খুলনা | রবিবার | ২৮ জুন ২০২৬ | ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩

সংসদকে পাশ কাটিয়ে আন্তর্জাতিক চুক্তি নয়: বিরোধীদলীয় নেতা

খবর প্রতিবেদন |
০৩:১১ পি.এম | ২৭ জুন ২০২৬

 

জাতীয় সংসদকে পাশ কাটিয়ে দেশের গুরুত্বপূর্ণ কোনো আন্তর্জাতিক চুক্তি বা নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করার আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, বিদেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত মৌলিক চুক্তিগুলো সংসদে উপস্থাপন করা হলে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং জনআস্থা আরও শক্তিশালী হবে। একইসঙ্গে তিনি দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পারস্পরিক সম্মান ও সমতার ভিত্তিতে স্বাধীন ও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনার ওপর জোর দেন।

শনিবার (২৭ জুন) জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বিদেশ সফর নিয়ে আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব বক্তব্য দেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উত্থাপিত ধন্যবাদ প্রস্তাবের প্রতি সমর্থন জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ সবার দেশ এবং দেশের স্বার্থ রক্ষায় একটি কার্যকর ও স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি প্রতিষ্ঠা করা সময়ের দাবি। তিনি বলেন, বিরোধী দল হিসেবে সরকারের গঠনমূলক উদ্যোগে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে তারা প্রস্তুত।

বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সম্পাদিত গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিগুলো সংসদে আলোচনার জন্য উপস্থাপনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সংসদকে পাশ কাটিয়ে কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। তার মতে, জাতীয় সংসদই হওয়া উচিত রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের মূল কেন্দ্র। সংসদে চুক্তি উপস্থাপন করা হলে জনপ্রতিনিধিরা সেগুলো পর্যালোচনা করতে পারবেন, পাশাপাশি সরকার ও জনগণের মধ্যে আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে।

প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক সফরের প্রসঙ্গ টেনে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সফরকৃত উভয় দেশই বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত বন্ধু।

তবে তিনি দেশের বিদ্যমান বাণিজ্য ঘাটতির বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশ এখনও আমদানিনির্ভর অর্থনীতির দেশ। রপ্তানির তুলনায় আমদানির পরিমাণ অনেক বেশি হওয়ায় অর্থনীতিতে ভারসাম্য রক্ষা করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে দেশের রপ্তানি মূলত তৈরি পোশাক শিল্প ও জনশক্তি খাতের ওপর নির্ভরশীল। এই নির্ভরতা কমিয়ে নতুন নতুন খাতে রপ্তানি সম্প্রসারণের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। এজন্য স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বিদেশ সফরে এসব অর্থনৈতিক বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনায় তা প্রতিফলিত হয়েছে।

পররাষ্ট্রনীতির বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক হবে পারস্পরিক সম্মান, সমতা এবং জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে। স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতিতে কোনো ধরনের বাহ্যিক হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের জন্য যেকোনো আন্তর্জাতিক চুক্তি হতে হবে উভয় পক্ষের স্বার্থ বিবেচনায়। বাংলাদেশ যেমন অন্য কোনো দেশের ক্ষতি করতে চায় না, তেমনি নিজেদের স্বার্থও যেন ক্ষুণ্ন না হয়, সেদিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। ভবিষ্যতের পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনায় এই ভারসাম্য বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।

রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, সরকারি দল সব কৃতিত্ব নেবে আর বিরোধী দল কেবল বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা করবে— এমন রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। তার মতে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার পরিবেশ গড়ে উঠলে রাষ্ট্র পরিচালনা আরও কার্যকর হবে।

তিনি আরও বলেন, সরকার যেমন বিরোধী দলের মতামতকে সম্মান করবে, তেমনি বিরোধী দলেরও দায়িত্ব থাকবে দেশের উন্নয়ন ও রাষ্ট্রগঠনের কাজে ইতিবাচক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা। এভাবেই গণতান্ত্রিক চর্চা শক্তিশালী হবে এবং জাতীয় স্বার্থে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হবে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ