খুলনা | রবিবার | ২৮ জুন ২০২৬ | ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩

আমার ছেলেকে ছুরি মেরেছিল, আমাকেও হত্যা করতে চেয়েছিল: সাইফ আলী খান

খবর বিনোদন |
০৪:৪৪ পি.এম | ২৭ জুন ২০২৬


বলিউড অভিনেতা সাইফ আলী খান অবশেষে মুখ খুললেন সেই ভয়াবহ রাতটি নিয়ে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় নিজ বাসভবনে ছুরিকাঘাতের শিকার হওয়ার সেই ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি জানান, হামলাকারী শুধু তার ওপরই নয়, ছোট ছেলে জেহ আলী খানকেও আঘাত করেছিল। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সাইফ জানান, ছোট ছেলে জাহাঙ্গীর যাকে তারা সংক্ষেপে জেহ বলেন। আর সেদিন গভীর রাতে জেহর দেখাশোনা করা আয়া ছুটে এসে জানান, জাহাঙ্গীরের ঘরে একজন অজ্ঞাত ব্যক্তি ছুরি হাতে দাঁড়িয়ে আছে এবং টাকা দাবি করছে।

সাইফ বলেন, আমি দৌড়ে জেহর ঘরে যাই। দেখি লোকটি শিশুটিকে ধরে রেখেছে। আমার ছেলেকে ছুরি মেরেছিল আর জেহের সামান্য কেটেছিল। আমাদের গৃহকর্মীকেও আঘাত করেছিল। এখন মনে হয়, যদি ঘরের আলো জ্বালিয়ে শান্তভাবে তার সঙ্গে কথা বলতাম, তাহলে হয়তো পরিস্থিতি অন্যরকম হতে পারত। কিন্তু তখন কিছু একটা আমাকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছিল আর আমি  তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ি। এরপর আমাদের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। সে উন্মত্তের মতো ছুরি চালাতে থাকে। চারদিকে শুধু রক্ত আর রক্ত। ঠিক তখনই আমাদের আরেক গৃহকর্মী এসে তাকে জোরে ধাক্কা দিয়ে দূরে সরিয়ে দেয়।

ঘটনার সময় সাইফ ছয়বার ছুরিকাঘাতে আহত হন। একটি আঘাত তার মেরুদণ্ডের খুব কাছ দিয়ে যায়। সেই মুহূর্তের কথা স্মরণ করে অভিনেতা বলেন, সাদা কুর্তা-পায়জামা পরে ছিলাম, পুরো পোশাক রক্তে ভিজে গিয়েছিল। একসময় মেঝেতে পড়ে ছিলাম। তখন সত্যিই মনে হয়েছিল, হয়তো আমি আর বাঁচব না।

তিনি জানান, হাসপাতালে যাওয়ার সময় বড় ছেলে তৈমুরকে সঙ্গে নিতে চেয়েছিলেন। তৈমুর আমাকে জিজ্ঞেস করেছিল, তুমি কি মারা যাবে? আমি তাকে বলেছিলাম, না। তারপর আমরা একসঙ্গে হাসপাতালে যাই।

হামলাকারীকে ক্ষমা করতে পারবেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে সাইফ বলেন, আমি তাকে ক্ষমা করতে চেয়েছিলাম। আমার মনে হয়, সে জীবনে বড় একটি ভুল করেছে। সম্ভবত সে মারামারি করতে আসেনি। তাকে ক্ষমা করতে আমার আপত্তি নেই। কিন্তু যে মুহূর্তে সে আমাকে হত্যা করার চেষ্টা করেছিল, সেই অংশটা এখনো ভুলতে পারিনি। সমাজে বৈষম্য ধনী-গরিবের ব্যবধান এ ধরনের ঘটনার অন্যতম কারণ বলেও আমি মনে করি।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১৬ জানুয়ারি সাইফ আলী খানের বাসায় চুরির উদ্দেশ্যে ঢুকে এই হামলা চালানো হয়। ঘটনার তিন দিন পর ভারতের থানে এলাকা থেকে অভিযুক্ত ৩০ বছর বয়সী বাংলাদেশি নাগরিক মোহাম্মদ শরিফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে মুম্বাই পুলিশ।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ