খুলনা | শনিবার | ২৭ জুন ২০২৬ | ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩

মোংলার ফেরিঘাট পরিদর্শনে প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম

শ্রমিক-কর্মচারীদের দুর্ভোগ কমাতে মোংলা নদীতে ২টি ফেরি ২৪ ঘন্টা চলাচল করবে

মোংলা প্রতিনিধি |
০৫:৪২ পি.এম | ২৬ জুন ২০২৬


মোংলা বন্দর ও ইপিজেডে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীদের দুর্ভোগ কমাতে জনস্বার্থে মোংলা নদীতে ২টি ফেরি ২৪ ঘন্টা চলাচল করবে। ফেরি চলাচল যাতে বিঘ্নিত না হয় সেজন্য নদী নিয়মিত খনন করা হচ্ছে। এছাড়া মোংলা পৌর শহরের প্রাণ ঠাকুরানী খাল পরিস্কার করা হয়েছে। এখন খালের জায়গা শনাক্ত পরে খাল খনন করা হবে। এতে জীববৈচিত্র রক্ষা ও শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে। শহরের খাল পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন থাকলে মানুষ রক্ষা পাবে ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়ার হাত থেকে। মোংলা নদীর ফেরি চলাচল ব্যবস্থা ও ঠাকুরানী খাল পরিদর্শনকালে এসব কথা বলেছেন পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী লায়ন ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলাম।

উপজেলা প্রশাসন জানায়, উজবেকিস্তান, সমরখন্দ ও জার্মানির বন সফর শেষে দেশে ফিরেই নিজ নির্বাচনী এলাকা ও স্থানীয় উন্নয়নে মনোযোগ দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। শুক্রবার (২৬ জুন) সকাল সাড়ে ১০টায় তিনি মোংলার গুরুত্বপূর্ণ ফেরিঘাট ও ঠাকুরানী খাল পরিদর্শন করেন। দেশে ফেরার পর এটিই প্রতিমন্ত্রীর প্রথম মাঠপর্যায়ের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি। সকাল সাড়ে ১০টায় তিনি প্রথমে মোংলা ফেরিঘাটে পৌঁছান। সেখানে ঘাটের সার্বিক পরিস্থিতি এবং যাত্রী পারাপারের সুবিধা-অসুবিধা ঘুরে দেখেন। এরপর তিনি স্থানীয় ঠাকুরানী খাল এলাকায় যান এবং খালের চলমান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। পরিবেশ রক্ষা ও জলাবদ্ধতা দূরীকরণে এই পরিচ্ছন্নতা অভিযান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে স্থানীয়রা আশা করছেন।

পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, শুক্রবার থেকে মোংলা নদীতে ২৪ ঘন্টা দুইটি ফেরি সার্ভিস চালু করা হয়েছে। এর আগে জোয়ার-ভাটার উপর নির্ভর করে ১টি ফেরি চলাচল করতো। তাতে দুর্ভোগের সীমা ছিলোনা মানুষের। আমার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নতুন আরো একটি ফেরি সংযোজন করা হলো। এছাড়া ফেরি চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে মোংলা-ঘাষিয়াখালী চ্যানেল নিয়মিত খনন করা হবে।

তিনি আরো বলেন, নির্বাচনী আরো একটি অঙ্গিকার ছিল মোংলা পোর্ট পৌরসভার প্রধান খাল ঠাকুরানী খালটি উদ্ধার করা। ইতিমধ্যে তার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। খালের ময়লা পরিস্কার শেষ হয়েছে, এখন খালের জায়গা পরিমাপের কাজ চলছে। এরপর খালটি খনন করবে পানি উন্নয়ন বোর্ড। যার ফলে স্থানীয় জীববৈচিত্র সংরক্ষণ ও শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া আশংকা কমবে ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়ার।

ফেরিঘাট ও খাল পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা পরিদর্শনকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক শারমিন আক্তার সুমি, পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র মোঃ জুলফিকার আলী, সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মানিক, সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম নুর জনি, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আঃ মান্নান হাওলাদার ও সাধারণ সম্পাদক আবু হোসেন পনি ছাড়াও সড়ক ও জনপথ (রোডস অ্যান্ড হাইওয়ে) বিভাগের প্রতিনিধি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, বিভিন্ন পেশাজীবী ও শ্রমিক-কর্মচারীরা ছাড়াও স্থানীয় দলীয় নেতাকর্মীরা এ সময় উপস্থিত ছিলেণ। প্রতিমন্ত্রী উপস্থিত কর্মকর্তাদের কাজের গুণগত মান বজায় রাখার এবং দ্রুত কাজ শেষ করার তাগিদ দেন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ