময়িকভাবে রাজনৈতিক নেতাদের দায়িত্ব দেওয়াকে জামায়াতের সমাবেশে চরম কুরুচিপূর্ণ ভাষায় কটাক্ষ করে বক্তব্য দেয়াকে অত্যন্ত ঘৃণ্য মানসিকতার পরিচয়ক বলে আখ্যা দিয়েছেন বিএনপি নেতৃবৃন্দ।
বিবৃতিতে নেতারা বলেন, যাদের কোনো রাজনৈতিক ভিত্তি ও জনগণের ম্যান্ডেট নেই, তারা লাইমলাইটে আসার জন্য বিএনপি’র মতো ঐতিহ্যবাহী দলের বিরুদ্ধে কুৎসা রটাচ্ছেন। কেসিসি, জেলা পরিষদ ও কেডিএ-তে কোনো দলীয়করণ করা হয়নি, বরং ফ্যাসিবাদের দোসরদের সরিয়ে জনবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। যাদের ত্যাগের খাতা শূন্য, তাদের কাছ থেকে বিএনপি’র মতো ত্যাগী দলকে সফলতার সার্টিফিকেট নিতে হবে না।
খুলনা জেলা বিএনপি ১১দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের উদ্দেশ্যে স্পষ্ট ভাষায় বলে, দেশ এখন একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর সময় পার করছে। এই মুহূর্তে আধিপত্যবাদ ও স্বৈরাচারের অবশিষ্টাংশের বিরুদ্ধে সব দেশপ্রেমিক শক্তির মধ্যে ইস্পাতকঠিন ঐক্য প্রয়োজন। এমন সময়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে কাঁদা ছোড়াছুড়ি এবং উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। অন্যথায়, এই ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের কারণে যদি রাজনৈতিক মাঠ আবার উত্তপ্ত হয় এবং কোনো অগণতান্ত্রিক শক্তি এর সুফল লুফে নেয়, তবে তার সমস্ত দায়ভার জামায়াত ও ১১ দলীয় ঐক্যকেই নিতে হবে।
বিবৃতিদাতারা হলেন খুলনা জেলা বিএনপি’র আহবায়ক মোঃ মনিরুজ্জামান মন্টু, যুগ্ম-আহবায়ক খান জুলফিকার আলী জুলু, মোল্লা খায়রুল ইসলাম, মোঃ তৈয়েবুর রহমান, এস এম শামীম কবির, গাজী তফসির আহমেদ, জিএম কামরুজ্জামান টুকু, অধ্যাপক মনিরুল হক বাবুল, অসিত কুমার সাহা ও এনামুল হক সজল প্রমুখ।
 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ