খুলনা | বৃহস্পতিবার | ২৫ জুন ২০২৬ | ১১ আষাঢ় ১৪৩৩

মধ্যবিত্তের আবাসন স্বপ্ন

খুলনায় ১৬ বছরের কিস্তিতে ফ্ল্যাট, লটারি ছাড়াই পাচ্ছে ২০০ পরিবার!

এন আই রকি |
০১:২৪ এ.এম | ২৫ জুন ২০২৬


খুলনা নগরীতে প্রথমবারের মতো আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ। মধ্যম আয়ের মানুষের আবাসনের সুবিধার্থে ‘ খালিশপুর হাউসিং স্টেটে মধ্যম আয়ের লোকদের জন্য আবাসিক ফ্লাট (গৃহায়ন রূপসা)’ নামের এই প্রকল্পে ১০ তলা বিশিষ্ট ৯টি বহুতল ভবনে মোট ৫৬০টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হবে। প্রায় ৬০০ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ের এই প্রকল্পটির ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা) ইতিমধ্যে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ খুলনা বিভাগের পক্ষ থেকে পাঠানো হয়েছে। 
নগরীর খালিশপুর থানাধীন সরকারি মহসিন কলেজের পাশে এবং রোটারি ক্লাবের বিপরীতে গৃহায়নের নিজস্ব ৮ দশমিক ৮৮ একর জমিতে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। প্রকল্পটির মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০২৯ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত। সংশ্লিষ্টরা জানান, খুলনা নগরীতে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ ইতিপূর্বে শুধু প্লটের ব্যবস্থা করলেও  ফ্ল্যাটের ব্যবস্থা এই  প্রথম। 
প্রকল্পের প্রস্তাবিত তথ্য অনুযায়ী, ৫৬০টি ফ্ল্যাটের জন্য ৯টি ১০ তলা ভবন নির্মাণ করা হবে, যার প্রতিটি ভবনেই থাকবে লিফট এবং দোতলায় কমিউনিটি হলের সুবিধা। এই ৯টি ভবনকে তিনটি শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬টি ভবনে মোট ৪২০টি ফ্ল্যাট হবে, যার প্রতিটির আয়তন ১৫৭৫ বর্গফুট। এখানে প্রতি ফ্লোরে ৮টি করে ফ্ল্যাট থাকবে এবং এই ভবনের বাসিন্দাদের জন্য গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গা থাকবে ২৭০টি। এই ফ্ল্যাটগুলোর ভেতরে একটি মাস্টার বেড, একটি চাইল্ড বেড, একটি ড্রয়িং রুম, একটি ডাইনিং স্পেস, একটি কিচেনসহ তিনটি ওয়াশরুমের সুযোগ-সুবিধা থাকবে। এছাড়া ১টি ভবনে ১৩৫৫ বর্গফুটের ৭০টি ফ্ল্যাট হবে, যেখানে ৪০টি গাড়ি পার্কিংয়ের সুবিধাসহ প্রতি ফ্ল্যাটে চারটি রুম, একটি কিচেন ও তিনটি ওয়াশ রুমের ব্যবস্থা থাকবে। আর সবচেয়ে ছোট ১২৫৩ বর্গফুটের ফ্ল্যাট হবে ৭০টি, যা দু’টি ভবন মিলিয়ে তৈরি করা হবে। এই ভবন দু’টিতে গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে ২৪টি এবং প্রতিটি বিল্ডিংয়ে ৩৫টি করে ফ্ল্যাট থাকবে, যার প্রতি ফ্লোরে ফ্ল্যাটের সংখ্যা ৪টি।
এর বাইরে প্রকল্পের আওতায় একটি ৭ তলা ভবনে মার্কেট কাম কমিউনিটি বিল্ডিং এবং একটি ৪ তলা ভবনে ক্লাব নির্মাণ করা হবে। এখানে ৫৬০টি ফ্ল্যাটের বাসিন্দাদের নাগরিক সুবিধার কথা চিন্তা করে একটি খেলার মাঠ, শিশুদের জন্য ৩টি পার্ক, ২টি গ্রিন স্পেস, ১টি পুকুর আধুনিকায়ন এবং ২০ থেকে ৪০ ফুট পর্যন্ত রাস্তা প্রশস্ত রাখা হবে। প্রকল্পটি জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের বোর্ড সভায় অনুমোদন হওয়ার পর মন্ত্রণালয় থেকে অর্থ ছাড় হলে কাজ শুরু করা হবে।
জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (সিভিল) আল মুজাহেদী মোহাম্মদ মাহসুদুল হক  জানান, প্রকল্পের ফ্ল্যাট একের বেশি কেউ পাবেন না। তবে এই ফ্ল্যাটগুলোর মধ্যে ২০০টি ফ্ল্যাটের জন্য কোনো লটারি হবে না। বর্তমানে যেখানে প্রকল্পটি করা হচ্ছে, সেখানকার হাউজিংয়ের বাড়িতে যারা ভাড়ায় আছেন, তারা যদি সকল দেনা পরিশোধ করেন তবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ওই ২০০ পরিবার নতুন প্রকল্পে ফ্ল্যাট পাবে। ফ্ল্যাটের মূল্য বাজারের বর্তমান অবস্থা অনুযায়ী ডিপিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে এবং গ্রাহকরা ১৬ বছরের কিস্তিতে এই বরাদ্দ পাবেন। তবে বরাদ্দ দেওয়ার ক্ষেত্রে আরও নতুন কিছু নির্দেশনা পরিবর্তন হওয়ার সুযোগ রয়েছে।
জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ খুলনা বিভাগের প্রকল্প পরিচালক ও নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ জিয়াউর রহমান  বলেন, প্রথমবারের মতো খুলনায় মধ্যম আয়ের মানুষের কথা চিন্তা করে আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। লটারির মাধ্যমে এই সমস্ত প্লট বরাদ্দ দেওয়া হবে। ইতিমধ্যে প্রকল্পের ডিপিপি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই আমাদের নিজস্ব জমিতে প্রকল্প বাস্তবায়ন করার কাজ শুরু হবে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ